এরশাদের সঙ্গে হাসিনার বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা

জানুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং মধ্য জানুয়ারিতে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হবেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে অন্য কিছু হতে পারে। এটা সস্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেবে। যদি তারা নির্বাচনে না আসে, তাহলে জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হবে। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে।
সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকবে কি থাকবে না, তা নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। কারণ, বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে।
এ সময় আশরাফের পাশে ছিলেন জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, আমরা মহাজোটে থেকেই অথবা মহাজোটের বাইরে থেকে একা নির্বাচন করব। তবে পরিস্থিতি বলে দেবে আমরা একা নির্বাচন করব কি না। আজকের প্রেক্ষাপটে আমরা একা নির্বাচন করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।’
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে যে একটি সংকট চলছে, তা আলোচনার মাধ্যমে দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে বিষয় নিয়ে গত রাতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সময়ের মন্ত্রিসভা কীভাবে গঠিত হবে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গণভবনে বৈঠক শুরু হয়ে তা রাত নয়টা পর্যন্ত চলে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আশরাফ, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, এইচ টি ইমাম, ফারুক খান, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।
এইচ এম এরশাদের নেত্বত্বে কাজী জাফর আহমদ, জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশীদসহ জাপার ১৫ জন সদস্য বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তাঁরা নৈশভোজে অংশ নেন।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গণভবনে যাওয়ার পর এরশাদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট একান্তে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বৈঠকস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই কাজী জাফর আহমদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গতবার (নবম সংসদ নির্বাচনে) আপনি অসুস্থ ছিলেন, আপনার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এবার আপনাকে মূল্যায়ন করা হবে।’ এ সময় কাজী জাফর কিছু বলেননি।
এরপর কাজী ফিরোজ রশীদকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী ফিরোজ ভাই, আপনি তো আমার দেশের লোক, গোপালগঞ্জের মানুষ। লুকিয়ে লুকিয়ে থাকেন কেন?’
জাপার সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, মূলত এটি ছিল দুই দলের নেতাদের মধ্যে একটি সম্প্রীতিমূলক বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী বেশ হাসিখুশিভাবে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাতে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়েও কথাবার্তা হয়।
ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক দল জাপাকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পাশে পাওয়া নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালে সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে বিষয়ে জাপার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করায় এরশাদ বিরক্ত হন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। এসব কারণে দূরত্ব কমাতে প্রধানমন্ত্রী গত রাতের এ বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করেন বলে জানা গেছে।