জামায়াত-শিবিরের শোডাউন

প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তাণ্ডব চালানোর পর থেকে এই অঞ্চলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু গতকাল রবিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১৮ দলীয় জোটের জনসভাকে কেন্দ্র করে আবার চাঙ্গা অবস্থায় দেখা গেছে তাদের। জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ জনসভায় বক্তব্য দেন।
জনসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। দুপুর ২টায় জনসভা শুরুর সময় দেওয়া থাকলেও সকাল ৮টার পর থেকেই রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে থাকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে ছিল গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ সারির নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন এবং তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়ে লেখা প্লাকার্ড। তারা জনসভা মঞ্চের সামনেই অবস্থান নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত নেতাদের পাশাপাশি অন্য নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি করতে থাকে।
উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় তাদের ক্যাডাররা। এতে পুলিশসহ বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর রংপুর অঞ্চলে প্রকাশ্যে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি জামায়াত-শিবিরের। কিন্তু গতকালের চিত্র ছিল ভিন্ন। জনসভায় তাদের সরব উপস্থিতি সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে রংপুরে জনসভার ঘোষণা দেওয়ার পরই মূলত নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিতে থাকে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। কয়েকদিন আগে কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ভালোভাবেই জানান দেয় তারা। আর সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য বেছে নেয় গতকালের জনসভাকে। এ জনসভা সফল করার আহ্বান জানিয়ে এবং নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে অনেক আগে থেকেই দলীয় পোস্টারে পুরো এলাকা ছেয়ে ফেলে তারা।
জামায়াতের স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্র্মীরা এক দিন আগে থেকেই রংপুর শহরের আশপাশে অবস্থান করে এবং সকালেই তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেয়।’