গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে চাইছেন না কেউ

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে চাইছেন না কেউ

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানও খুঁজে পাচ্ছে না সরকার। সরকারের শেষ সময়ে এসে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে কেউ রাজি হচ্ছেন না।

এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় আগামী ৩ ডিসেম্বরের আগে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও (এমডি) নিয়োগ দিতে পারছে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার জন্য। কাউকে পাওয়া না গেলে পদত্যাগী চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হকই কাজ চালিয়ে যাবেন।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা আছেন এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তি, সাবেক সচিব, গ্রামীণ ব্যাংকেরই শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জন্মবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও কেউই তা দিচ্ছেন না।

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পরবর্তী চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত মোজাম্মেল হক সহযোগিতা করে যাবেন।’

এদিকে, ২০১১ সালের ১২ মে হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত কোনো এমডি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নূরজাহান বেগম তখন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ওই বছরেরই ১৪ আগস্ট নিয়মিত অবসরে যান নূরজাহান বেগম।

এরপর পদোন্নতি পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) থেকে ডিএমডি হন মো. শাহজাহান। তিনি ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ ব্যাংকে নিয়মিত এমডি নেই। এমডি নিয়োগের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান গঠিত এ সার্চ কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ২৬ নভেম্বর আদালতে গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন ওই ব্যাংকেরই ঋণগ্রহীতা পরিচালক তাহসিনা খাতুন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সার্চ কমিটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন আদালত।

তাহসিনা হোসেনের পক্ষে রিট পরিচালনাকারী ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের আইনজীবী সারা হোসেন। বিদেশে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের অপর আইনজীবী তানিম হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ‘এক সপ্তাহ আগে ৩ সেপ্টেম্বর আদালত সার্চ কমিটির স্থগিতাদেশের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছেন। সে হিসাবে অন্তত আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সার্চ কমিটি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে কোনো কাজ করতে পারবে না।’

এদিকে, এই স্থগিতাদেশের ব্যাপারে গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, সার্চ কমিটির কাজ বন্ধ করার পেছনে ড. ইউনূসের হাত রয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর মতে, সার্চ কমিটির কাজ বন্ধ করতে গ্রামীণ ব্যাংককে বিবাদী করা হয়েছে, অথচ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে রাখা হয়েছে অন্ধকারে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে পাঠানো চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বিষয়টিতে সরকারকে একটি পক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক তাহসিনা খাতুন। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সার্চ কমিটি গঠনটাই তো অবৈধ। পর্ষদের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের কমিটি গঠন করার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমার নাম সার্চ কমিটিতে ছিল। অথচ আমি তা জানতামই না।’

যোগাযোগ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিঠি আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। দেখা যাক, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন কী করা যায়।’