একসঙ্গে এত মৃত্যুদণ্ডের নজির নেই

সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে দেড় শতাধিক আসামির মৃত্যুদণ্ডের নজির দেশে বা বিদেশে নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও আইনজীবীরা। একই সঙ্গে তাঁরা এ-ও বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের দিক থেকে কাছাকাছি সময়ে এটি একটি নৃশংসতম ঘটনা। এদিক থেকে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দিকে আসামিরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। অভিযোগগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির মহাপরিচালক বরাবর জানিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি নিশ্চয়ই খুব সতর্কতার সাথে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি কোনো গলদ থেকে যায়, তা হলে সেটা একটা বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এমন হতে পারে, উচ্চ আদালতে গিয়ে খালাস পাওয়ার যোগ্য নন, এমন কেউ জঘন্যতম অপরাধ করেও খালাস পেয়ে যেতে পারেন।’

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘বেসামরিক কোর্টে এতজনের একসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড মনে করতে পারছি না। এক শ-দেড় শ বছরের ইতিহাসেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। তবে, “ওপেন কোর্টে” বিচার হয়েছে। এক একটি ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য প্রচুর সাক্ষী ছিলেন, আসামিদের উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি খুবই তাত্পর্যপূর্ণ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান বলেছেন, বিশ্বের বহু ‘হাই-প্রোফাইল’ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন এফ কেনেডির মৃত্যুরহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। জিয়াউর রহমানের সময়ে ক্যু-পাল্টা ক্যুতে বহু মানুষ কেন কীভাবে প্রাণ দিয়েছেন, জানা যায় না। সে হিসেবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের বিচার হলো, রায় ঘোষিত হলো। এটি খুবই ইতিবাচক। একটি স্বচ্ছ বিচার হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে।