জেলখানায় শেখার অনেক কিছু আছে: রনি

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। সাংবাদিক পেটানোসহ তিন মামলায় ৫৩ দিন কারাগারে কাটানোর পর সোমবার বেলা ১১টা ১২ মিনিটে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-২ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। কারা তত্ত্বাবধায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সাংবাদিক পেটানোসহ তিন মামলার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে আসার পর তা যাচাই-বাছাই করে গোলাম মাওলা রনিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের পর ২৫ জুলাই রাতে তাকে ঢাকা থেকে এ কারাগারে আনা হয়। কাশিমপুর কারাগারে রনি ছিলেন ‘ভিআইপি বন্দিশালা’ সুরমা ভবনের দোতলার একটি কক্ষে। ওই ভবনেই বন্দি আছেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস আল মামুন, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী ও এটিএম আজাহারুল ইসলাম।

সোমবার রনিকে কারা ফটকে স্বাগত জানান স্ত্রী কামরুন্নাহার, ছেলে রিসাত, ছোটভাই শহীদুল হাসান কবীর ও গোলাম জিলানীসহ স্বজনরা। অবশ্য যখন গাজীপুরের কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়, তখন খুব বেশি নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

কারা ফটকে এসময় রনি সাংবাদিকদের বলেন, জেলখানা মানুষের জন্য একটা বিরাট শিক্ষা ক্ষেত্র। আমি প্রায় এক মাস ২০ দিন জেল খেটে যে শিক্ষা গ্রহণ করলাম, আমার চেষ্টা থাকবে এজন্য অনন্য মানুষ হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। আমার নামে তিনটি মামলা রয়েছে। যেগুলো আদালতে বিচারাধীন। এ কারণে বিচারাধীন বিষয়ে কোনো কিছু বলাটা সমীচীন হবে না। জেলখানার যে পরিবেশ ছিল, যে প্রতিবেশ ছিল এর প্রত্যেকটা জায়গা থেকে আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি শিক্ষা গ্রহণ করার একজন ভালো মানুষ হওয়ার, সমাজের একজন সুনাগরিক হওয়ার জন্য। এই শিক্ষাটা আগামী দিনগুলোতে আমার কর্মজীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি অনুসরণ করব নিজে পালন করব, অন্য মানুষকে যারা আমার কথা অনুসরণ করে তাদের অনুরোধ করব এ অনুযায়ী চলার জন্য।

এরপর সংসদের স্টিকার লাগানো কালো রঙের একটি জিপে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন গোলাম মাওলা রনি।

উল্লেখ্য, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘তালাশের’ তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০ জুলাই পল্টনে রনির কার্যালয়ে গিয়ে সংসদ সদস্য রনি ও তার ক্যাডারদের হামলার শিকার হন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ মমিন সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুল। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এসময় সংসদ সদস্য রনি নিজেই প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানের ওপর চড়াও হয়ে লাথি মারেন এবং ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। ঘটনার পর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ রনিকে আসামি করে শাহবাগ থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে। রনি পরদিন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেও টেলিফোনে হুমকির অভিযোগে ইনডিপেনডেন্ট কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করার পর ২৫ জুলাই জামিন বাতিল করে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত। ওই আদেশে গোয়েন্দা পুলিশ রনিকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে হাকিম আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠান।

হাকিম আদালতে জামিন না পেয়ে ২৮ জুলাই জজ আদালতের কাছে আবেদন করেন রনি। কিন্তু সেখানেও জামিন নামঞ্জুর হয়। এরপর রনি হাইকোর্টে গেলে বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি কাশিফা হোসেনের বেঞ্চ ১০ সেপ্টেম্বর তিন মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সাংবাদিক পেটানোর মামলা ছাড়া বাকি দুটি মামলা করা হয় ১১ আগস্ট পটুয়াখালী গলাচিপা থানায়। এ দুটি মামলায় চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

একটি মামলায় ২০১০ সালের সালের ১৭ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমাবেশে এমপি রনির নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে লোকজনকে পিটিয়ে জখম, দোকান ভাংচুর ও মালপত্র লুটতরাজ করে বলে অভিযোগ আনা হয়। অন্যটিতে ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবি সংবলিত অভিযোগ আনা হয়। কারা তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শাহবাগ থানার মামলার জামিননামার কাগজ এবং সোমবার সকাল ৮টার দিকে গলাচিপা থানার দুই মামলার জামিননামার কাগজপত্র কারাগারে আসে।