সিরিজের শেষ ওয়ানডে আজ

আরেকটি বাংলাওয়াশ?

শফিউল ইসলাম গেলেন। সাকিব আল হাসান গেলেন। এবার যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। চোটাঘাতের তালিকায় সর্বশেষ নাম ওঠানো তামিমকে সম্ভবত আজ বিশ্রামেই থাকতে হচ্ছে। কাল রাতের খবর অনুযায়ী, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তাঁর জায়গায় খেলার কথা পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানের। দলে সম্ভাব্য পরিবর্তন এই একটাই।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে সিরিজ জিতে যাওয়ায় ফতুল্লা স্টেডিয়ামের আজকের ম্যাচটা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। নিউজিল্যান্ড এ ম্যাচে জিতলে শুধু সিরিজ হারের ব্যবধানই কমাতে পারবে। আর বাংলাদেশ জিতলে পাবে আরেকটি বাংলা-ওয়াশের আনন্দ। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচে শুধু একটি ফলই আসবে। এমন এক ম্যাচের প্রিভিউতে সম্ভাব্য জয়-পরাজয় নিয়ে গবেষণার চাইতে অন্যান্য বিষয় মুখ্য হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক।

যেমন মুখ্য হয়ে উঠল তামিমের না খেলার সম্ভাবনাটি। প্রথম ওয়ানডের আগে থেকেই নাকি তলপেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করছেন তামিম। ব্যথা নিয়েই প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলার পর পরশু করানো হলো এমআরই। তাতে কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও তামিম যেহেতু বলছেন ব্যথা, নিশ্চয়ই ব্যথা আছে। সে জন্য আজ তাঁকে বিশ্রামে রাখার পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। তাঁর জায়গায় সিরিজে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন জিয়া। শেষ ওয়ানডের আগে অবশ্য বাংলাদেশ দলে বিয়োগের ঘটনা এই একটিই নয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাল ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট ও জাতীয় দলের সাবেক উইকেটকিপার নাসির আহমেদও।

সিরিজ প্রায় শেষের দিকে। খেলোয়াড়দের টুকটাক সমস্যা এখন হতেই পারে। তবে তামিমেরটি ছাড়া বাকিগুলোকে তেমন পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না। সতর্কতা হিসেবে শুধু কাল অনুশীলনটা হলো একটু হালকা মেজাজে। অনেকে মাঠে এসেও ব্যাট-বল নিয়ে নামেননি। হালকা গা গরমের পর সময় কাটিয়েছেন ফিজিও-ট্রেনারের সঙ্গে।

এটা শুনে যদি কেউ ভেবে থাকেন, সিরিজ জিতে আয়েশে গা ভাসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেটা হবে ভুল। কাল দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘রিল্যাক্সড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারও ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। সে হয়তো ট্রেনারের সঙ্গে আলাদা ট্রেনিং করেছে। কেউ ফিজিওর সঙ্গে রিহ্যাব করেছে। আমরা এখনো বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কোনো পেশাদার দল হয়ে যাইনি যে, সিরিজ জিতে গেছি বলে রিল্যাক্স করব। এর কোনো সুযোগ নেই।’ মাশরাফি বরং শেষ ম্যাচেও উন্নতির জায়গা দেখছেন, ‘উন্নতি করার এখনো অনেক জায়গা আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। কালকের (আজ) ম্যাচে চেষ্টা করব পারফরম্যান্সটা যেন আগের চেয়েও ভালো হয়।’

মাশরাফির দৃষ্টিতে প্রথম দুই ওয়ানডেতে ফিল্ডিং ও বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিংয়ে সামর্থ্যের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে সঙ্গে এ-ও বললেন, আগের দুই ম্যাচে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল খেলোয়াড়দের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন, ‘সম্মিলিত পারফরম্যান্স আমরা এখনো করতে পারিনি। তবে আমরা ফোকাসড ছিলাম। একটা অংশ ভালো না হলেও আরেকটা অংশ ভালো করার চেষ্টা করেছি। কাজেই মানসিক পরিবর্তন একটা এসেছে। এটা পুরো দলের পরিবর্তনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

সেই মানসিক পরিবর্তন আজ ফতুল্লায় গিয়ে কতটা থাকে, সেটাই দেখার বিষয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের সুবাদে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে মাঝেমধ্যেই খেলতে হয় ক্রিকেটারদের। তবে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ এ মাঠে হয়েছে সেই ২০০৬ সালে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কথা বিবেচনা করলে এ মাঠ তাই আজ নিউজিল্যান্ডের মতোই নতুন ঠেকতে পারে মুশফিকুর রহিমের দলের কাছে। অন্তত একটা বেলা অনুশীলন করলেও কিছুটা চেনা হতো মাঠটা। দুই দলের কেউ যে করেনি সেটাও!

মাঠ নিয়ে শঙ্কা আছে আরও। চলতি প্রিমিয়ার লিগে বেশ কয়েকটি কম রানের ম্যাচ হয়েছে এ মাঠে। কাল অবশ্য প্রসঙ্গটা তুলতেই মাশরাফি টানলেন আগের দুই ম্যাচের উদাহরণ, ‘উইকেট নিয়ে ভেবে লাভ নেই। সিরিজ শুরুর আগে সবাই ধারণা করছিলাম পরে ব্যাট করলেই ভালো। কিন্তু আমরা দুটি ম্যাচই আগে ব্যাট করেছি এবং জিতেছি। যদি ভালো খেলি উইকেট কোনো ব্যাপার হবে না। তবে হ্যাঁ, উইকেট যদি টার্নিং হয়, আমরা সুবিধাটা বেশি পাব।’

সেটা সত্যি সত্যি পেলে সাত বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরে পাওয়া ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামও হয়ে যেতে পারে আরেকটি বাংলাওয়াশের সাক্ষী।