আবার আগুন, আবার প্রাণহানি

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনার বছর না পেরোতেই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেরাইদেরচালা এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে অঙ্গার হলেন আরও নয়জন।
গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পলমল গ্রুপের আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস লিমিটেড নামের ওই কারখানায় ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ওই কম্পোজিট মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক রাশেদুজ্জামান (৩০) এবং নিটিং সেকশনের খলিল (২৫), রুবেল (২৪), নাঈম (২৫) ও রাজু (৩০)।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস কারখানার নিটিং সেকশনের দোতলায় থাকা একটি স্ট্যান্ডার্ড মেশিন অতিরিক্ত গরমে বিস্ফোরিত হয়ে পাশে থাকা মালামালে আগুন ধরে যায়। আগুনে বিপুল পরিমাণ সুতা, ফেব্রিকস ও উৎপাদিত পণ্য পুড়ে যায়। এ সময় শ্রমিকেরা তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে অনেকে আটকা পড়েন।
সূত্র জানায়, কারখানা ভবনের পাশেই একটি তিনতলা টিনশেড ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গাজীপুর, টঙ্গী, সাভার ইপিজেড, কালিয়াকৈর ও ময়মনসিংহের ভালুকার ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।
তবে রাত সোয়া একটার দিকে কারখানার পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ আগুন বাড়তে থাকে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা লাশের দাবিতে কারখানার বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন রাত একটার দিকে জানান, কারখানার ভেতরে নয়জনের লাশ দেখা গেছে। এর মধ্যে দুটি লাশ বের করে আনা হয়েছে। লাশ দুটি হলো রংপুরের মিঠাপুকুরের রাশেদুজ্জামান ও তাঁর ভাগনে নাঈম। রাত দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারখানায় আগুন জ্বলছিল।
পলমল গ্রুপের পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের আপাতত ৩০ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহনাওয়াজ দিলরুবা খানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। গত এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এসব ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রম পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সে দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বিশেষ সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে।