ঢাবি ছাত্র নির্যাতন: সেই ওসি হেলালের জেল

oc
চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে থানায় নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় খিলগাঁও থানার তখনকার ওসি হেলালউদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার কারণে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া হেলালকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও তিন মাস জেল খাটতে হবে।

ফৌজদারী আইনের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে এমন কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের দায়ে এটাই সর্বোচ্চ সাজা।

২০১১ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের তৎকালীন ছাত্র কাদেরকে আটকের পর তাকে ছিনতাইকারী হিসেবে দেখানোর জন্য থানায় নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন ওসি হেলাল। কিন্তু স্বীকারোক্তি না পেয়ে চাপাতি দিয়ে তার পায়ে আঘাত করেন।

পুলিশের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত কাদের বর্তমানে একজন সরকারি কর্মকর্তা। বিসিএস দিয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “রায়ে আমি খুশি। এতে প্রমাণ হল যে ঘটনাটি সাজানো ছিল।”

ন্যায়বিচার পাবেন কি না- তা নিয়ে আগের দিনও শঙ্কায় থাকলেও রায়ের পর তা কেটে গেছে বলে জানান তিনি।

এ মামলার যিনি আসামি, সেই হেলালউদ্দিন রায়ের দিন আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে রায় পেছানোর আবেদন পাঠান।

তার আইনজীবী সাইদুর রহমান মানিক সময়ের আবেদনে বলেন, হেলাল পেটের পিড়ায় আক্রান্ত। এ কারণে তিনি আসতে পারেননি।

কিন্তু বক্তব্যের পক্ষে কোনো নথি দাখিল করতে না পারায় হেলালের আবেদন নাকচ করে তাকে পলাতক দেখিয়েই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রায়ের সময় কাদেরের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী গফ্ফার হোসেন। মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।