ঢাকার পেট্রলপাম্পে গণশৌচাগারের পরিকল্পনা

khokon

ঢাকা শহরে গণশৌচাগারের অপ্রতুলতা দূর করতে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে গণশৌচাগার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা শহরে টয়লেটের সংখ্যা কম। এ জন্য নারীদের সমস্যা হয়। পেট্রলপাম্পে জায়গা প্রচুর। সেখানে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে এর মালিকদের সঙ্গে বসব।’

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন। সাংবাদিকেরা সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের জনবলসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে তথ্য পেতে অসহযোগিতা, করপোরেশনের আয় বাড়াতে রাজস্ব বিভাগকে কার্যকর করা, সেবার মান বৃদ্ধি করে দুর্নীতি কমানোর নানা অনুযোগ ও পরামর্শ দেন।
সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়—একজন সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আপনারা সাহায্য করলে এটা ভেঙে যাবে।’
সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের কেউ কেউ নির্বাচনের সময় মেয়রের জন্য কোটি টাকা খরচ করেন। পরে এর প্রভাব খাঁটিয়ে করপোরেশনে দাপট দেখিয়ে চলছেন—একজন সাংবাদিকদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, ‘কেউ যদি এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি অন দ্যা স্পট রিজাইন (সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ) করব। যে বলেছে তাকে আমার সামনে ধরে নিয়ে আসেন। আমি এরই মধ্যে সব বিভাগকে বলে দিয়েছি, কেউ যদি আমার নাম ভাঙিয়ে কিছু করে তাকে পুলিশে দেবেন।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অনেকে বলেছেন, এটা খুব কঠিন কাজ। এখনো পর্যন্ত আমার কাছে এটা মনে হয়নি। সবাই আমাকে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে। জানি না এটা কত দিন থাকবে। হয় তো এটা হানিমুন পিরিয়ডের কারণে হতে পারে।’ খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা ডায়ালগ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কোন পর্যায় এবং সর্বনিম্ন কোন পর্যায়ের মানুষকে ঢাকা ডায়ালগে ঢাকা হবে সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষ সেখানে না এলে এটা করে তো লাভ হবে না।

সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘কোনো সংবাদকে আমি নেতিবাচকভাবে নেই না। এটা আমার মধ্যে নেই। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের সংবাদে যেন পক্ষপাতিত্ব না থাকে। কেউ আপনাদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার না করতে পারে, সেটা খেয়াল করবেন।’ তিনি বলেন, ‘এই শহরকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা আমাদের সবার। অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন, সাহায্যের মনোভাব দেখাচ্ছেন। এটা ইতিবাচক। আমার বাবা বলতেন সাংবাদিকেরা হলো “আই ওপেনার”। সুতরাং আপনারা বস্তুনিষ্ঠভাবে লিখে যান।’
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন মাধ্যমের অর্ধশতাধিক সংবাদ কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।