এই গৃহবধূ কি হেরে যাবেন?

বাড়িতে কেউ না থাকলেই নানা ছুতায় জসিম ঘরে ঢুকে পড়েন। শরীরে হাত দেন। প্রতিবাদ করলেই মারধর করেন। একবার মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবে এক গৃহবধূর ওপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চলছে দেড় বছর ধরে। স্বামী, প্রতিবেশী কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এবার মামলা করায় এই নারীকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন জসিম মোল্লা।
প্রতিবেশীরা বলছেন, জমিজমা ও ভিটেমাটি দখলের উদ্দেশ্যেই এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ঘটনাটি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের একটি গ্রামের। এই গৃহবধূর অন্য শরিকের জমি কিনে উঠানের ওপর বছর দেড়েক আগে বাড়ি তুলেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারেস মোল্লার ছেলে জসিম মোল্লা। নির্যাতনের শুরু তখন থেকেই।
গতকাল মঙ্গলবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একচিলতে উঠানের পূর্ব পাশে জসিমের পাকা একতলা নতুন বাড়ি। উল্টোদিকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর পুরোনো টিনের ঘর। এক বাড়ির লোকজনের চলাচল অন্য বাড়ি থেকে দেখা যায়। তাঁর স্বামী অন্যের পানের বরজে দিনমজুরের কাজ করেন। আর তিনি হোগলার চাটাই তৈরি করে বিক্রি করেন। অর্ধেক বোনা চাটাইয়ের ওপর বসে নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি। চোখ মুছতে মুছতে একপর্যায়ে বলেন, লজ্জার কথা লুকিয়ে রেখে লাভ হয়নি। অন্যদিনের মতো ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বামী খুব সকালে কাজে চলে যান। ছেলে ও মেয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে খেলতে চলে যায়। সকাল আটটার দিকে জসিমকে ঘরের পাশে ঘুরতে দেখে দরজা আটকে দেন তিনি। ছুরি দিয়ে খিড়কি খুলে ঘরে ঢোকেন জসিম। তাঁর চিৎকারে কয়েকজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তখনই মেয়েটিকে চড়, কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন জসিম। ঘটনার তিন দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর দৌলতখান থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জসিম ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন এই নারী। ওই দিন রাতে দরজায় লাথি মেরে জসিম তাঁকে দেশছাড়া করার হুমকি দেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তাঁদের অন্য শরিকেরা জসিমদের কাছে জমি বিক্রি করে ভারত চলে যান। এভাবে নির্যাতন করলে এই সংখ্যালঘু পরিবারটি হয়তো জমি বিক্রি না করেই চলে যেতে বাধ্য হবে। গতকাল জসিমকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জসিম বলেন, তিনি এলাকায় আছেন। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই গৃহবধূর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। আর থানা প্রথম আলোকে জানিয়েছে, আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।