জড়িতদের তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

বেসিক ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের ঘটনায় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে দেয়া ঋণ আদায়ের সর্বশেষ তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। গতকাল সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়, reports Banik Barta.

চিঠিতে বেসিক ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান, এমডিসহ সংশ্লিষ্টদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ঋণ আদায়ের সর্বশেষ তথ্য ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলেছে কমিটি।

সংসদীয় কমিটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্থ জনগণের। ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে যারাই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে চায় কমিটি। এজন্য অনিয়মের ঘটনায় হোতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন,  অনিয়মের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকের দেয়া ঋণের অর্থ ফেরত আনতে সংসদীয় কমিটি কাজ করছে। যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, সংসদীয় কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানায়, বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকের এমডিসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অর্থ আদায়সহ ইমেজ পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো ব্যাংকটির বিভিন্ন স্তরে সাবেক পরিচালনা পর্ষদের পছন্দের কর্মকর্তারা অবস্থান করায় পদে পদে বাধার মুখে পড়ছে তাদের কার্যক্রম। তার পরও নতুন পর্ষদ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বলেন, বেসিক ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম চলছে। অর্থ আদায়ের বিষয়েও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংকের চারটি শাখা থেকে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ২০১২ সালের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজও রাখা হয়নি। নিয়ম ভেঙে ঋণ দেয়ায় কয়েকজন বড় গ্রহীতা এরই মধ্যে স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে (এসএমএ) নাম লিখিয়েছেন। ২০১২ সালের মে মাসে শান্তিনগর শাখায় আবেদনের মাত্র নয়দিনের মধ্যে আরআই এন্টারপ্রাইজকে ১২০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর বিপরীতে মর্টগেজ রাখা হয় ১০৫ কোটি টাকার সম্পত্তি। একই মাসে আবেদনের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে যমুনা এগ্রো কেমিক্যালকে ৭৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়। এ শাখা থেকেই নানা অনিয়মের মাধ্যমে গাড়ি ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানকে নতুন নতুন কোম্পানি খুলে তার স্ত্রী ও কর্মচারীর নামে ঋণ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতার সর্বোচ্চ সীমাও লঙ্ঘন করা হয়। একইভাবে গুলশান শাখা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক শিপাইর আহমেদ অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ  দেন। অনিয়মের দায়ে তাকে শাখা থেকে প্রত্যাহার করে বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এ শাখা থেকে ১৬টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান, নয়টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে অনুমোদনহীন ঋণসীমা এবং ছয়টি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলসি খুলে বিদেশে অর্থ পাচারের করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া বন্ধক দেখিয়ে এ শাখা থেকে আরো ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।