আ. লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কখনোই হারবে না : জয়

‘বিএনপি আমলে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলা হতো। আর এখন বাংলাদেশকে বলা হয় রাইজিং স্টার। এ দেশে গত সাড়ে চার বছরে মানুষের আয় বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। দেশের মানুষ ভালো আছে। বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু এ দেশকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। দেশের মাথা নিচু হতে দিতে পারি না। তাই দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকলে কখনোই হারবে না।’ গতকাল রবিবার ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল কর্মিসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভোটের আগে তাদের চাঙ্গা করতেই বৃহত্তর ময়মনসিংহে দুই দিনের সফরে বেরিয়ে গতকাল একাধিক পথসভা ও কর্মিসভায় বক্তব্য দেন জয়। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী ও চান্দনার পথসভায় আবার ক্ষমতায় এলে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোসহ গাজীপুরে পোশাক কারখানার পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের কারখানা স্থাপনেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গতকাল সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিশেষ নিরাপত্তায় গণভবন থেকে রওনা হন জয়। রাজধানীর উত্তরা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর হাজার হাজার নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় জনতা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে পথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেয়। ‘জয় ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’- সারা পথেই ছিল এই অভিন্ন স্লোগান। অনেক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে ভেতর থেকেই হ্যান্ডমাইকে শুভেচ্ছার জবাব দেন জয়।
ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে টঙ্গী, গাজীপুর, ভালুকা, মুক্তাগাছাসহ একাধিক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। জয়ের ময়মনসিংহ আগমন উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয় অসংখ্য তোরণ। পথের দুই পাশে দেখা যায় বর্ণিল ব্যানার-পোস্টার।
ময়মনসিংহে ঢোকার আগে বিভিন্ন পথসভায় তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপি পরপর কয়েকবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল। আমরা ৪০তম স্থানে নিয়ে গেছি। গত নির্বাচনে আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন উন্নয়নের জন্য। আওয়ামী লীগ সাড়ে চার বছরে দেশে অনেক উন্নয়ন করেছে। আমরা বলেছিলাম, বিদ্যুৎ দেব, দিয়েছি। রাস্তা ও স্কুল করব, করেছি। ছাত্রছাত্রীদের হাতে বছরের প্রথম দিন বই তুলে দিয়েছি। ওয়াদা করেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, গড়েছি। আগামী দিনে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব। সরকারি অফিসের কাজ এখন ঘরে বসেই করা যায়, সেবা পাওয়া যায়। পরীক্ষার ফল মোবাইলে পাওয়া যায়। আগে বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে অপেক্ষা করতে হতো। এখন দ্রুত টাকা পাঠানো যায়। এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশ।’
ময়মনসিংহের সার্কিট হাউসসংলগ্ন জিমনেসিয়ামে কর্মিসভায় জয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আপনাদের মাঠে-ময়দানে কাজ করতে হবে। গত সাড়ে চার বছরে দেশে অনেক উন্নয়ন করেছে আমাদের সরকার। সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষকে জানাতে হবে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য মানুষকে বোঝাতে হবে। আর আওয়ামী লীগ পরিবারকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকলে কখনোই হারবে না।’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমরা একটা পরিবার। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। স্বাধীনতার পর আমরা বিপ্লব শুরু করেছিলাম। কিন্তু ‘৭৫-এর পর সে বিপ্লব আর এগোতে পারেনি। বর্তমান সরকার সেই অসমাপ্ত বিপ্লব শেষ করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আজ আমরা অনেকটা এগিয়েছি। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য আগামীতে আবার এ সরকারের ক্ষমতায় আসা দরকার।’
ময়মনসিংহের কর্মিসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সদর আসনের এমপি আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার। এ সময় জেলার বিভিন্ন আসনের এমপি এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির ভাষণে জয়কে আগামীতে ময়মনসিংহের একটি জনসভায় আসার আহ্বান জানান অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। ময়মনসিংহের কর্মিসভায় বিপুলসংখ্যক কর্মীর উপস্থিতি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে জয় তাঁর সে প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
টঙ্গীর পথসভা : টঙ্গীর টেলিফোন শিল্প সংস্থা কলোনি মাঠে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে উপস্থিত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে আয়োজিত পথসভায় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও বাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারি ঋণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বর্তমান সরকার পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়েছে উল্লেখ করে ক্ষমতায় এলে ভবিষ্যতে তা আরো বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ক্ষমতায় এলে টঙ্গীতে পোশাক কারখানার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের কারখানা তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জয় বলেন, ‘এসব বাড়ি কেনার জন্য সরকার ঋণ দেবে।’
টঙ্গীর পথসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্লা খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
চান্দনার পথসভা : গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা স্কুল মাঠে ১১টা ৫০ মিনিটে উপস্থিত হন জয়। তাঁকে দেখতে এবং পথসভায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঢোলবাদ্য নিয়ে নেতা-কর্মী ও উৎসুক জনতা জড়ো হয়। সভাগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
এই পথসভায় জয় বলেন, ‘ওয়াদা করছি আগামীতে ক্ষমতায় এলে আপনাদের আয় দ্বিগুণ করব। এ এলাকায় ইলেকট্রনিক সামগ্রীর কারখানা স্থাপন করব। আমরা তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এসব কাজ করতে আপনারা আবারও নৌকায় ভোট দিন।’
গাজীপুরে সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হোসেন সবুজ, আমানত হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মুক্তাগাছার পথসভা : ময়মনসিংহ ঢোকার আগে মুক্তাগাছা পৌর শহরের আর কে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় বক্তব্য দেন জয়। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। দেখতে হবে দেশ কোথায় যাচ্ছে।’ এ সময় ভিশন-২০২১ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি আবারও নৌকায় ভোট চান।
ভালুকায় ব্যাপক অভ্যর্থনা : গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করেন জয়। এ সময় প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে হাজার হাজার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ব্যাপক অভ্যর্থনা জানায়। গাড়ির ভেতর দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাদের অভ্যর্থনার জবাব দেন জয়।
আজ টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন : ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে অবস্থানের পর আজ টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সেখানে মধুপুর রানী ভবানী স্কুল মাঠে এক জনসভা এবং টাঙ্গাইল ভাসানী হলে এক সভায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে মির্জাপুর আবদুল গণি স্কুল মাঠ ও চন্দ্রায় দুটি পথসভায় অংশে নিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।