খালেদাকে তৃণমূলের কথা শুনতে বললেন খন্দকার মাহবুব

mahabud
কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শের উপর নির্ভর না করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কথা শোনার আহ্বান জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন।

জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনারও আহ্বান জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব বলেন, “আইনজীবীদের নির্বাচন উপলক্ষে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়েছি, তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তারা দলের চেয়ারপারসনের কাছে নিজেদের দুঃখের কথা বলতে চান। দলের জন্য পরামর্শ দিতে চান।”

কর্মীরা সক্রিয় থাকলেও অনেক স্থানে নেতৃত্বের দুর্বলতা রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “অনেক নির্যাতন, মামলা-হামলার পরও কর্মীরা শক্তিশালী, তৃণমূলে বিএনপির বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। কিন্তু অনেক স্থানে নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে।

“বিএনপি নেত্রীকে মাঠে নামতে হবে। সারা দেশে যে হাজার হাজার কর্মী নির্যাতিত হয়েছে তাদের কথা শুনতে হবে। দেশ নেত্রীকে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। বিগত তিনমাসের আন্দোলনে সারা দেশে যেসব নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।”

খালেদা জিয়ার সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে তার এই উপদেষ্টা বলেন, “আমাকে মাফ করবেন, নেত্রী এখনও কিছুটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে আমার ধারণা। নেত্রীকে আর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকলে চলবে না। উপরের পর্যায়ের নেতাদের কথার উপর নির্ভর করলে চলবে না।”

‘বিএনপি ভারতবিরোধী নয়’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ঢাকা সফর নিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, “অনেকে প্রচার করে বিএনপি ভারত বিরোধী দল। আমরা কখনও ভারত বিরোধী ছিলাম না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, ভারতের জনগণ আমাদের বন্ধু। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভারতের কংগ্রেস সরকারের একতরফা নীতির সমালোচনা করেছি। একটি দলের পক্ষ নেওয়ার কারণে তৎকালীন ভারত সরকারের বিরুদ্ধে একটা বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল।

“তবে সেখানে এখন জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে মোদী ক্ষমতায় এসেছেন। আমি বিশ্বাস করি, মোদী সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে থাকবেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে বাংলাদেশেও যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে মোদী সে বিষয়ে কথা বলবেন। গণতন্ত্রের পক্ষে তার সমর্থন চাইব।”

‘বাংলাদেশ রিপাবলিকান ফোরাম’র সভাপতি এবিএম আবলি কালাম রিপনের সভাপতিত্বে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে’ যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি সমর্থক সংগঠন ‘স্বাধীনতা ফোরাম’র সভাপতি আবু নাছের মো. রহমতুল্লা, নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

আলাল বলেন, “আমাদের নিজেদের অবহেলা এবং সরকারের আক্রোশের কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হতে শুরু করেছে। অথচ ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় থেকে বাংলার মানুষের কাছে পরিচিত পান জিয়া।

“মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানই প্রেসিডেন্ট জিয়াকে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাবে (বীর উত্তম) ভূষিত করলেন। অথচ আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব অজ্ঞতা আর হিংসাবশত জিয়াকে পাকিস্তানের চর বলে অপবাদ দেয়।”