তিন দিনের মধ্যে চমক : বললেন জয়

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সাধারণ মানুষ চমক পছন্দ করে। ক্ষমতায় থেকে সাফল্য দেখানো সহজ নয়। তারপরও এবার চমক দেখানো হবে। আগামী তিন দিন খেয়াল রাখুন। চমক দেখতে পাবেন। আমরা বিরোধী দলের অপপ্রচার মোকাবিলা ও সরকারের সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে ভিন্নরকম কৌশল নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জয় এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, রোববার থেকে সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে দলের সব কর্মকান্ডে জড়িত হলেও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী পুত্র। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে জয় দীর্ঘ প্রায় ২ ঘণ্টা খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত নেন এবং সাংবাদিকরা কিছু জানতে চাইলে তার চিন্তা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রীদের দূরত্ব এবং উন্নয়নের প্রচার না হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখন নেতারা মাঠে ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ব্যস্ততার কারণে হয়তো তারা ঠিকমতো এলাকায় যেতে পারেননি। কেউ কেউ হয়তো মনে করেছে আমরা তো উন্নয়ন করছি। প্রচারের বিষয়টি তারা গুরুত্ব দেননি। এ সময় তিনি সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, আমার মা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেছেন উন্নয়নই সব। অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি দল তৈরি হয়েছে, যার  একটি স্বাধীনতার পক্ষের, অন্যটি বিপক্ষের। তিনি বলেন, আমার মায়ের (শেখ হাসিনা) ধারণা ছিল কাজ করলে ভোট পাওয়া যাবে। কিন্তু আসলে সেটা নয়। একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের উদাহরণ দিয়ে জয় বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন কাজ করেও ভোট পাওয়া যায় না। আবার কাজ না করেও ভোট পাওয়া যায়। এটা নির্ভর করে প্রচারের ওপর। সেজন্য আমরা প্রচারের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করছি।

বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হওয়ার বিষয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও পরামর্শের জবাবে জয় বলেন, আমি দেশে এসেছি দলকে সহযোগিতা করতে। আওয়ামী লীগের জন্য আগামী দিনগুলোতে প্রচার (ক্যাম্পেইন) চালাব। বিরোধী দলের অপপ্রচার মোকাবিলা ও সরকারের সাফল্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে চেষ্টা করব। আমি ৯৯ ভাগ না, আমি শতভাগ চেষ্টা করব। অপপ্রচার সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন, আপনারা সত্যটা তুলে ধরেন। মিডিয়াতে সত্যকে ভালোভাবে কাভারেজ দেয়ার চেষ্টা করবেন।

বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চমক দেখিয়েছিল। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ভিশন-২০২১ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে চমক দেয়া হয়েছিল। এবারও এরকম কিছু চমক থাকবে কি না জানতে চাওয়া হলে জয় বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি কি করা যায়। দেশের মানুষকে চমকপ্রদ কিছু দেয়ার চেষ্টা করব। আসলে বিরোধী দলে থেকে চমক দেখানো যত সহজ সরকারে থেকে তা অত্যন্ত কঠিন। আমরা অনেক কাজ করেছি, ভবিষ্যতে আরও করব। তিনি বলেন, সরকারের অনেক সফলতা আছে, হয়তো সেটা প্রচারে আসছে না। আমরা জানিÑ গুড নিউজ ইজ নো নিউজ। একটু সেনসেশন না থাকলে নিউজ হয় না। গণমাধ্যমের কাছ থেকে সহযোগিতার বিষয়ে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন করেছে। সরকারের সমালোচনা থাকবেই। এ সমালোচনার জায়গাটায় যদি একটু ভারসাম্য আনা যায়, সেটাই মূলত আমরা প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, আমরা উড়ালসড়ক করছি। অথচ পত্রিকায় প্রতিবেদন হচ্ছে এর জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অথচ এটি নির্মিত হলে কী উপকার হবে, সেটা বলা হয় না।

অপপ্রচারের কাউন্টার সংক্রান্ত সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে যে অবস্থা করা হয়েছিল সেটা এখন আগের মতো নেই। অনেকটা উন্নতি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ঘটনায় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরেছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার হয়েছে। তবে গ্রামে-গঞ্জে হেফাজতের এই অপপ্রচার এখন আর কাজে আসছে না। সাম্প্রতিক কিছু জরিপে এটা উঠে এসেছে। মানুষ এখন আর ধর্মীয় অপপ্রচার বিশ্বাস করছে না। তিনি বলেন, আমি তো সারা দেশে সফর করে অপপ্রচারের জবাব দিতে পারব না। তাই বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শুক্রবার মসজিদে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জামায়াত-শিবিরের সাইবার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগও টিম গড়ে তুলেছে জানিয়ে জয় বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের অপপ্রচারের কাউন্টার দেয়ার জন্য আমাদের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে। আমি আমার অফিসিয়াল ফেসবুক ফ্যানপেজ তৈরি করেছি। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবর্তা বলি, প্রচুর লাইক হয়, শেয়ার হয়। সব কিছু তো আমি পরিকল্পনা মাফিকই করেছি। প্রথম দিন মায়ের ছবি দিয়ে শুরু করি। সেদিন আমার জন্মদিন ছিল। আগামীতে ৩০০ সংসদ সদস্যেরই ফেসবুক পেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সামনে নির্বাচন, মানুষকে তো একটা পক্ষে ভোট দিতেই হবে। এজন্য তাদের সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র থাকা প্রয়োজন। যাতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাংলাদেশের সব জায়গায়ই আওয়ামী লীগের ভোট আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলে আওয়ামী লীগকে হারানো কঠিন। আর যদি দল ঢিলেঢালাভাবে চলে তবেই হারতে পারে। জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শহরে এখন বিদ্যুতের সমস্যা নেই। আগামীতে এই দলটি ক্ষমতায় থাকলে গ্রামেও বিদ্যুতের অভাব হবে না। বর্তমানে দেশ যেভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, স্বাধীনতার পর আর এত উন্নয়ন হয়নি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে আমরা যেভাবে উন্নয়ন করেছি, এই সফলতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সুতরাং আমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগকে আবার মানুষ ক্ষমতায় আনবে। সভায় আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের দুর্বলতা এবং দলের বক্তব্য বা তথ্য দিতে দায়িত্বশীল নেতাদের অনেক সময় পাওয়া যায় নাÑ এমন অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

‘প্রার্থী পছন্দ না হলেও নৌকায় ভোট দিন’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা যদি মনোনয়ন না পান তাহলে তারা অসন্তুষ্ট হতেই পারেন। এই অসন্তুষ্টি থেকে তারা যেন দলীয় কর্মকা- থেকে দূরে না থাকেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এ দেশে রাজনীতি করা আসলে কষ্টের। এখানে দল ও পদবি না থাকলে কাজ করা যায় না।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই মতবিনিময় চলে। মতবিনিময়ে আওয়ামী লীগের সংবাদ সংগ্রহ করেন এমন সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ। সভায় আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রধামন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। –