বললেন অর্থমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় আসবে গ্রামীণ ব্যাংক

গ্রামীণ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় (জুরিসডিকশন) নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারের হারে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলেও জানান তিনি। সচিবালয়ে গতকাল রোববার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর করা গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা হবে।

এর আগে গত ১১ জুলাই সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী প্রতিবেদনটি ২০ জুলাইয়ে পাবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর দুই মাস কেটে গেলেও প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। কমিশন তার মেয়াদের শেষ দিন ২০ জুলাই কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। মাঝখানে কমিশনের সদস্য আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসির কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর করা আংশিক একটি প্রতিবেদন পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী গতকাল বলেন, ‘তারিখ তো ঠিক হয়েছে এ মাসের শেষ দিন। তবে প্রতিবেদনে কী আছে, কম-বেশি জানি। কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, যা আগে বলেছি তাই থাকবে। গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন বিধি হচ্ছে। একে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিদ্যমান ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে গ্রামীণ ব্যাংক।’

গ্রামীণ ব্যাংকে ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারের, বাকি ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ ব্যাংকের, উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এ রকমই থাকবে। আর পরিচালনা পর্ষদে সরকারের তিনজন সদস্য যা আছেন, সেটাও পরিবর্তন করা হবে না। ছোটখাটো যা আছে, সেগুলোও থাকবে ও রকমই।’

বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের যথাযথ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই। কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশের সূত্র ধরে অর্থমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংককে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), বাংলাদেশ ব্যাংক বা নতুন কোনো সংস্থার আওতায় আনা হবে।

অর্থমন্ত্রী গতকাল বলেন, সবচেয়ে যেটা প্রয়োজনীয়, সেটা হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) নিয়োগ। কিন্তু সেটা করা যাচ্ছে না। কারণ, ইউনূস সাহেব ও তাঁর সমর্থকেরা তা আটকে রেখেছেন। এমডি নিয়োগে সার্চ কমিটি যাতে কাজ করতে না পারে, সে জন্য চুপিচুপি স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন হাইকোর্টে গিয়ে।

স্থগিতাদেশের ওই আবেদনকে ‘মিথ্যা আবেদন’ (ফলস্ পিটিশন) অভিহিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা প্রত্যাহার করার চেষ্টা করছি। এক বছর ধরে এমডি নেই গ্রামীণ ব্যাংকে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছি। প্রত্যাহার হয়ে গেলেই ব্যাংকটিতে এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে আন্তর্জাতিক ইচ্ছাপত্র (ইওআই) আহ্বান করলে ভালো ভালো প্রার্থী এতে সাড়াও দিয়েছিলেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবকিছুই বন্ধ রাখতে হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের চেয়ারম্যানই (৭ আগস্ট পদত্যাগকারী খন্দকার মোজাম্মেল হক) কাজ করে যাচ্ছেন।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ: ক্রয় কমিটিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তিনটি কাজের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। প্রকল্পের জাজিরা ও মাওয়া সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নিয়োগ পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় তা বাস্তবায়িত হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু দুই ভাগে নির্মাণ করছি। তিনটি অংশের কাজ এখন হবে। মূল্যায়ন চলছে। যেকোনো দিন ক্রয় কমিটিতে আসবে। বাকি তিনটির কাজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র হবে। দরপত্রের সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ আশা করছি, দরপত্র আহ্বান করা যাবে।’

এ ছাড়া, ‘রেলওয়ের চিন্কী আস্তানা-আশুগঞ্জ সেকশনের ক্ষয়প্রাপ্ত রেল সম্পূর্ণ নবায়ন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ’ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে জিসিবি এলাকায় বার্থ অপারেটর (কার্গো) নিয়োগ, ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজেএমসি থেকে দেড় কোটি পিস বস্তা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় কমিটি।