জাফরদ্বেষ: তোপের মুখে আওয়ামী এমপি

Sylhet_MP
লেখক ও কলামনিস্ট মুহম্মদ জাফর ইকবালকে চাবুক মারার ইচ্ছা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়ে ফেইসবুকে তার ভক্তদের তোপের মুখে পড়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

সিলেট ৩ আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় এ ধরনের একটি মন্তব্য করেন, যা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, “আমি যদি বড় কিছু হতাম, তাহলে ধরে তাকে (জাফর ইকবাল) আমি চাবুক মারতাম।… তাকে আমি চাবুক মারতাম।

“শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে সিলেটি ছেলেদের ভর্তি না করার বিষয়ে যতো আইন কানুন আছে তারা করেছে। এই যে কি এটা, কি এটার নাম, জাফর ইকবাল, এর… সে চায় না এই সিলেটের মানুষ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক। আর এই সিলেটের মানুষ তাকে ফুল চন্দন দিয়ে, প্রত্যেক দিন সুন্দর সুন্দর ফুল নিয়ে প্রত্যেক দিন মূর্তি পূজা করতে যায়।”

মাহমুদ উস সামাদের এ মন্তব্যের সমালোচনার মধ্যে জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে একটি মিছিল করে সিলেট ছাত্রলীগ। সেখানে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের এই অধ্যাপকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিও দাবি করা হয়।

আলোচিত একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মিছিলে স্থানীয় গণমাধ্যমের একজন সাংবাদিক মিছিলকারীদের জিজ্ঞাসা করে- কেন এ মিছিল? সরকার সমর্থক একজন মিছিলকারী এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

ভিডিওটি ঘুরছে ইউটিউটব ও ফেইসবুকে।

ভিডিওটিতে এক সরকার সমর্থককে বলতে শোনা যায়, “এই কুলাঙ্গার জাফর ইকবাল যে অবমাননা করেছে, এই মুহূর্তে আমরা তার নিন্দা ও কঠোর শাস্তি চাই।”

এ পর্যাযে এক গণমাধ্যমকর্মী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “তিনি কী অবমাননা করেছেন?”

জবাবে সরকার সমর্থক অপ্রস্তুত হয়ে বলেন, “উনি আমার নেতাকে… না মানে বিষয়টি জানি না।”

সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বক্তব্যের সমালোচনা করে সঞ্জীবন সুদীপ নামে এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যে বিষয়টা ফোকাসে আসেনি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক এবং মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসার একমাত্র ঠিকাদার আওয়ামী লীগের এই এমপি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক। খেয়াল করবেন, মূর্তিপূজার প্রসঙ্গ, যা এতদিন জামায়াত আর হেফাজতকেই বলতে শুনেছি। ডিয়ার আওয়ামী লীগ, হোয়াটস অন ইয়োর মাইন্ড।”

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের নূরপুর গ্রামে। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (শিরু মিয়া) মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির থানা সভাপতি ছিলেন বলে ‍স্থানীয়রা জানান।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হবিবুল ইসলাম শাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যুদ্ধের সময় আমি ভারতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এসে শুনি তিনি পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।”

জাফর ইকবালের অনুসারীদের অনেকেই এই বিষয়টি উল্লেখ করে মাহমুদ উস সামাদের সমালোচনা করছেন।