উগ্রপন্থীদের আবির্ভাব হলে দায় সরকারের: মওদুদ

mou

বিএনপিকে রাজনীতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, সব গণতান্ত্রিক শক্তির ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় উগ্রপন্থীদের আবির্ভাব হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ এই মন্তব্য করেন। দলের প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন আহমদ পিন্টুর স্মরণ ও শবে মেরাজ উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি।
মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণাতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, এটি জনগণ বা সরকার কারো জন্যই ভালো নয়। সব দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার থাকতে হবে।
কারাগারে পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, পিন্টুর মৃত্যু নিয়ে যে সব প্রশ্ন মানুষের মনে এসেছে, সেসব সন্দেহ দূর করতে সরকারের নিজেদের স্বার্থেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে রহস্য পরিষ্কার করা উচিত। তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না—তদন্ত কমিটি তাও বের করবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব উন নবী খানও পিন্টুর মৃত্যু তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, যাঁরা এর কুশীলব, একদিন অবশ্যই তাঁদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
সালাহ উদ্দিনের তথ্য নেই:
ভারতের শিলংয়ে আটকাবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ সম্পর্কে তাঁর দলের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। দলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, সালাহ উদ্দিনের বিষয়ে তাঁদের কাছে ‘সর্বশেষ’ কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে তাঁরাও গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী শিলং গেলে হয়তো তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি জানান, শিলংয়ে থাকা দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফকে দল থেকে পাঠানো হয়নি। তিনি হয়তো নিজের কাজে ভারতে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে শিলংয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীরা যে সাগরে ভাসছে, তাতে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এত দিন কেন যাননি বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা কী করেছেন সে প্রশ্ন তুলে তিনি সরকারের কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, অভিবাসী সংকট সমাধানে সরকার চাইলে বিএনপি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে। যেসব এলাকার মানুষ সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যেতে চাইছে সেসব এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান তিনি।
সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্থায়ী টাস্কফোর্স কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে দেওয়া উচ্চ আদালতের রুলের বিষয় তুলে ধরে রিপন বলেন, টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি লাভ করতে পারে। কিন্তু দলবাজদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে এর বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং সংস্থাটি পুনর্গঠনেরও দাবি জানান রিপন।