কোরবানির পশুর হাটে গরু প্রচুর, দাম সহনীয়

ঢাকার কোরবানির পশুর হাট এবার আগেভাগেই জমে উঠছে। বিক্রিও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। ব্যাপারী, ক্রেতা, হাট ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন পর্যন্ত গরুর দাম তুলনামূলক ‘কম ও সহনীয়’।
বাজারের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের কোনো ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি করা না হলে দাম সহনীয় থাকবে। কারণ, বাজারে গরু প্রচুর।
তবে ব্যাপারীদের কেউ কেউ লোকসানের আশঙ্কার কথা বলেছেন। অনেকের মধ্যে গতবারের ভয়ও কাজ করছে। কারণ, গতবার দাম হঠাৎ কমে গিয়েছিল।
কয়েকজন ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, এবার ভারত থেকে প্রচুর গরু আমদানি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।
রাজধানীর স্থায়ী গরুর হাট গাবতলী, অস্থায়ী হাট আগারগাঁও ও তালতলা ঘুরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
গাবতলীর স্থায়ী হাট বাদে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে এবার মোট হাট বসেছে ১৯টি। বেশির ভাগ হাটের ইজারা পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। দরপত্র অনুযায়ী আজ রোববার থেকে তিন দিন ও ঈদের দিন মিলিয়ে মোট চার দিন রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসার কথা। কিন্তু গত কয়েক দিন হাটে প্রচুর গরু আসছে এবং বিক্রিও শুরু হয়েছে।
গাবতলী হাটে গতকাল বিকেলে কথা হয় কুষ্টিয়ার গরুর ব্যাপারী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার বড় আকৃতির ১২টি গরু এনেছেন। একেকটি গরুর দাম যেখানে আড়াই লাখ টাকা প্রত্যাশা করছেন, সেখানে ক্রেতারা দাম বলছেন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার পর্যন্ত। তাঁর ভাষায়, খরচের দামই বলছেন না ক্রেতারা।
এ সময় পাশেই আরেকজন ব্যাপারী বলেন, গতবার যে গরুর দাম উঠেছিল এক লাখ ২৭ হাজার টাকা, এবার সেই গরুর দাম উঠছে ৮১ হাজার টাকা।
আবদুল কাদের নামে রাজবাড়ীর পাংশার এক ব্যাপারী বলেন, ‘গতবার একটি গরুর দাম ৬২ হাজার টাকা হয়েছিল বলে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু এবার সেই গরুই বিক্রি করলাম ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই এক বছরে ওই গরুর পেছনে খরচ হয়েছে অনেক বেশি।’

বাচ্চু মোল্লা নামে মাদারীপুরের শিবচরের এক ব্যাপারী বলেন, ‘তাঁর একটি গরুর দাম এলাকাতেই উঠেছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা। অথচ এখানে ক্রেতারা দাম বলছেন ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। অপেক্ষায় আছি দেখি কী হয়।’

বিক্রেতাদের এই অবস্থা হলেও ক্রেতারা এখন পর্যন্ত গরু কিনে খুশি। একজন ক্রেতা ৫৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কিনলেন। আরেকজন কিনলেন ৩৭ হাজার টাকায়। হাসিল দেওয়ার সময় দুজনই খুশি বলে জানালেন। মধ্যম আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা গেল। যদিও হাটে বড় গরু উঠেছে প্রচুর।

গাবতলী হাটের হাসিল সংগ্রহকারীদের একজন মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন ‘এবার দাম খুব বেশি না, সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে।’

তালতলা ও আগারগাঁও গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এখন হাটে পরিণত হয়েছে। তালতলা হাট বসার কথা তালতলা বড় রাস্তায়। কিন্তু উত্তরে তালতলা কলোনি, দক্ষিণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবন ছাড়িয়ে গেছে গরুর হাটের বিস্তৃতি।

তালতলা হাটের ব্যাপারী আবদুল কাদের ও সাহাবুদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত ক্রেতারা দাম কম বলছেন। তবে তাঁদের আশা, ঈদের আগের তিন দিন ভালো দাম পাবেন তাঁরা।