জিন্নাহর হারানো ভাষণ…হাসান ফেরদৌস

পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দুটি পুরোনো ভাষণের রেকর্ড করা টেপ সপ্তাহ দুয়েক আগে অল ইন্ডিয়া রেডিও তার নিজের মহাফেজখানা থেকে খুঁজে বের করে তা পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছে। ভাবা হয়েছিল, এগুলোর মধ্যে ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট জিন্নাহর দেওয়া একটি বিখ্যাত ভাষণও আছে। সেই ভাষণে জিন্নাহ পাকিস্তানকে সব ধর্মের মানুষের দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টানকে যে যার ধর্ম পালনে স্বাধীন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন জানা গেছে, টেপ দুটিতে সেই ভাষণ নেই। ভারত বা পাকিস্তানে কারও কাছেই সেই ভাষণের রেকর্ড করা টেপ সম্ভবত নেই। করাচিতে পাকিস্তানের আইন পরিষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দেওয়া জিন্নাহর সেই ভাষণের কপি সম্ভবত খোদ পাকিস্তানিরা নিজেরাই নষ্ট করেছে।
এ কথা ভাবার কারণ আছে। পাকিস্তান একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র, মুসলমান বলেই তারা ভারতীয় হিন্দুদের থেকে একটি স্বতন্ত্র জাতি—এই যুক্তির ভিত্তিতে দেশটির প্রতিষ্ঠা। অথচ সে দেশ হতে না-হতেই তার স্বপ্নদ্রষ্টা বলে বসলেন, পাকিস্তান শুধু মুসলমানের নয়, সেখানে যে যেমন খুশি ইচ্ছামতো তার ধর্ম পালন করবে। এ তো একেবারে গোড়ায় গলদ। তাহলে আর ভারত ভেঙে দুই টুকরা করা কেন! কেন এত রক্তারক্তি!
বলাই বাহুল্য, পাকিস্তানের মোল্লাতন্ত্র ব্যাপারটাকে ভালো চোখে দেখেনি। জিন্নাহ নিজ হাতে সেই ভাষণ লিখেছিলেন, কিন্তু সেটির কোনো লিখিত কপি নেই, কোনো রেকর্ড করা টেপও নেই। ভাষণটি পরের দিনের পত্রিকায় যথাসম্ভব কাটছাঁট করে ছাপা হয়েছিল। তার পরের ৬০ বছর পাকিস্তানের নেতারা আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন সেই ভাষণের কথা যতটা সম্ভব গোপন রাখতে।
তবে পাকিস্তানের ভেতর যাঁরা উদারনৈতিক ভাবনাচিন্তার অনুসারী, যাঁরা পাকিস্তানকে শুধু একটা মোল্লাতন্ত্র হিসেবে দেখতে চান না। নিজেদের লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে তাঁরা জিন্নাহর সেই ভাষণকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। সেখানে যে কজন মানুষ এখনো কোনো রাখঢাক ছাড়া নিজেদের ‘সেক্যুলার’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন, খ্যাতনামা আইনজীবী আইতাজ আহসান তাঁদের একজন। পাকিস্তান শুধু ধর্মভিত্তিক একটি দেশ নয়, এই রাষ্ট্র গঠনের পেছনে যেমন ভৌগোলিক সন্নিবিষ্টতা কাজ করে, তেমনি কাজ করে তার অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। এই যুক্তি বগলে নিয়ে তিনি ২০০৫ সালে লিখেছিলেন দি ইন্দাস সাগা অ্যান্ড দ্য মেকিং অব পাকিস্তান নামে একটি বই। আইতাজ যুক্তি দেখিয়েছেন, আজ যাকে আমরা পাকিস্তান বলে জানি, সে প্রকৃতপক্ষে একটি অতি প্রাচীন, সমৃদ্ধ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ। ভৌগোলিক অর্থে সে ভারতীয়, তবে তার প্রধান পরিচয় ভারতীয় নয়, সে ‘সিন্ধুমানব’, যা গড়ে উঠেছে সিন্ধু নদ ও তার শাখানদীগুলোর অববাহিকায়। ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়েও সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্ন এই সিন্ধুমানবের ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরেরও পুরোনো।
সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্গত মানুষ হিন্দু, খ্রিষ্টান ও মুসলমান ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অন্তর্গত হলেও সাংস্কৃতিকভাবে তারা পরস্পরের নিকটবর্তী—এটি আইতাজের কেন্দ্রীয় বক্তব্য। তার চেয়েও বড় কথা, আইতাজ তাঁর সিন্ধু সভ্যতার সঙ্গে কোনোভাবে আরব বা মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে গুলিয়ে ফেলতে চান না। মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব সীমানায় অবস্থিত এই সভ্যতা পারস্য সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত, কিন্তু উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত বরাবর ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে তার কোনো সরাসরি নির্ভরশীলতা ছিল না। এমনকি আরব সভ্যতা দ্বারাও সে প্রভাবিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মাধ্যমে এই সিন্ধু ও গাঙ্গেয় সভ্যতার ইতিহাসের নবায়ন করা হয়, অর্জিত হয় তাদের ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্বের পুনঃস্বীকৃতি। আইতাজ আহসানের দাবি, এই সিন্ধুমানব কেবল উদারনৈতিক, ভিন্নমতসহিষ্ণু ও একাধিক ধর্মীয় চেতনারই অঙ্গীভূতই নয়, সে বৈদিক সভ্যতারও উত্তরাধিকারী। জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা, তেমনই এক সিন্ধুমানব।
আইতাজ তাঁর এই সিন্ধুমানবের তাত্ত্বিক কাঠামো নির্মাণ করতে গিয়ে হাত বাড়িয়েছেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সেই ভাষণের দিকে। আইতাজ দাবি করেছেন, জিন্নাহর সেই ভাষণ থেকেই স্পষ্ট, রাজনৈতিক কারণে এর আগে তিনি যে কথাই বলে থাকুন না কেন, স্বাধীন পাকিস্তানকে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করার কোনো চিন্তাই তাঁর মাথায় ছিল না। জিন্নাহকে সেক্যুলার বানানোর এই চেষ্টার জন্য কেউ কেউ আইতাজকে ‘পাকিস্তানবিরোধী’, ‘ভারতের দালাল’, ‘ধর্মহীন-নাস্তিক’ ইত্যাদি নামে কুৎসিতভাবে গাল দিয়েছিলেন। যুক্তিপূর্ণভাবে তাঁর সমালোচনা করেছিলেন, এমন লোকও দু-চারজন ছিলেন। তাঁদের একজন ড. ওয়াহিদ কুরেশি। ১৯৯৮ সালে ইসলামাবাদে এক সেমিনারে আইতাজ আহসানকে সামনে রেখেই তিনি ভূরি ভূরি উদাহরণ টেনে এ কথা প্রমাণ করেন, ওই এক ভাষণ দিয়ে জিন্নাহকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বানানো যাবে না। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জিন্নাহর সব ভাষণ তন্নতন্ন করে খুঁজে তিনি দেখান, জিন্নাহ কম করে হলেও ৯০ বার ইসলামের পক্ষে তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন। তাঁর দাবি অনুসারে, ১১ আগস্টের যে ভাষণটি আইতাজ আহসান উদ্ধৃত করেছেন, তা অসম্পূর্ণ। তা ছাড়া সেই ভাষণ জিন্নাহ এমন এক সময় দিয়েছিলেন, যখন তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধ করা। দেশের হিন্দুদের আশ্বস্ত করতেই তিনি সেই ভাষণ দিয়েছিলেন, এই মর্মে আবু আলা মওদুদীর একটি বিশ্লেষণ থেকেও উদ্ধৃতি দেন ড. কুরেশি। তিনি যুক্তি দেখান, জিন্নাহ ১১ আগস্ট কী বলেছিলেন, তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নবগঠিত রাষ্ট্রের নীতিগত ভিত্তি বিষয়ে তাঁর অভিমত। এ ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র মেলে ঠিক দুই মাস পর, ১৯৪৭ সালের ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে এক ভাষণে। তাতে জিন্নাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, একমাত্র ইসলামের বিধান অনুসারেই পাকিস্তান পরিচালিত হবে।
শুধু ইসলামপন্থী লেখক-বুদ্ধিজীবীরাই নন, তথাকথিত সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরাও আইতাজ আহসানের বিরোধিতা করেছিলেন। যেমন, আমেরিকায় পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্কানি লিখেছেন, মুসলমানদের মধ্যে সমর্থন জোরদার করতে জিন্নাহ ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগ কোনো রাখঢাক ছাড়াই ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রতি আবেদন জানান। জিন্নাহ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবাপন্ন হলেও ১৯৪৫-৪৬ সালে তাঁদের রাজনৈতিক আন্দোলন পুরোপুরি ইসলামিক বাগ্মিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই সময় মুসলিম লিগের বিরোধিতায় কংগ্রেসের তরফ থেকে উদারপন্থী জামিয়াত-এ-উলামাদের কাজে নামানো হয় পাকিস্তান দাবির অসারতা প্রমাণে। তার জবাবে মুসলিম লিগও নিজেদের ধর্মগুরুদের মাঠে নামায়। একদিকে রাজনৈতিক নেতাদের ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতি, অন্যদিকে ধর্মগুরুদের একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করার আহ্বান—এই দুই মিলে যা দাঁড়াল, তার কারণে পাকিস্তান ও ইসলাম একদম একার্থবোধক হয়ে পড়ল।
হাক্কানি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রচারণায় যে ধর্ম ও ধর্মীয় চেতনা ব্যবহূত হচ্ছে, তা জিন্নাহ খুব ভালোই জানতেন। জিন্নাহ যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের যথেচ্ছ ব্যবহারে প্রস্তুত ছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে হাক্কানি দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজন করেছেন। ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে লেখা এক চিঠিতে মানকা শরিফের পীর সাহেবের কাছে এই প্রতিশ্রুতি দেন যে ‘পাকিস্তানের আইন পরিষদ, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানদের প্রাধান্য থাকবে, ইসলাম ও শরিয়াবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না।’ প্রায় একই সময়ে পাঠান ও উপজাতি সদস্যদের কাছে দেওয়া এক ভাষণে জিন্নাহ বলেন, ‘পাকিস্তানকে সমর্থন জানানো মুসলমানদের কর্তব্য। সে কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে আপনারা শূদ্রে পরিণত হবেন, ভারতের মাটি থেকে ইসলাম চিরদিনের মতো নিশ্চিহ্ন হবে। মুসলমানরা হিন্দুদের দাসে পরিণত হবে। এ আমি কিছুতেই হতে দেব না।’
দেশভাগের আগে পাকিস্তানের পক্ষে যে আন্দোলনে গড়ে ওঠে, তা যে সম্পূর্ণ ধর্মীয় ছিল, হাক্কানি সে কথা জোর দিয়েই বলেছেন। জিন্নাহকে ‘সেক্যুলার’ বানানোর চেষ্টার কোনো মানে হয় না। ফারজানা শেখ বা আয়েশা জালালের মতো ইতিহাসবিদেরাও সে কথার সঙ্গে একমত। সমস্যা বাধল দেশভাগের পর। যারা পাকিস্তানে রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ করবে ভেবেছিল, তাদের পক্ষে সাধারণ নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী ‘ইসলাম’ সরবরাহ করা অসম্ভব ছিল। ফলে এই কাজে যাঁরা অধিক দক্ষ ও পেশাদার, অর্থাৎ ধর্ম ব্যবসায়ী ওলামারা, তাঁরা খুব সহজেই রাজনৈতিক হর্তাকর্তাদের নিজেদের হাতের থাবার নিচে নিয়ে আসেন, অথবা নিজেরাই রাজনৈতিক নেতা বনে বসেন। উদাহরণ হিসেবে মওদুদী ও তাঁর জামায়াতে ইসলামীর কথা বলা যায়। মওদুদী পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেন এবং জিন্নাহসহ মুসলিম লিগের অধিকাংশ নেতাকে কাফের বলে মুণ্ডপাত করেন। দেশভাগের পর তিনি বলা শুরু করেন, দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের জন্য ‘শরিয়া’ মোতাবেক আইন বানাতে হবে। মওদুদী জামায়াতের যে নতুন স্লোগান নির্বাচন করেন, তার মোদ্দা কথা ছিল, পাকিস্তান আল্লাহর দান। একমাত্র আল্লাহর আইন এই দেশে বলবৎ থাকবে। শুধু ধার্মিকভাবে শুদ্ধ (অর্থাৎ ওলামারা নিজেরাই) এ দেশের ক্ষমতা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবেন। মওদুদী বা জামায়াতকে ঘৃণা করলেও পাকিস্তানি রাজনীতিকেরা ‘লেজিটিমেসি’ আদায়ের লক্ষ্যে যে ভাষায় কথা বলা শুরু করেন, তাতে ভোল পাল্টানো মওদুদীর ভাষারই অনুরণন ছিল। জিন্নাহর কাছ থেকেই তাঁরা সে কাজের পক্ষে যুক্তি ও অনুপ্রেরণা খুঁজে নেন।
ধর্মকে রাজনৈতিক প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু করলেও পাকিস্তান যে অবশেষে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে, জিন্নাহ এ রকম একটি বিপদের আশঙ্কা তাঁর পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করেননি। কোনো কোনো পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবী সে কথা বলে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু মুসলমানদের জন্য আবাসভূমি, তা ‘ইসলামিক’ না হয়ে অন্য আর কী হবে, এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর অবশ্য এসব বুদ্ধিজীবীর ভাষ্যে মেলে না। জিন্নাহ যদি ইসলামের ব্যবহার শুধু কৌশলগত উদ্দেশ্যে করে থাকেন, দেশভাগের পর তাঁর সহকর্মীদের বুঝতে খুব একটা বিলম্ব হয়নি যে দেশের মানুষকে সেক্যুলার রাজনীতির বড়ি গেলানোর চেয়ে অনেক সহজ হবে ধর্মকে পতাকা বানিয়ে ওড়ানো। এ কথা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে দেশভাগের পর যাঁরা পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ভারত থেকে আসা মোহাজের। দেশের রাজনীতিতে এসব ‘মোহাজের’ রাজনীতিকদের জোরালো কোনো খুঁটি ছিল না। নতুন পাকিস্তানে তাঁদের সুনির্দিষ্ট জনসমর্থনের অভাব ছিল। ১৯৫১ সালে জিন্নাহর ডান হাত, তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের উত্তরসূরি লিয়াকত আলী খান নিজেই আগ বাড়িয়ে তথাকথিত ‘প্রিন্সিপাল রেজুলেশন’-এ সম্মত হন, তা কেবল নীতিগত মতৈক্যের কারণে নয়, নিজেদের গায়ের চামড়া বাঁচানোর জন্যও বটে। খোদ জিন্নাহই তাঁদের সে পথ দেখিয়ে গেছেন। যে ৯০টি ভাষণের কথা ড. কুরেশি বলেছেন, তাতে এ কথার ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়ে গেছে।
পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টার ১১ আগস্টের হারানো টেপ যদি খুঁজে পাওয়াও যায়, তাতে বর্তমান পাকিস্তানের অবস্থার খুব যে হেরফের হবে, সে কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। দেশটাকে তিনি নিজে যে গাড্ডায় টেনে নামান, তা থেকে উদ্ধার পাওয়া পাকিস্তানের সম্ভব হয়নি। হয়তো হবেও না।

নিউইয়র্ক
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।