অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ মানবজাতি এবং একমাত্র বসবাসের স্থান পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) আয়োজিত পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসসেরপ্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়নের প্রয়াসকে আত্মঘাতী মনোভাব বলে অভিহিত করে জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রগুলোকে এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী করার লক্ষ্যে শাণিত করা হচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যায় মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই মানবজাতি এবং একমাত্র বসবাসের স্থান পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের অবস্থান নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এসব মারাত্মক অস্ত্রের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ বাংলাদেশের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পারমাণবিক অস্ত্র সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কি এক মুহূর্তের জন্যও এমন একটি বিশ্বের চিন্তা করতে পারি না, যা আমরা আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য রেখে যেতে চাই? আমরা যদি তা করি, তাহলে একটি সর্বজনীন ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া হবে একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার জন্য কাজ করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি ধ্বংসের আতঙ্কে তাড়িত একটি বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাব, নাকি আমাদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনের
মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নত একটি বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের একমাত্র স্থায়ী বহুপক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিসংক্রান্ত আলোচনাকারী সংস্থা ‘কনফারেন্স অন ডিসআর্মামেন্ট (সিডি)’ কয়েক দশক ধরেই অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, এ সংস্থা এখন পারমাণবিক অস্ত্রের উপকরণ উৎপাদন ও মজুত নিষিদ্ধ করে একটি বৈষম্যহীন এবং আন্তর্জাতিক ও কার্যকরভাবে যাচাইযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ সংস্থা (সিডি) পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত দেশের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বা ব্যবহার করার হুমকি মোকাবিলায় আশ্বাস প্রদানের লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক আইনকাঠামো গড়ে তোলার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পারে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আরেকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা।