অর্ধশতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা

গাজীপুরে আবার বিক্ষোভ, ভাঙচুর

ন্যূনতম বেতন আট হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল রোববার আবারও গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও টঙ্গীতে তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও কর্মবিরতি পালন করেছেন। তাঁরা বাঁশ ও টায়ারে আগুন দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করেন। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে টঙ্গী থানার ওসিসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গতকাল ৭০-৮০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম বেতন আট হাজার টাকার দাবিতে গতকাল সকাল নয়টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ডিভাইন টেক্সটাইল লিমিটেড, ইকুটেক্স লিমিটেড ও ইন্টার স্টপ লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা টায়ার, বাঁশ ও কাঠের টুকরায় আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় দুই পক্ষে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ৩৫ জন আহত হন। পরে শ্রমিকেরা সংগঠিত হয়ে সফিপুর ও পূর্ব চান্দরা এলাকায় ১০-১২টি কারখানায় ভাঙচুর চালান। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

কিছুক্ষণ পর একই দাবিতে কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা এলাকায় পূর্বাণী গ্রুপ, এ টি এস অ্যাপারেলস লিমিটেড, লগুজ অ্যাপারেলস ও জোদস ডিজাইন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা ভাঙচুর ও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একই দাবিতে গাজীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন।

জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাছেদ জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরা ও কোনাবাড়ী এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছেন।

টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় বেলা দুইটার দিকে হামিদ টেক্সটাইল কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় একই এলাকার জাবের জোবায়ের ফেব্রিকস, অনন্ত ফেব্রিকস, শিশির টেক্সটাইল, উইন্ডি অ্যাপারেলসসহ কয়েকটি কারখানার প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প ও টঙ্গী মডেল থানার পুলিশ শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। এ সময় শ্রমিকদের হামলায় টঙ্গী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশের ১৫ জন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আশপাশের ১০টি ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তাঁরা রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে কর্তৃপক্ষ আশপাশের প্রায় ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকার সেনা কল্যাণ ভবনে আবা গ্রুপ কারখানায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন শ্রমিকেরা। পরে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

হামিদ টেক্সটাইলের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিমউদ্দিনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। জাবের জোবায়ের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব সময় শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করি। আজ পাশের কারখানার পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক শওকত কবীর জানান, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কালিয়াকৈর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টঙ্গী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে রাস্তায় নামায় পুরো এলাকা অবরুদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।