উপজেলা চেয়ারম্যান নিহত

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন মৃধা ওরফে পাহাড়ি সেলিম (৪০) নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষে গতকাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সাংসদ ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্বোধন করেন। পরে দুপুরের খাওয়ার সময় গামারীতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক খান ‘ভিআইপি’ ব্যক্তিদের খাওয়ার কক্ষে ঢুকতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফুরকান উদ্দিন তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফুরকানের ভাই মজনু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আজিজুল হককে মারধর করেন।এ ঘটনার পর আজিজুল হক তাঁর এলাকা উপজেলার কলসিন্দুর বাজারে চলে যান। তাঁকে মারধরের খবরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কলসিন্দুর বাজারে দু-তিন হাজার লোক জড়ো হয়। পরে আজিজুল এলাকার লোকজনকে নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে রওনা দেন। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিনের লোকজনও উপজেলা সদরে সশস্ত্র অবস্থান নেয়।পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন বিকেল চারটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পুলিশের বাধা ভেঙে হাজার হাজার মানুষ বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলা সদরের পঞ্চনন্দপুর এলাকায় কলসিন্দুর সড়কে ঢুকে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দীন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। আধা ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়া হয় বলেও খবর পাওয়া গেছে।সন্ধ্যার দিকে ফুরকানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকিদের ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যুর খবর পাইনি। তবে শুনেছি, তিনি হাসপাতালে মারা গেছেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’