এখনো ৪০ লাখ মানুষ ভোটার তালিকার বাইরে

ভোটার হওয়ার যোগ্য ৪০ লাখ নাগরিক এখনো ভোটার তালিকার বাইরে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তৈরি করা জনসংখ্যার হিসাব থেকে বাদ পড়া ভোটারদের এই সংখ্যা বের করেছে।
কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, আইন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রকারীদের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্যসংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এবারের হালনাগাদের সম্মানী কম হওয়ায় তথ্য সংগ্রহকারীদের অনেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজটি করেননি। যে কারণে ভোটারযোগ্য অনেকেই এখনো তালিকার বাইরে থেকে গেছেন।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, এবারের হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতিটি তথ্য ফরম পূরণের জন্য ১০ টাকা এবং মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পাঁচ টাকা করে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন গত বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাঁদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি ছিল, তাঁদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়। খসড়া প্রকাশ এবং দাবি আপত্তি-নিষ্পত্তি করে গত ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ভোটার সংখ্যা নয় কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৬১ লাখ আট হাজার ৮১৪ এবং নারী চার কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ৪৭ জন।
বাদ পড়া ভোটারদের হিসাব বের করতে গিয়ে কমিশন সচিবালয় উল্লেখ করেছে, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ দেশে আদমশুমারি পরিচালিত হয়। অন্যদিকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়েছে ২০১২ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি ছিল,তাঁদের ভোটার করা হয়েছে। অর্থাৎ গণনার দিন থেকে ভোটার নিবন্ধনের ভিত্তি তারিখের ব্যবধান এক বছর সাড়ে নয় মাস বেশি। এই হিসাবে ২০১১ সালের ১৫ মার্চ যাঁদের বয়স ১৬ বছর বা তাঁর বেশি ছিল, তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি ১৮ বছর বা তার বেশি ছিল। অর্থাৎ তাঁরা ভোটারযোগ্য ছিলেন।
কমিশনের হিসাবে দেখানো হয়েছে, ২০১১ সালে যাঁদের বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি ছিল, তাঁদের ভোটারযোগ্য ধরা হলে বর্তমানে দেশের ভোটার সংখ্যা হওয়ার কথা নয় কোটি ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৯। অন্যদিকে একই সময়ে যাঁদের বয়স ১৭ বছর বা তার বেশি ছিল, তাঁদের ভোটারযোগ্য ধরা হলে বর্তমানে দেশের ভোটার সংখ্যা হওয়ার কথা নয় কোটি ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৮ জন। অর্থাৎ ১৬ বছরের হিসাবে বর্তমানে ৫৫ লাখ সাত হাজার ৫৭৮ এবং ১৭ বছরের হিসাবে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭ জন ভোটারযোগ্য নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, কী পরিমাণ ভোটারযোগ্য নাগরিক তালিকার বাইরে আছেন, সে বিষয়ে ধারণা নেওয়ার জন্যই কমিশন সচিবালয় বিবিএসের হিসাবের সঙ্গে তুলনা করে এই হিসাবটি বের করেছে। হিসাবটি যেহেতু কমবেশি হতে পারে, তাই কমিশন সচিবালয় মনে করে, ৩০ থেকে ৪০ লাখ লোক ভোটার তালিকার বাইরে আছেন। সে জন্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাদ পড়াদের ভোটার করা হচ্ছে।
এবারের হালনাগাদে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৮ এবং পুরুষ ৪১ লাখ ১১ হাজার ৬৬৫ জন।
কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে বেশি। এই হিসাবে বর্তমান ভোটার তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা।