‘ঢাকা অচল’ করার ছক কষছে বিএনপি

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে শেষ অস্ত্র হিসেবে ‘ঢাকা অচল’ করার পরিকল্পনা করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংকটের সমাধান না হলে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলন ‘একদলীয় নির্বাচন’ প্রতিহত করার আন্দোলনে রূপ নেবে।দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি এখন মনে করছে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অথবা আন্তর্জাতিক মহলের চাপে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে কয়েক দিন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারলে সরকার সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমআলোকে বলেছেন, বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না। তাই কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ২৫ অক্টোবরের পর হরতাল, সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসবে। আলোচনা বা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকটের সমাধান না হলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া উপায় থাকবে না।সংকট সমাধানের জন্য বিএনপি ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বলে সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাধিক জনসভায় বলেছেন। তার আগে খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচি রয়েছে। তারপর ঈদ, পূজা, হজ, কোরবানির পশুর হাটসহ নানা কারণে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জনভোগান্তি হয়, এমন কর্মসূচি না দেওয়ার পক্ষে দলটি। এ ছাড়া ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি রয়েছে। আবার, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় চলতি মাসে দেওয়া হলে নেতা-কর্মীরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, সেটাও আমলে রাখতে চান দলের নীতিনির্ধারকেরা। তবে এ নিয়ে দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার পক্ষে দলটির শীর্ষস্থানীয় বেশির ভাগ নেতা।

বিএনপি মনে করছে, সংবিধান অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর পার হলে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আর কোনো পথ থাকছে না। কারণ, বর্তমান জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন এখন চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ অধিবেশন চলবে। বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের ন্যূনতম দাবি পূরণ করতে হলে এই অধিবেশনেই সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মনে হয় না সরকার সমঝোতায় আসবে। সে ক্ষেত্রে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে একদলীয় নির্বাচন করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার মতো কর্মসূচি বিএনপি দেবে।

জানা গেছে, ‘ঢাকা অচল’ করার মতো কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিকে বিএনপির কোনো কোনো নেতা ‘সারা দেশ অচল’ কর্মসূচি বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে যে আলোচনা চলছে, সে অনুযায়ী অক্টোবরের শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার চিন্তা করা হচ্ছে। সেখান থেকে টানা হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে। বিএনপি মনে করছে, ২৫ অক্টোবরের পর প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে আসবে। কর্মসূচি প্রণয়নে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এমন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে যেন সরকার তার কার্যক্রম চালাতে না পারে। অতীতে সরকারের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগও এ ধরনের আন্দোলন করেছে।