অবৈধভাবে যারা যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

pm
যারা মানবপাচারে জড়িত, তাদের পাশাপাশি যারা সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে অভিবাসনের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এভাবে অবৈধভাবে যাবে, যারা দালাল তাদের যেমন শাস্তি হতে হবে, যারা যাবে তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, তারা তো আমাদের দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।”

সম্প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাগরপথে মানবপাচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য এল।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাচারকারীদের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতায় দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্ভাগ্য হলো, এতো সুযোগ সুবিধা করে দেওয়ার পরও মানুষ দালালের হাতে টাকা দিয়ে একবারে একটা অনিশ্চিত জায়গায় যাচ্ছে।”

“কেন যে এভাবে যাচ্ছে….,” স্বগতোক্তি প্রধানমন্ত্রীর।

তিনি বলেন, “সবাই যে অভাবের তাড়নায় যাচ্ছে তা নয়। মনে হচ্ছে, তারা একটা সোনার হরিণের পেছনে ছুটছে। বাইরে গেলেই মনে হয় অনেক টাকা।”

গতমাসের শেষে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে পাচারকারীদের একটি পরিত্যক্ত আস্তানায় গণকবর পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাগর পথে মানবপাচারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়।

এরপর মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড উপকূলে সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাচারকারীদের কয়েকটি নৌকা থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যারা বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য।

মিয়ানমারে সরকারের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা গত কয়েক বছর ধরেই সমুদ্রপথে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেশি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ থেকেও কাঠের নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।

অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা ‘সংক্রামক’ আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “মানসিক অসুস্থতার মতো হয়ে যাচ্ছে মানুষের। বাইরে যেতে হবে, গেলেই যেনো অনেক টাকা পাবে।

“এতে জীবনটা যাচ্ছে, অথবা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে”

অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য অর্থ না ব্যয় করে তা দিয়ে দেশেই কিছু করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “দালালের হাতে যে টাকা দিচ্ছে, সে টাকা দিয়ে যদি নিজেরা কিছু করে- তাহলে অনেক ভালভাবে থাকতে পারবে।”

অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার বিপজ্জনক দিকটি তুলে ধরে এই প্রবণতা বন্ধের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

“এটা অনেক দুর্ভাগ্যজনক। আমি মনে করি, প্রচার চালানো দরকার। দালালদের টাকা দিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ এরা ধোঁকার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাগরে ভেসে চলে যাওয়ার চেষ্টা..। তাদের তো ধারণাই নাই যে, কোথায় যাবে। বনে জঙ্গলে এখন লাশ পাওয়া যাচ্ছে।”

অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার পথ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “এরা নিজের জীবনটা বিপদে ফেলছে। তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। তাহলে, হয়তো এগুলো থামবে।”

সার্বিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মুখে বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাগর থেকে উদ্ধার করে সাময়িক আশ্রয় দিতে ও নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে  মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় সেখানে আটক বাংলাদেশির ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।