আওয়ামী লীগ এখনো অনড়

জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সংবিধান সংশোধন নয়

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ছোটখাটো সংশোধন হতে পারে। তবে সংবিধান সংশোধনে সম্মত নয় আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনো অনড় সরকারি দল। দলের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, তাঁরা জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে চান।আগামী নির্বাচন নিয়ে আইনগত খুঁটিনাটি দেখার জন্য কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগ ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠক করছেন। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বাসভবনে সংবিধান, আরপিও এবং বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার এবং আইনসচিব শহীদুল হক এসব বৈঠকে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চলতি অধিবেশন ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটাই হবে জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক যাওয়ার আগ পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলবে। এরপর তা মুলতবি করা হবে। চূড়ান্ত না হলেও প্রধানমন্ত্রী ২০-২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যেতে পারেন। আইন মন্ত্রণালয় ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অধিবেশন চালানো যাবে বলে মত দিলেও আওয়ামী লীগের নেতারা বিতর্ক এড়াতে ২৪ অক্টোবরের বেশি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হননি।সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় জানায়, নির্বাচন সংসদের মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ দিন, নাকি পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে হবে, তা এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। তবে যেটাই হোক, সরকার জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে।এদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে বলা হয়েছে, সাংসদ পদ লাভজনক নয়। এ ব্যাপারে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একজন নির্বাচন কমিশনার সাংসদ পদকে লাভজনক বলেছেন। তা ছাড়া জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ লাভজনক কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যায় না। সাংসদ পদ লাভজনক হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, আরপিওতে খুব বড় ধরনের সংশোধনী আনা হবে না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ফি দ্বিগুণ করে ২০ হাজার টাকা করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। নির্বাচনী আইন ভঙ্গের জন্য জরিমানা বা শাস্তির পরিমাণও দ্বিগুণ করা হবে। তা ছাড়া আরপিওতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করা হবে। রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তা কোনো কারণে দলের নির্দেশে প্রত্যাহার করতে সম্মত না হলে তখন ওই দলের সভাপতির সম্মতিতেই প্রত্যাহার করা যাবে। এ রকম একটি বিধান আরপিওতে রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, সংলাপে সমঝোতার অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির চিঠির জবাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের সময় জন কেরির সঙ্গে বৈঠককালে তিনি তাঁর চিঠির লিখিত জবাব দেবেন। এ ছাড়া মৌখিকভাবেও কেরিকে পরিস্থিতি বর্ণনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গেও বৈঠক করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে যেতে সম্মত নয়। তা ছাড়া দলটির নেতারা মনে করেন, বিএনপি মুখে সংলাপের কথা বললেও তারা মূলত সংলাপ চায় না। বরং বিরোধী দল সরকারকে কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলে তাদের দাবি আদায় করতে চায়। আওয়ামী লীগ সে পথে যেতে চায় না।