মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ

আরেকজনের মৃত্যু, ইজাহার পুত্র রিমান্ডে

চট্টগ্রামে লালখান বাজারের জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও অধ্যক্ষ মুফতি ইজাহারুল ইসলামকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তাঁর ছেলে হারুন বিন ইজাহারকে এক সহযোগীসহ গতকাল বুধবার ভোরে হাটহাজারীর ইছাপুরে শ্বশুর-বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সোমবার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বিস্ফোরণের পর নেজামে ইসলাম পার্টির (একাংশের) সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহার ও তাঁর ছেলে হারুন আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় পুলিশের করা দুটি মামলায় (বিস্ফোরক দ্রব্য ও অ্যাসিড আইনের করা মামলা) পিতা-পুত্র আসামি। পুলিশ বলছে, মুফতি ইজাহারকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হারুন ইজাহারকে গতকালই চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুটি মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন করে দুটি মামলায় হারুনের মোট ১০ দিন এবং তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া মো. জুনায়েদের (৩০) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ ছাড়া গত রোববার গ্রেপ্তার হওয়া ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারী মো. ইছহাক, মনির হোসেন, তফসির আহমেদ, আবদুল মান্নান ও হাবিবুর রহমানকে বিস্ফোরক মামলায় তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এঁদেরকে গত রাতেই পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

আরেকজনের মৃত্যু: লালখানবাজার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরেকজন গতকাল ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। তাঁর নাম জোবায়ের আহমেদ। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবলে। তিনি মাদ্রাসার নবাগত ছাত্র। মাত্র আট দিন আগে এ মাদ্রাসায় এসেছিলেন বলে তিনি মৃত্যুর আগে হাসপাতালে প্রথম আলোকে বলেছিলেন।

এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো। এর আগে সোমবার গভীর রাতে আহত হাবিবুর রহমান একই হাসপাতালে মারা যান। গতকাল পর্যন্ত তাঁর মরদেহ নিতে কেউ আসেননি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বজনেরা কেউ না এলে হাবিবুরের মরদেহ দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামকে দেওয়া হবে।

আহত বাকি দুজনের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপরজন ঢাকায় পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন।

হত্যা মামলা: পুলিশ বলছে, গত রোববার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বোমা বানানোর সময় ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে দুজন মারা যাওয়ায় গতকাল পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। এতে মুফতি ইজাহার ও তাঁর ছেলে হারুন ইজাহারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামির মধ্যে রয়েছেন হারুনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জুনায়েদ, লালখান বাজার মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর মো. ইকবাল (পলাতক) এবং এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. ইছহাক, হাবিবুর রহমান ও বিস্ফোরণে আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন নুরুন্নবী।