গণতন্ত্রের সূত্র ও নির্বাচনের ফর্মুলা…সহজিয়া কড়চা

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে বাংলার আকাশে। রাখাল যুবকটি তার গবাদিপশু তাড়িয়ে নিয়ে গোধূলিতে ফিরে যায় গোষ্ঠে। আথালের খুঁটির সঙ্গে গরুগুলোকে দড়ি দিয়ে বাঁধে আর ভাবে—ইলেকশন অইব তো! এবারই সে প্রথম ভোটার। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে তার কিঞ্চিৎ মাথাব্যথা আছে। তার মাথাব্যথার কারণ, নির্বাচন নিয়ে এখন গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে মানুষ কথা বলছে। টেলিভিশন পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত পল্লিতে। সারা দিন বড় দুই দলের নেতারা রাজধানীতে যেভাবে মুখ ও হাত সমান তালে নাড়েন, তা গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পরে দেখে। বিদ্যুতের লুকোচুরির কারণে সন্ধ্যার সংবাদটা মিস করলে রাত নয়টার নিউজ দেখে। নয়টায়ও সম্ভব না হলে রাত ১১টায় দেখেই ঘুমায়। তাই দেশের কোথায় কী ঘটছে এবং দেশের সেবায় কে কী করছেন, তা বুঝতে কারও বেগ পেতে হচ্ছে না।
শুধু যে গ্রামের রাখালটির নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, তা নয়। যেসব মান্যবর বিদেশি বাংলার মাটিতে সম্মানিত মেহমান, তাঁরাও বাঙালির নির্বাচনের ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। তাঁরা ঘরের খেয়ে বাংলার মোষ তাড়াচ্ছেন। দুপুরে এক দলের নেতাদের সঙ্গে বসছেন তো সন্ধ্যায় ডিনার করছেন আরেক দলের নেতাদের সঙ্গে। আলোচ্য বিষয় একটাই। নির্বাচন। এই যেমন ১১ সেপ্টেম্বর অতি আধুনিকতার পরাকাষ্ঠা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে লাঞ্চ করেন। পাঁচতারা হোটেলে ‘সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে ২ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক’ হয়। কথা বলতে বলতে ডিনারের সময় হয়ে যায়। এনলাইটেনমেন্টের দেশগুলোর অতিথিরা জামায়াত নেতাদের দুটো ডালভাত না খাইয়ে কিছুতেই বিদায় দেননি। হোটেলের বিল পরিশোধ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্ধুরা। জামায়াত নেতাদের এক টাকাও খরচ হয়নি। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সরকারি দলের নেতাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, দলই নিষিদ্ধ হওয়ার পথে। তবু তাঁরা বিদেশি বন্ধুদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া তাঁরা নির্বাচনে যাবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বাংলাদেশের আট ভাগের এক ভাগ। কিন্তু দেশ হিসেবে তাদের দাম আছে। বাংলাদেশকে তারা শুধু ঋণ-অনুদান দেয় না, দল-মত-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে বুদ্ধিপরামর্শও দেয়। সব শ্রেণীরই দেখভাল করে। বন্দরনগরের দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ লিখেছে: ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার টিম বোটনিকভ নগরীর লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি আকস্মিকভাবে এ মাদ্রাসায় আসেন। এ সময় তিনি হেফাজতে ইসলাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে প্রথমে নগরের চান্দগাঁও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় যান অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এই মাদ্রাসায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে।…মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষে ঢুকে তিনি জানতে চান, “শাপলা চত্বরে যাদের দেখা গিয়েছিল, তারা কি এরা?” সঙ্গে থাকা দূতাবাসের বাংলাদেশি কর্মকর্তা বলেন, “না, এরা নয়, তারা হলেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।” এরপর অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কওমি মাদ্রাসা পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর দূতাবাসের বাংলাদেশি কর্মকর্তারা যোগাযোগ করে ছুটে আসেন নগরীর বৃহৎ কওমি আক্বীদাপন্থি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। মাদ্রাসার মাঠ ও বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন শেষে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।’ [সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ১৩.৯.১৩]
এক ঘণ্টার বেশি বৈঠক হয় সঙ্গোপনে। সেখানে হেফাজতের নেতাদের পারিবারিক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাঁদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা বা শ্বশুর-শাশুড়িদের স্বাস্থ্য নিয়ে খোশগল্প হয়েছে—তা মনে করার কারণ নেই। হেফাজত এখন একটি নাম, একটি সংগঠন। নেতারা তাকে সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান কি না চান তার চেয়ে বড় কথা, দেশি-বিদেশি অনেকেই তাকে সংগঠন বানিয়ে ছাড়বেন। মিডিয়া ও বিদেশিদের ১ শতাংশ আনুকূল্য এ দেশের কোনো বাম-প্রগতিশীল সংগঠন পায় না। লালখান বাজারের রুদ্ধদ্বার কক্ষে নির্বাচন নিয়েও যে আলোচনা হয়নি তা হলফ করে কেউ বলতে পারে না।
বাংলাদেশের নির্বাচনের কথা ভেবে বিচলিত বোধ করেছেন বান কি মুন সাহেব। তাঁর অমূল্য সময় নষ্ট করে তিনি সেদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপের পরে সম্ভবত তাঁর মাথা ধরে গিয়েছিল। এক পেয়ালা কড়া কফি পান করার পরে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে থাকবেন। নির্বাচন হবে বাংলার মাটিতে, মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। মহাসচিবের পক্ষে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে ফোনালাপ করেন। তাতে কোনো কাজ হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরিয়ার ঝামেলার মধ্যেও এদিকে চিঠি লিখেছেন। লন্ডন থেকে ছুটে এসেছেন ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ও শাবানা মাহমুদ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলসহ দাতা ও মাতব্বর দেশগুলোর লোকেরাও দৌড়াদৌড়ি করছেন। নির্বাচন আমাদের দেশের। তাতে প্রার্থী হবেন আমাদের দলগুলোর নেতারা, ভোট দেবে এ দেশের মানুষ, সরকার গঠন করবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারা, সংসদ বর্জন করবে বিরোধী দল। কিন্তু পেরেশান হচ্ছেন অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নেতারা।
সরকারি দলের সাবেক এক মন্ত্রী ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী প্রতিদিন বলছেন, ‘দুনিয়ার কারও সাধ্য নাই নির্বাচন বানচাল করে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।’ বর্তমান অধিবেশনে সূচনা বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন: ‘মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ নির্বাচন কমিশন থেকেও বলা হচ্ছে, তারা প্রস্তুত। তা হলে বিদেশিদের এই অস্থিরতা কেন?
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদ বহাল রেখেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা হবে। পরদিন থেকে তাঁর ঘোষণার সমর্থনে দলীয় মুখপাত্ররা একই কথা বলছেন। মহাজোটের মধ্যে অবশ্য ভিন্নমত আছে। মন্ত্রিত্বের প্রাপ্তিযোগ ঘটায় জাসদ ও দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল আওয়ামী লীগের খুব ঘনিষ্ঠ। তবে কোনো দুর্যোগ দেখা দিলেও যে তারা আওয়ামী লীগের পাশেই থাকবে, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। সংসদ বহাল রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না। সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে।’ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নাহয় সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’ সংসদ ভাঙা ও সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে অন্য প্রায় সব দল ও নাগরিক সমাজেরও অভিমত একই।
কিন্তু প্রধান সরকারি দল অনড় অবস্থানে রয়েছে। যা হবে তা তাদের সংশোধিত সংবিধানমতোই হবে। তার থেকে একচুলও নড়চড় হবে না। ১৪ সেপ্টেম্বর ভোলার চরফ্যাশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গণতন্ত্রের সূত্র অনুযায়ী নির্বাচন যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। যদি কোনো দল বা ব্যক্তি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তা প্রতিহত করা তাঁর দায়িত্ব বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ফর্মুলার বাইরে আওয়ামী লীগ যেতে পারে না। তাই নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে’ [যুগান্তর, ১৫.৯.১৩]
আমরা জ্যামিতি ও বীজগণিতের সূত্রের কথা জানি। এ প্লাস বি হোলস্কয়ার সমান সমান এ স্কয়ার প্লাস টু এবি প্লাস বি স্কয়ার। কোনো সূত্র ও ফর্মুলা ছাড়াই পৃথিবীর দেশে দেশে নির্বাচন হচ্ছে এবং গণতন্ত্র চালু আছে। বাংলাদেশের সূত্র যদি হয়, মন্ত্রিসভা থাকবে, সংসদ থাকবে, মন্ত্রীরা ও সাংসদেরা ডিসি, এসপি, দারোগা-পুলিশ-ক্যাডার নিয়ে প্রকল্প উদ্বোধন ও নির্বাচনী প্রচারণা করবেন, আর বিরোধী দলের প্রার্থীরা খাবেন ধাওয়া। বীজগণিতের ফর্মুলাও শুধু ‘এ’ দিয়ে হয় না, একটা ‘বি’-ও দরকার। বাংলাদেশি নির্বাচনেও শুধু ‘এ’ গ্রহণযোগ্য হবে না, ‘বি’-ও দরকার। সে কথাটাই শুধু বিরোধী দল নয়, নাগরিক সমাজ, বিদেশি পর্যবেক্ষক, জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ তাবৎ মানুষ বলছেন। ‘বি’ ছাড়া নির্বাচন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
ব্রিটেনের সরকারকে জানানো হয়েছে, আপনাদের দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে। তা যদি হতো, তার চেয়ে খুশির কথা আর হয় না। ওসব দেশের পার্লামেন্টের মেম্বারদের স্বাধীন সত্তা রয়েছে। তাঁরা দলেরও প্রতিনিধিত্ব করেন, আবার ব্যক্তিস্বাধীনতাও রয়েছে। কারও দাসত্ব করেন না। তাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে যখন সিরিয়া আক্রমণের প্রস্তাব করেন, তাঁর দলের সদস্যরাও অনেকে তাঁকে সমর্থন দেননি। হেরে গিয়ে তিনি বললেন, এই সংসদের সদস্যরা ব্রিটিশ জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের মতামত শিরোধার্য। এটাই হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের ফর্মুলা।
এই ফর্মুলারই প্রয়োগ দেখা যায় রাষ্ট্রপতিপদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন সিদ্ধান্ত নিলেন—সে সর্বময় ক্ষমতা তাঁর রয়েছে—যে দামেস্কে মিসাইল ছুড়বেন, তাঁর দল ও কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য তাঁকে সমর্থন দেননি। কারণ, তাঁরা কেউ ওবামার চাকর নন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। এসবই হলো গণতন্ত্রের সূত্র ও ফর্মুলা। এর বাইরে নতুন কোনো ফর্মুলা ও সূত্র উদ্ভাবিত হলে তার স্বীকৃতি পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক দেশের এমপিরা প্রথম তাঁদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ, তারপর ভোটারদের কাছে। তারপর দলের কাছে। সবশেষে তাঁদের নেতার কাছে। বাংলাদেশে ঠিক তার উল্টো। বিবেক তো দূরের কথা, ভোটারদের কাছেও দায়বদ্ধতা নেই। হুজুর হুজুর করতে করতে নেতাকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার সৎ সাহসও পান না।
রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে। রাজনীতিকেরা তা জানেন। তবু তাঁরা পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নিতে চান না। মানুষের পরিবর্তনের ইচ্ছাকে সম্মান দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। জোর করে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার প্রবণতা বিপর্যয় ঘটায়। শুধু যে সরকার বা শাসকবিশেষের বিপর্যয় ঘটায় তা নয়, সেই সঙ্গে জাতির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়।
হোসনি মোবারক ৩১ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রইলেন। স্বেচ্ছায় যাননি, গণরোষে ক্ষমতাচ্যুত হন। মিসরীয় বিচারব্যবস্থায় যেদিন আসামি হিসেবে লোহার জালের খাঁচায় পুরে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো তাঁকে আদালতে আনা হয়, সে দৃশ্য দেখে আমার করুণাই হয়। গত রোববার প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এ খাঁচায় আবদ্ধ হোসনি মোবারককে দেখা গেল। টিভিতেও দেখেছি। তাঁর দুই ছেলে আলা ও জামাল খাঁচার মধ্যে গিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলছেন। এই দুই পুত্রকেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিসরের পরবর্তী শাসক বানানোর আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। মসনদে বসার পরিবর্তে খাঁচার মধ্যে গিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলছেন। এটাকে নিয়তি বলব না—কর্মফল। এখন আবার মোহাম্মদ মুরসিও বিচারের মুখোমুখি।
বাংলাদেশ এখন এক বিপজ্জনক তেমাথায়। এখান থেকে সঠিক রাস্তাটি খুঁজে নিতে হবে। জনগণ দিশেহারা। তারা সঠিক নেতৃত্ব চায়। শুধু সংবিধান সংশোধন করে বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন হলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের মনোবৃত্তির পরিবর্তন।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।