আবুলে বিলম্বিত প্রকল্পগুলোর ভিত্তি স্থাপনে তোড়জোড়

মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে যোগাযোগ খাতের বেশ কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অক্টোবর বর্তমান সরকারের শেষ মাস। এ মাসেই প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও সেতু বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের রেলপথ বিভাগে জোর প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের যোগাযোগমন্ত্রী যথাসময়ে যথাপদক্ষেপ নিলে এসব প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে যেত।
রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সেতু বিভাগের একটি, রেলপথ বিভাগের একটি আর সড়ক বিভাগের চারটি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার করা একটি রেলপথে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অক্টোবরে প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন-উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৃথকভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে দুই মন্ত্রণালয় থেকেই।
জানা গেছে, সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু প্রকল্প ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আরো কয়েকটি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে রেলের দ্বিতীয় ভৈরব-দ্বিতীয় তিতাস সেতু, সড়ক বিভাগের নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা চার লেন, রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া মেট্রো রেল আর দ্রুত বাস চলাচলের জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্প। আরো রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী সেতু নির্মাণ ও বিদ্যমান তিন সেতুর পুনর্বাসন প্রকল্প।
এসবের মধ্যে নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা চার লেন প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে, এখন শুধু বিটুমিনের কিছু কাজ বাকি। তারপর এ মহাসড়কের ১৬ কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সড়ক বিভাগ এ মাসেই এটি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় এ মাসে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। এ জন্য সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেলের উন্নয়নে অনেক প্রকল্পের কাজ হয়েছে এ সরকারের সময়ে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো আমি যথাসাধ্য কাজ করেছি। অক্টোবরে দ্বিতীয় ভৈরব-দ্বিতীয় তিতাস সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করাতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। অক্টোবরের মাঝামাঝি কিংবা প্রধানমন্ত্রী যে সময়সূচি দেবেন সে অনুযায়ী এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হবে। এ জন্যও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময়সূচি চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর ও ট্রেন চালুর বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তিন-চার দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
সড়ক বিভাগের চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়ে সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেট্রো রেল, বিআরটি ও তিন সেতু নির্মাণ-পুনর্বাসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর আমরা অক্টোবর মাসেই করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওখানে এখন বিটুমিনের কাজ করতে হবে। এ জন্য বৃষ্টিহীন ছয়-সাত দিন লাগবে। এ সময় পাওয়া সাপেক্ষে অক্টোবরেই এটি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আমরা উদ্বোধন করাতে চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময়সূচি চেয়ে একটি প্রস্তাব আমরা তৈরি করে রেখেছি।’
বর্তমানে সড়ক ও রেলের যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ অনুমোদন করা হয়েছে সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী থাকা অবস্থায়। তবে অভিযোগ আছে, চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে তিনি বড় বড় প্রকল্পের অনুমোদন আটকে রাখতেন ‘প্রক্রিয়ার ফাঁদে’। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ কারণে সরকারকে বারবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, আবুল হোসেনের সময়েই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মহাসড়কের বেহালের কারণে ২০১১ সালে ঈদুল আজহায় বাড়িমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে আওয়ামী লীগ একদিকে ভোটারদের মন জয় করতে চাইবে, অন্যদিকে আবুলের ব্যর্থতা ঢাকার একটা চেষ্টাও থাকবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাজ এগোয়নি, হঠাৎ করে এমন সব প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন অবশ্যই রাজনৈতিক। বিষয়টি আর ব্যাখ্যা করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামছুল হক বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। মানুষ সুফল পায়নি। মেট্রো রেল প্রকল্পটি জনগুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই এটি বাস্তবায়নে যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন ছিল, তা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। বারবার অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণে বাধা এসেছে। অনেকের স্বার্থ দেখতে গিয়ে জনস্বার্থ আর দেখা হয়নি। এ কারণে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হতে ২০১৯ সাল লেগে যাবে। কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা এসটিপিতে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনটি মেট্রো রেল রুট নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। এখন একটি রুট করতেই ২০২০ সাল পার হয়ে যাবে। বলা হয়েছিল তিনটি বিআরটি রুট করা হবে। এখনো একটি বিআরটি আমরা করতে পারিনি। সুফল না পেলে শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে লাভ হবে না।’
পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর আমাদের দেশে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এখানে রাজনীতি ঢুকেছে। কিন্তু কানাডায় এ তদন্ত হয়েছে সরল পথে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে হয়তো বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করত। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়েছে।’
ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন যেসব প্রকল্পের : পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা সংযোগ সড়ক এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে এখন সেতু বিভাগে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রকল্প কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আলোচিত এ প্রকল্পের মূল সেতু ও নদীশাসনের কাজ কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
রেল সেতুর কাজ শুরু হয়নি : ভারত সরকারের ঋণের আওতায় নেওয়া রেলের ১২ প্রকল্পের একটি দ্বিতীয় ভৈরব-দ্বিতীয় তিতাস রেল সেতু প্রকল্প। আবুল হোসেনের সময়ে প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত হয়। কিন্তু এরপর এ নিয়ে আর তৎপরতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের একটি অংশ দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতু নির্মাণের জন্য ভারতের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ভৈরব রেল সেতুর জন্য ব্যয় হবে ৭৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। রেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বা সিলেট যাওয়ার পথে দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতু পার হতে হবে। এর দৈর্ঘ্য ৯৮২.২ মিটার। বিদ্যমান ভৈরব রেল সেতুর ৪০ মিটার ভাটিতে এটি নির্মাণ করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। এ জন্য একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে তাঁর কার্যালয়ে।
বিস্তারিত নকশা হয়নি মেট্রো রেলের : রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্য সরকারের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় তিনটি রুটে মেট্রো রেল চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। আবুল হোসেনের সময়ে এ প্রকল্প প্রথম দিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। চীন সরকারের অর্থায়নের আশায় প্রকল্পে প্রথম দিকে সময় নষ্ট করা হয়। আবুল হোসেনের পদত্যাগের পর প্রকল্পে গতি আসে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেয়। প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা দিচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। রাজধানীর উত্তরা থেকে পল্লবী-রোকেয়া সরণি-খামারবাড়ী-ফার্মগেট-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ মেট্রো রেলপথ। বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজ তদারকিতে পরামর্শক নিয়োগের জন্য জাইকা কিছুদিন আগে সম্মতি দিয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, আবুল হোসেনের প্রায় দুই বছরে প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হয়নি। সব কিছু ঠিক থাকলে এ প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু করা সম্ভব হতো।
অনিশ্চিত বিআরটি : গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় দ্রুত বাস চলাচলের জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি চালু করা হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এখনো নকশা প্রণয়ন শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আবুল হোসেনের সময়ে প্রকল্পটি ফাইলবন্দি ছিল।
তিন সেতু নির্মাণ অনেক দূর : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছেই। দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চার লেন হলেও ভবিষ্যতে এ রুটে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পারবে না বিদ্যমান কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু। এ কারণে এগুলোর সমান্তরালে আরো তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য আবুল হোসেনের সময় প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়। কিন্তু চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে- এ আশায় প্রকল্প প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা হয়। আবুল হোসেন চলে যাওয়ার পর প্রকল্পে গতি আসে। প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জাইকা দেবে ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত মার্চে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। তবে কাজ কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত।
শুধু একটি প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান : নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা চার লেন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করানোর প্রস্তুতি চলছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে পাঁচটি বঙ্ কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে দুটি আরসিসি সেতু ও দুটি পায়ে চলার সেতু। ১৬ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার কাজ প্রায় শেষ। এ মাসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সরকারের প্রথম দুই বছর সড়ক বিভাগের পাশাপাশি রেলও দেখভাল করেন তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে বিশ্বব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সরিয়ে দেওয়া হয়। সড়ক, রেল ও সেতু- এই তিন বিভাগের বড় বড় প্রকল্প গ্রহণেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি। তাঁর সময়ে রেলের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ৩৫টি। ট্রেনের সময়সূচি রক্ষা, জনবল সংকট দূর করা, বেদখল রেলের জমি উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁর প্রচেষ্টা ছিল যৎসামান্য। ভেতরে ভেতরে আবুল খুঁজতেন পছন্দের সব প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পথ। এ কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ বহু প্রকল্প আটকে রাখতেন তিনি।
আবুল হোসেনের বয়ান : যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় মেট্রো রেলের অগ্রগতি হয়নি- এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি থাকলে এত দিনে মেট্রো রেলের কাজ শুরু হয়ে যেত। আমার দুই বছরে রেলে যত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে আর কারো সময়ে তা হয়নি।’ বড় বড় প্রকল্প তো আপনার সময়েই আটকে গিয়েছে, এমনকি দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্প আটকে গেছে- এ মন্তব্যের পর আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি কাজ করেছি। কিন্তু কোনো দুর্নীতি করিনি।’