চূড়ান্ত প্রতিবেদনে হ্যাপীর নারাজি, জামিন বাড়ল রুবেলের

Hapyy_Rubel
ধর্ষণের অভিযোগ থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর নারাজি আবেদনের শুনানি হবে আগামী ২০ মে।

মামলার আসামি রুবেলকে ওইদিন পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসলাম।

পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানির জন্য রুবেল ও হ্যাপী দুজনেই রোববার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মহানগর হাকিম আদালত রুবেলকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন দিয়েছিল। পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় এদিন নতুন করে জামিনের আবেদন করেন এই ক্রিকেটার। তার পক্ষে শুনানি করেন মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব।

অন্যদিকে হ্যাপীর আইনজীবী আবদুল্লাহ মনসুর রিপন পুলিশের প্রতিবেদনের বিষয়ে হ্যাপীর নারাজি আবেদন তুলে ধরেন এবং রুবেলের জামিনের বিরোধিতা করেন। হ্যাপীর আরেক আইনজীবী তুহিন হাওলাদারও শুনানিতে ছিলেন।

নারাজি আবদেনে বলা হয়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ‘সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলেই’ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। ‘মনগড়া তদন্তের মাধ্যমে’ তিনি আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন।

পুলিশের দেওয়া এই তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে অধিকতর তদন্ত চাওয়া হয়েছে হ্যাপীর এই আবেদনে।

অন্যদিকে রুবেলের জামিনের বিরোধিতা করে হ্যাপীর আইনজীবী বলেন, “তার জামিন হতে পারে না, কেননা সে আমার মক্কেলকে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা দুটো জিডিও করেছি।”

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক হ্যাপীর নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য ২০ মে দিন ঠিক করে দেন এবং ওইদিন পর্যন্ত রুবেলকে জামিন দেন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিরপুর থানায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন হ্যাপী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেল বলে আসছেন, এই তরুণী তাকে ‘ব্ল্য্যাকমেইল’ করছেন।

এ মামলায় বিশ্বকাপের আগে চার দিন কারাগারেও ছিলেন রুবেল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক (ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক হালিমা খাতুন গত ৬ এপ্রিল মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাপী ধর্ষণের যেসব আলামত উপস্থাপন করেছিলেন তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাদীকে পরীক্ষা করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডও বলেছে, জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো আলামত তারা পাননি।

ঢাকার মহানগর হাকিম আতাউল হক চূড়ান্ত প্রতিবেদনটিসহ এ মামলার নথিপত্র শুনানির জন্য গত ১৩ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।

এরপর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী। তার অভিযোগ, শুনানিকে ঘিরে তাকে ফোনে কটূক্তি করা, প্রলোভন দেখানো, এমনকি হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

রুবেলের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ঠেকাতে হাই কোর্টেও গিয়েছিলেন ‘কিছু আশা কিছু ভালবাসা’ চলচ্চিত্রের নায়িকা হ্যাপী, তবে আদালত তার সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি।