গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি…ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ডাজ ডেমোক্র্যাসি ইমপ্যাক্ট ইকোনমিক গ্রোথ :এক্সপ্লোরিং দ্য কেস অব বাংলাদেশ_ বাংলাদেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং তার দু’জন সহকর্মীর এ শিরোনামের একটি গবেষণাকর্ম সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এবং নরওয়ের সিএসআর. মিশেলসন ইনস্টিটিউট বা সিএমআইর ওয়ার্কিং পেপার সিরিজের এটি পঞ্চম প্রকাশনা। গবেষণাকর্মে যুক্ত অপর দু’জন হচ্ছেন সিপিডির জুনিয়র কনসালট্যান্ট সৌর দাশগুপ্ত এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট দ্বিতীয়া জওহর নিথী। গবেষণাকর্মে গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এক কথায়, আমরা গবেষণার ফল এভাবে বলতে পারি_ বাংলাদেশে যে ধরনের গণতন্ত্র বিদ্যমান, তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারছে না। একই সঙ্গে গবেষকরা এ কথাও বলেছেন, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকরা একটি সারণিতে গণতান্ত্রিক পর্ব ও গণতান্ত্রিক পর্বের আগের সময়ের আর্থ-সামাজিক প্রধান প্রধান সূচক তুলে ধরেছেন। এটা তারা তৈরি করেছেন বিশ্বব্যাংক (২০১২) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে।
আমরা এই সারণি বা ছক থেকে দুই আমলের কিছু ধারণা পাই। গণতান্ত্রিক আমলে প্রবৃদ্ধির হার খানিকটা বেড়েছে। স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে। শিশুমৃত্যুর হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, প্রথম আমলের তুলনায় দ্বিতীয় আমলের সময়কাল দ্বিগুণ এবং এই দুই আমলের তুলনা করলে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করি না। এ সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং তার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দেখা যায়।
এটাও সবাইকে মনে রাখতে অনুরোধ করব যে, আমরা ‘গণতান্ত্রিক আমল’ ও ‘স্বৈরতান্ত্রিক আমল’ শব্দ ব্যবহার করছি কেবল নির্বাচনের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে। স্বৈরতান্ত্রিক আমলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে অনির্বাচিত সরকার কিংবা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার। আশির দশকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে লে. জেনারেল এইচএম এরশাদের সামরিক শাসনামলে কিংবা সরাসরি সেনা-তত্ত্বাবধানে। আর গণতান্ত্রিক আমলে উলি্লখিত সময়কালে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকার পরিচালনা বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা জানেন যে, দুই আমলে কাঠামোগত তেমন পরিবর্তন নেই। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক আমলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য নেই। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রয়েছে ঘাটতি। তাদের ভাবনায় তিনটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এক. বিকল্প মত, চিন্তা তুলে ধরায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। এটা থাকতে হবেই। দুই. যা থাকা উচিত নয়_ প্রধান নির্বাহীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। তিন. সব নাগরিকের স্বাধীনতা। কিন্তু গবেষকরা দেখিয়েছেন এবং আমাদের অভিজ্ঞতাতেও জানি যে, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক শাসনামলে শক্তিশালী হয়নি। এটাও লক্ষণীয় যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই নির্বাচিত সরকার স্বৈরতান্ত্রিক ধরনের হয়ে যায়।
এখানে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিয়ে কিছু কথা বলা যায়। স্টেট অব ডেমোক্র্যাসি ইন সাউথ এশিয়া_ এ বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয় ২০০৪-০৫ সময়ে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ২০ হাজার নারী-পুরুষের মতামত নেওয়া হয়েছে এতে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ছিল পাঁচ হাজার জন। বাংলাদেশের যারা মতামত দিয়েছেন তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৫১ শতাংশ) মনে করে, গণতন্ত্রের মূলকথা হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। ৩১ শতাংশ বলেছে সমান অধিকারের কথা। গণতন্ত্র অর্থ হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন_ এমন অভিমত তুলনামূলক কমসংখ্যক লোকের_ ১৩ শতাংশ। অন্য কথায়, গণতন্ত্র বলতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই জোর দিয়েছে সমতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি। আমরা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে গণতন্ত্র দেখছি, সেটাকেই গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ বলতে তারা রাজি নন। আমরা ইউরোপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ জার্মানি ও ইতালিতে নির্বাচনের মাধ্যমে হিটলার ও মুসোলিনির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা জানি। তারা ভোটে জয়যুক্ত হয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা দেখছি জনগণ ন্যায়বিচার, মৌলিক চাহিদা পূরণসহ যেসব বিষয় গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছে, তার অনেকটাই পূরণ হচ্ছে না। গবেষকরা এ বিষয়টিই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তারা কোন ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর অটোরিগ্রেসিভ মডেল ব্যবহার করেছেন_ এ লেখায় এ মডেল নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। আমি কেবল তাদের প্রাপ্ত ফল এবং পরামর্শ-সুপারিশের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ রাখব।
তারা দ্বিতীয় যে বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন সেটা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার। গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা অপরিহার্য। এর তিনটি স্তম্ভ_ প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগ। কিন্তু বাংলাদেশে কার্যত এই ভারসাম্য অনুপস্থিত। লর্ড অকটনের সেই বিখ্যাত উক্তি আমরা স্মরণে নিতে পারি_ পাওয়ার করাপ্টস, অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসলিউটলি। তিন স্তম্ভের মধ্যে যতদিন ভারসাম্য না আসবে; গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। জনগণ বঞ্চিত থাকবে এ ব্যবস্থার প্রকৃত সুফল থেকে।
তৃতীয় একটি বিষয়ের প্রতি আমি মনোযোগ দিতে চাই। আমার মনে হয়েছে, গবেষকদের কাছ থেকে আমরা এ বিষয়টির ওপর তেমন অভিমত পাইনি। গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক। বাংলাদেশের সংবিধানেও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের চর্চা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে যদি গণতন্ত্রের চর্চা না থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার হবে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রক্ষমতার বিন্যাসে একটি নতুন উপাদান আমরা লক্ষ্য করি_ আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশ। দলের কাঠামো অগণতান্ত্রিক হওয়ায় এ ধরনের আঁতাত সহজেই গড়ে উঠতে পারে। এই যোগসাজশ যত বেশি হয়, গণতন্ত্র চর্চা তত খর্ব হয়।
এ সমস্যা কি কেবল বাংলাদেশের? গবেষকরা দেশ-বিদেশের নানা মত তুলে ধরেছেন। তারা এশিয়ান মডেলের কথা বলেছেন, যা ইউরোপের তুলনায় খানিকটা ভিন্নধর্মী। এশিয়ায় আবার দুটি ধারা_ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রয়েছে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশ। সেখানে এক ধরনের আধা-স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান ছিল কিংবা কোথাও কোথাও এখনও রয়েছে। একই সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যে ওঠে না, সেটা হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু দলীয়করণ তারা সাধারণভাবে পরিহার করতে পেরেছে। প্রশাসনসহ সর্বত্রই এর অস্তিত্ব পাওয়া সম্ভব। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই সব দেশে গণতন্ত্রের অনেক কিছুরই অভাব পরিলক্ষিত হতে পারে; কিন্তু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূলে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় অসাধারণ পেশাদারিত্ব। বলা যায়, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো তাদের উন্নয়নে সহায়তা করছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাইরে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ। এসব দেশে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারতন্ত্রের উত্থান ঘটেছে। ভারতে নেহরু পরিবার, শ্রীলংকায় বন্দরনায়েকে পরিবার, পাকিস্তানে ভুট্টো পরিবার। বাংলাদেশে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলেও রয়েছে এ ধারা। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন কথা বলবে। শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমান কেউই রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসেননি। বাংলাদেশের আরও দু’জন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শেরেবাংলা একে ফজলুল হকও নিজেদের যোগ্যতাবলে রাজনীতিতে স্থান করে নিয়েছিলেন। অন্য কথায় বলতে পারি, রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রবণতার উদ্ভব সাম্প্রতিককালে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পার্থক্য এখানে সুস্পষ্ট। এটা আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারা নয়। ভারতে গণতন্ত্র টেকসই। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তারা পিছিয়ে। পরিবারতন্ত্র এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করতে পারি। অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিক্ষা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলংকা শিক্ষায় যথেষ্ট এগিয়ে। অন্য দেশগুলোতে লিখতে-পড়তে-হিসাব কষতে পারাকে এখন পর্যন্ত সাক্ষরতার জন্য অপরিহার্য ধরা হয় না। তারপরও বাংলাদেশসহ এসব দেশ শতভাগ সাক্ষরতা থেকে অনেক পিছিয়ে।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়_ বাইরের উপাদান। ষাট ও সত্তর দশকে ভিয়েতনামে যুদ্ধ চলেছে এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল কয়েকটি দেশে। ওই সব দেশে পেশাদারিত্ব গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে এটা কারণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এটাও বলা হয়, কোথাও কোথাও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে অগণতান্ত্রিক উপায়ে। এর বড় উদাহরণ জার্মানি, জাপান ও ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এসব দেশ মিত্র শক্তি দখল করে নেয় এবং সেখানে বিদেশি সৈন্যের উপস্থিতি দশকের পর দশক ধরে বিদ্যমান। মিত্র শক্তিই ওই সব দেশে গণতন্ত্র ‘বসিয়ে দিয়েছে’। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, নিজেরা গণতন্ত্রের পথে না চলার জন্য তাদের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। গণতন্ত্র অনুসরণ করলে শাসকরা বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে দেশকে পরিচালিত করতে পারত না।
আমরা গণতন্ত্রের ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোচনা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্ব নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবেই সচেতন ছিলেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি এবং সিনেট-প্রতিনিধি পরিষদ ব্যতিরেকে সবই অনির্বাচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠের ‘জবরদস্তি’ ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা। এমনকি রাষ্ট্রপতি এবং সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় মনোনয়ন পেতেও তৃণমূল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসতে হয়।
আমাদের তাহলে উপায় কী? ভরসা মিলবে কোথায়? এজন্য বলব, মানব সভ্যতার প্রতি তাকালেই মিলবে পথের দিশা। বাংলাদেশ নতুন জাতীয় দেশ। আমাদের পতাকা অপেক্ষাকৃত নতুন। কিন্তু সভ্যতা-সংস্কৃতিতে রয়েছে সুমহান ঐতিহ্য। আমাদের রাজনীতিতে ঘাটতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রয়েছি এগিয়ে। আমাদের রাজনৈতিক গণতন্ত্র এখনও ততটা মজবুত নয়। কিন্তু গণতন্ত্রের সুফল অর্থনীতিতে প্রতিফলন ঘটুক_ গবেষকদের যে প্রত্যাশা সেটা পেতে হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড উন্নত করতেই হবে। অন্য দেশের প্রতিও মনোযোগ প্রদান করতে হবে। বিশ্বে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত অনেক দেশ রয়েছে যারা উন্নতি করছে। অনেক দেশ রয়েছে, যারা দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। এসব ভালো দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এখন আমরা দেখছি, প্রচলিত ধারার গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের সামঞ্জস্য মিলছে না। কিন্তু এর সমাধান গণতন্ত্রকে ঝেড়ে ফেলার মধ্যে নেই। বরং পথ খুঁজতে হবে গণতন্ত্রকে উন্নত করার মধ্য দিয়েই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়