গাড়ির ধীরগতি এলোমেলো ট্রেনের সময়সূচিও

ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা মহানগরী। ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করতে বাস-ট্রেন-লঞ্চে চেপে লোকজন বাড়ি ফিরছে। যানবাহনের বাড়তি চাপে গতকাল শনিবার রাজধানীর প্রধান তিনটি প্রবেশপথে তীব্র যানজটে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বিশেষ করে কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী পথে যানজট ছিল সবচেয়ে তীব্র। মেয়র হানিফ উড়াল সড়ক চালু হলেও টোল নিয়ে জটিলতার কারণে প্রথম দিনে এটি দুর্ভোগ লাঘবে খুব বেশি সহায়ক হয়নি। টোলের হার বেশি হওয়ায় গাড়িচালকদের একটি বড় অংশ এই উড়ালপথ ব্যবহার করতে পারেনি। অনেক চালক উড়ালপথে উঠেও ফিরে যান। মহাসড়কেও গাড়ির গতি ছিল ধীর। এ কারণে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছে দেরিতে।
গতকাল কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে সময়মতো উপস্থিত হয়েও নির্দিষ্ট ট্রেনের দেখা পায়নি যাত্রীরা। কোনো কোনো ট্রেনের দেখা মিলেছে এক ঘণ্টা পর।
সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই বাড়িমুখো মানুষের ভিড় ছিল। তবে যানজটের কারণে ফিরতি বাস না আসায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে টার্মিনালে। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় মেয়র হানিফ উড়াল সড়ক দিয়ে গুলিস্তান থেকে কুতুবখালী অংশ পর্যন্ত যেতে চার মিনিট লেগেছে। ফিরে আসতেও একই সময় লেগেছে। ওই সময় নরসিংদী, ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার অল্পসংখ্যক মিনিবাস উড়াল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। বেশির ভাগই ছিল ব্যক্তিগত গাড়ি। সেতুর ওপর থেকে দেখা যায়, নিচে বিভিন্ন স্থানে লেগে আছে যানজট। কুতুবখালী অংশের টোল প্লাজা ঘুরে ফিরতি পথে দনিয়ার রসুলপুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাস ও ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক গাড়ি উড়াল সড়কে উঠছে। বেশির ভাগই পাশের ভাঙা পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও আশপাশের বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোর বড় অংশকেই নিচ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সায়েদাবাদেও ছিল তীব্র যানজট। শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী মিনহাজ হোসেন বলেন, ‘ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে না। কারণ, টোল নিয়ে আজ হাতাহাতি হয়েছে।’
গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল ৮টায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছে যাত্রীরা। টিকিট হাতে বসে আছে, কিন্তু বাসের দেখা নেই। তাই তাদের চোখে-মুখে হতাশা। সাকুরা পরিবহনের টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আফজাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভিড়ের কারণে বুঝতেও পারছি না বাস এসেছে কি না। গাড়ির কাউকে পাচ্ছি না।’ আট বছরের শিশু নিশাতকে নিয়ে পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য সাকুরা পরিবহনের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সাবেরা বেগম। টার্মিনালে দীর্ঘ অপেক্ষায় শিশুসন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
কোহিনুর পরিবহনের যাত্রী নাদিরা বেগম জানান, তিনি মাগুরা যাওয়ার জন্য টিকিট হাতে বসে আছেন। বাসের দেখা মিলছে না।
ট্রেনে বিলম্ব : কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ট্রেনের দ্বিতীয় দিন দিনাজপুরগামী অগ্নিবীণা সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় সকাল সাড়ে ১০টায়। মহানগর প্রভাতী আধঘণ্টা, রংপুর এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট, একতা এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট, বলাকা এক্সপ্রেস ৩২ মিনিট এবং তিতাস ৪৫ মিনিট দেরিতে ছেড়ে যায়। মহানগর পারাবত ছাড়ে আধঘণ্টা দেরিতে। অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের যাত্রী আহসান হাবীব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, ট্রেনের দেখা নেই।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির গতি কম : আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গাড়ি চলেছে ধীরগতিতে। গতকাল সকালের পরই গাড়ি চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসে গিয়ে দেখা যায়, অন্য সময়ের চেয়ে গাড়ির সংখ্যা বেশি হলেও কোথাও গাড়ি থেমে নেই। হাইওয়ে এলেঙ্গা ফাঁড়ির সার্জেন্ট কামরুজ্জামান রাজ জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। নতুন করে কোনো গাড়ি বিকল হয়নি। গাড়ির চাপ থাকলেও যানজটে থমকে যায়নি মহাসড়ক।
গোড়াই হাইওয়ে ফাঁড়ির ওসি জোবায়দুল আলম জানান, অতিরিক্ত গাড়ির চাপে মাঝেমধ্যে গাড়ির গতি কমে গেছে। এ জন্য যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের দরুন বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনগুলো গতকাল চলেছে ধীরগতিতে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজার ওজন স্টেশনে পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো ওজন করে সেতু পার হতে কিছুটা বেশি সময় লাগায় এ অংশে গাড়ির গতি ছিল খুবই ধীর। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ পৌঁছে যাত্রী শামীম কালের কণ্ঠকে জানান, দীর্ঘ যানজট ছিল না। কিন্তু ধীরগতির জন্য যাত্রায় ৯ ঘণ্টা লেগেছে।