উদারনীতি থেকে সরে আসছে যুক্তরাজ্য

usa

মানবাধিকার, অভিবাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উদারনীতি থেকে সরে আসার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্যামেরন সরকার। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সদ্য ক্ষমতায় ফেরা রক্ষণশীল সরকারের প্রথম বছরেই এসব বিষয়ে পরিবর্তিত নীতির প্রতিফলন ঘটবে। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা, না থাকা প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানে নতুন বিল আনছে সরকার।

বিরোধী পক্ষগুলো সরকারের এসব নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, সরকারের এমন রক্ষণশীল নীতি বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিশ্বে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

আজ বুধবার নতুন সরকারের পার্লামেন্টের উদ্বোধন উপলক্ষে রানির দেওয়া ভাষণে সরকারের অর্থনৈতিক ও আইনি মোট ২৬টি কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণই রানি সংসদ সদস্যদের সামনে পাঠ করেন।

অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি সন্ত্রাসীদের যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়ন সহজ করতে নতুন অভিবাসন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিদ্যমান মানবাধিকার আইন বিলুপ্ত করবে ক্যামেরন সরকার। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আদালতে দেওয়া রায় ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকায় অভিবাসন সংক্রান্ত অনেক সরকারি সিদ্ধান্ত আটকে যায়। এই বাধা দূর করতে সরকার নিজস্ব মানবাধিকার বিল প্রণয়ন করবে, যা ইউরোপিয়ান মানবাধিকারের আইনের প্রতি অনুগত হবে না।

অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের আয় জব্দ করার পাশাপাশি আইনি সুযোগ না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে নতুন অভিবাসন আইনে। ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে সরকার যে আইনের প্রস্তাব করেছে তাতে ব্রিটিশ মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন বক্তব্য বিবৃতিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। উগ্রবাদ ছড়ায় এমন স্থাপনাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। উগ্রবাদের আলামত আছে এমন সন্দেহে মসজিদগুলোও বন্ধ করে দিতে পারবে সরকার। এ লক্ষ্যে পুলিশ, বিচার ও যোগাযোগে আড়িপাতা সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে সরকার। শ্রমিক সংগঠনগুলোর আন্দোলন দমনেও নতুন বিল আনবে রক্ষণশীল সরকার। যাতে বলা হয়েছে, ৫০ শতাংশ সদস্য অনুমোদন না করলে আন্দোলনে যেতে পারবে না সংগঠনগুলো।

প্রস্তাবিত এই আইন নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকা নিয়ে ২০১৭ সালের মধ্যে গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ইইউভুক্ত দেশের অভিবাসীরা ওই গণভোটে ভোট দিতে পারবেন না।

সরকার বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারি কল্যাণ ব্যয়ের সংস্কার ও কৃচ্ছ্রসাধন অব্যাহত রাখবে। কর্মজীবী মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে। ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং সিরিয়া, ইরাকসহ বিশ্বে উগ্রবাদ দমনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।