ঐক্যের চিঠিতে সাড়া নেই

নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা, মহানগর ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়ে যে চিঠি দিয়েছেন, তার প্রভাব এখনো পড়েনি তৃণমূলে। দলের ভেতরে মতানৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝি রয়েই গেছে। চট্টগ্রাম, জয়পুরহাটসহ কয়েকটি জেলায় ওই চিঠি পাওয়ার পর দলকে চাঙ্গা করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য সব এলাকায় অবস্থা আগের মতোই। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক-সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ঐক্যের এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
জানা গেছে, দলীয় সাধারণ সম্পাদকের তাগিদ সত্ত্বেও বিভেদ দূর হয়নি রাজশাহী আওয়ামী লীগে। এমনকি অনেক নেতা সৈয়দ আশরাফের চিঠির বিষয়ে কিছুই জানেন না। চিঠির খবর জানেন না বগুড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। জেলায় চিঠি পৌঁছলেও অনেক উপজেলায় এখনো পৌঁছেনি। একই অবস্থা গাইবান্ধায়ও। কেন্দ্র থেকে দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করার চিঠি দেওয়া হলেও এর কোনো প্রভাব পড়েনি সিলেট বিভাগে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় চিঠির তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।
বরিশালে শীর্ষ নেতাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধই আছে : বরিশাল থেকে রফিকুল ইসলাম জানান, দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠির প্রভাব এখনো পড়েনি বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা আওয়ামী লীগে। দলের ভেতরে মতানৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝি রয়েই গেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দুই সভাপতির মুখ দেখাদেখি বন্ধ রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের মধ্যে চাপা বিরোধ চলে আসছিল। মেয়র পদে হিরনের পরাজয়ের পর থেকে তাঁদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি অবশ্য দলের মধ্যে বিরোধের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মীর মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে।’
এদিকে ভোলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সুসম্পর্ক নেই উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ রয়েছে। সৈয়দ আশরাফের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সেই বিরোধ নিরসনের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।
ঝালকাঠিতে দলের বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমুর প্রতিপক্ষ গ্রুপে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির ও সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র আফজাল হোসেন। বিরোধ এতটাই প্রকট যে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারও করছে। মূল দলের বিরোধ এখন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটিতেও ছড়িয়েছে।
এদিকে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের নেত্রী সাধনা হালদার এমপি বলেন, ‘দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠির বিষয়টি মিডিয়ায় দেখেছি। এখনো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও আমার মতোই উপেক্ষিত।’
চিঠির খবরই জানেন না বগুড়ার তৃণমূল নেতারা : বগুড়া থেকে লিমন বাসার জানান, দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো চিঠির খবরই জানেন না বগুড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। জেলায় চিঠি এলেও উপজেলায় এখনো চিঠি পৌঁছেনি। জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউই এ ব্যাপারে অবগত নন। জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে দলীয় কোন্দল ও বিভাজন স্পষ্ট। কোনো কোনো কমিটির মেয়াদ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন্দলের কারণে সম্মেলন হচ্ছে না বলে অভিযোগ নেতা-কর্মীদের।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দলকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বগুড়ায় আওয়ামী লীগের অবস্থা যে কত করুণ, সেটা বোঝা যায় বিভিন্ন উপজেলায় পাল্টাপাল্টি কমিটি দেখে। ১২টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে দুটি করে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পৌরসভা, শহর ও সদরের অবস্থাও একই রকম। এসব কারণে কেন্দ্র থেকে কোনো দিকনির্দেশনা এলে সেটা কাউকে জানানো হয় না।’
জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, ভয়াবহ দুরবস্থার মধ্যে বগুড়ায় দল চলছে। বিভাজন নিরসনে উদ্যোগী নন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সৈয়দ আশরাফের চিঠির খবরই কেউ জানে না।
নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুর রহমান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমানও জানান, তাঁরা এ ধরনের কোনো চিঠি পাননি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘এখানে যারা বিরোধিতা করে তারা হাতে গোনা দু-একজন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর আমরা রেখে দিয়েছি। সাংগঠনিক সফরে কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন। তখন আমরা এ ব্যাপারে কথা বলব। এর আগে এটা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই।’
চিঠি পেয়ে চাঙ্গা জয়পুরহাট আওয়ামী লীগ : আমাদের জয়পুরহাট প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী জানান, দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পেয়ে চাঙ্গা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। প্রতিদিন দলের কোনো না কোনো ইউনিয়নে চলছে কর্মী সমাবেশ ও গণসংযোগ। এরই মধ্যে জেলার ক্ষেতলাল, কালাই ও আক্কেলপুরে গণসংযোগ ও জনসভা হয়েছে।
আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী জানান, গত রবিবার রায়কালি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে কর্মিসভা।
জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন জানান, কেন্দ্রের নির্দেশ মোতাবেক উদয়পুর ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে গত শনিবার বিশাল জনসভা করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম দুদু বলেন, চিঠি পাওয়ার পর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক সভা করার ফলে দল আগের চেয়ে অনেক সংগঠিত ও চাঙ্গা হয়েছে। দলে এখন কোনো কোন্দল নেই।
কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেই রাজশাহীতে : রাজশাহী থেকে রফিকুল ইসলাম জানান, দলীয় সাধারণ সম্পাদকের তাগিদ সত্ত্বেও বিভেদ দূর হয়নি রাজশাহী আওয়ামী লীগে। এমনকি অনেক নেতা সৈয়দ আশরাফের চিঠির বিষয়েই কিছু জানেন না। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি জেলা সভাপতি-সম্পাদকের কাছে এসেছে কি না আমার জানা নেই। তাঁরা এ বিষয়ে এখনো আমাদের কিছুই বলেননি। এমনকি দলীয় কোন্দল নিরসনে এখনো তাঁদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’ তিনি জানান, দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনেক বিভেদ আছে।
দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পাওয়ার পর গত রবিবার বিকেলে বর্ধিত সভা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর আমরা সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছি।’ মহানগর আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল নেই বলে দাবি করে বজলুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু আছে, সেটি নিরসনে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পাওয়ার পর কোনো সভা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দীন মণ্ডল।
পাবনা : জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ দিলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শনিবার সৈয়দ আশরাফের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেই চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে এখনো নিজেদের মধ্যে কোনো সভা করতে পারিনি।’
নাটোর : জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সংগঠনে কোনো কোন্দল নেই। তবে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সভা করতে পারিনি।’
প্রভাব নেই রংপুর বিভাগে : রংপুর থেকে স্বপন চৌধুরী জানান, বিভাগের আট জেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের চিঠির তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। চিঠি পাওয়া যায়নি বলেও জানান কোনো কোনো জেলার দলীয় নেতারা। সে কারণে নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপও।
কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘ওই চিঠি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। তবে কার্যক্রম শুরু হবে হয়তো।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনে নির্বাচিত দলীয় এমপি ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু এখনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘চিঠি পাইনি। কোনো কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি।’ দিনাজপুর সদরের এমপি ইকবালুর রহিম বলেন, ‘বাইরে থাকার কারণে আমি চিঠি দেখিনি। জেলায় এ-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
লালমনিরহাট জেলায় চিঠি পৌঁছালেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্দেশনা অনুযায়ী রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জনসভায় সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছিল।’
গাইবান্ধায় তৃণমূল নেতারা কিছু জানেন না : আমাদের প্রতিনিধি অমিতাভ দাস হিমুন জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক গত বুধবার সৈয়দ আশরাফের চিঠি পাওয়ার কথা জানালেও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এখনো চিঠির বিষয়ে কিছু জানেন না।
দলের একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই জেলায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। তবে দলীয় সংসদ সদস্যদের কেন্দ্র করে কোন্দল রয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ফকু বলেন, স্থানীয় এমপি আত্মীয়করণের মাধ্যমে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করেছেন। এ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ আছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কেন্দ্র থেকে চিঠি পাওয়ার পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। দু-একটি জায়গায় ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও তা অচিরেই মিটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি আছে।
চট্টগ্রামে বিরোধ মেটাতে তৎপর নেতারা : চট্টগ্রাম থেকে নূপুর দেব জানান, দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পাওয়ার পর মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগে চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নেতার বিরোধও কমে গেছে। দীর্ঘদিন পর নগর ও জেলার নেতারা এক সঙ্গে মিছিল-সমাবেশ করায় মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও উজ্জীবিত।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মধ্যে যে বিরোধ ছিল, তা এরই মধ্যে অনেকটা কেটে গেছে। সবাইকে নিয়ে গত ২৭ আগস্ট মহানগর আওয়ামী লীগ জনসভা করেছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করছি। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠি পাওয়ার পর সংগঠনকে আরো কিভাবে গতিশীল করতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’
মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপি বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। সাংগঠনিক বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আমরা এখন একসঙ্গে কাজ করছি।’
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, ‘গত শুক্রবার চিঠি পেয়েছি। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন চাঙ্গাভাব এসেছে।’
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়ে গেছে।’
জানা গেছে, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপি, ডা. আফছারুল আমীন ও আ জ ম নাছির উদ্দিন এখন ঐক্যবদ্ধ। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিডিএর চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালামের দূরত্ব রয়ে গেছে।
প্রভাব নেই সিলেট বিভাগে : সিলেট থেকে আহমেদ নূর জানান, বিভেদ ভুলে দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করতে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হলেও এর কোনো প্রভাব পড়েনি সিলেট বিভাগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সিলেট সফর নিয়ে দলের নেতারা ব্যস্ত।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দপ্তরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ঘিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগ দুই ধারায় বিভক্ত। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সঙ্গেও অর্থমন্ত্রীর সম্পর্ক শীতল। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গেও অর্থমন্ত্রীর দূরত্ব রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সম্পর্ক তেমন গাঢ় নয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের এই কোন্দল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, প্রতিটি বিভাগে সাংগঠনিক সফরের জন্য একটি করে দল গঠন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে কেন্দ্রীয় টিমের প্রধান করা হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদককে। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সফরকারী দলের উপস্থিতিতে মহানগর ও জেলায় কর্মী সমাবেশ হবে। দলকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা কাজ করব।’
মৌলভীবাজার : আমাদের প্রতিনিধি আবদুল হামিদ মাহবুব জানান, জেলা আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে আছেন জেলার সভাপতি চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ আর অন্য গ্রুপে রয়েছেন সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য মহসিন আলী। এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে জেলার প্রতিটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়নেও দলের বিভক্তি রয়েছে।
কেন্দ্রের দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গে জেলা সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, ‘এটি একটি জেনারেল চিঠি। এ রকম চিঠি মাঝেমধ্যে দল থেকে আসে। দলের কেন্দ্রীয় টিম মৌলভীবাজার সফর করবে। তাদের উপস্থিতিতে কর্মী সমাবেশ হবে। আমরা সেই সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন্দ্রীয় নেতারা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, আমরা দলকে সেভাবে গোছাবার কাজ করব।’
সুনামগঞ্জ : আমাদের প্রতিনিধি শামস শামীম জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল আরো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে কর্মসূচি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একই আসনে মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। তিন মাস ধরে এ কারণে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান এমপি দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন। গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুটের নেতৃত্বে পালিত হলেও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ আশরাফের চিঠি এখনো পাননি বলে জানান মতিউর রহমান। নূরুল হুদা মুকুট বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন। দলের কোনো নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই।
খুলনার নেতাদের ডেকেছেন দলীয় প্রধান : খুলনা থেকে গৌরাঙ্গ নন্দী জানান, দলীয় সাধারণ সম্পাদক চিঠি দিয়ে সাংগঠনিক বিরোধ নিষ্পত্তি করে একাট্টা হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানোর পরও খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। অবশ্য মহানগর আওয়ামী লীগ একাধিক কর্মিসভা ও বর্ধিত সভা করেছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের ডেকে পাঠিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তিনি খুলনার দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন গণভবনে।
দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কাউন্সিল করার জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় নেতারা সময় দিলেই আমরা সম্মেলন করতে পারব।’
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘দলীয় সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা এ নিয়ে প্রস্তুতিও শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ীই আমরা কাজ করব।’