আইন মানছে না ইসি

তৃতীয় দফা সুযোগ পেল বিএনএফ

নিবন্ধনের শর্ত পূরণের জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে (বিএনএফ) আবারও সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো দল অযোগ্য বিবেচিত হলে তাদের দ্বিতীয় দফায় সুযোগ দেওয়ার কথা নিবন্ধন আইনে নেই। কিন্তু বিএনএফকে এ নিয়ে তিন দফা সুযোগ দেওয়া হলো।

শুধু তা-ই নয়, তৃতীয় দফায় দেওয়া এই সুযোগে বিএনএফ শর্ত পূরণ করতে পেরেছে কি না, তা তদন্ত করার ক্ষেত্রে ইসি নিজেদের কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। তাই এবার এই তদন্ত দলের প্রধান করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য গত বছর বিএনএফসহ ৪১টি দল নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। এর মধ্যে বিএনএফসহ দুটি দলকে বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন।

নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে হলে ২২ জেলা ও ১০০ উপজেলায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কমিটি ও দপ্তর এবং প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটার সদস্য থাকা আবশ্যক।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক আবেদনে বিএনএফ দাবি করে ৩৬ জেলা ও ১৩৪ উপজেলায় তাদের কার্যালয় ও কমিটি আছে। কিন্তু ইসির তদন্তে সেসব কার্যালয়ের বেশির ভাগের অস্তিত্ব মেলেনি। ইসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৯ জেলা ও ৩২ উপজেলায় বিএনএফের কার্যালয় ও কমিটি খুঁজে পাওয়া গেছে।

এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বিএনএফ শর্ত পূরণের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করে গত ৪ আগস্ট। ইসি দলটিকে আরও ১৫ দিন সময় দেয়। এ সময়েও দলটি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। মাঠপর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় তদন্তে মাত্র ২৬ জেলা ও ৮৮ উপজেলায় কার্যালয় ও কমিটির হদিস পায়। তবে ওই কমিটিগুলোর সদস্যদের মধ্যে শর্ত অনুযায়ী ২০০ জন করে ভোটার আছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেয় ইসির তদন্ত দল।

সম্প্রতি বিএনএফ আবারও সময় প্রার্থনা করে। বিএনএফের প্রধান সমন্বয়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিশেষ একটি দলের ইন্ধনে প্রভাবিত হয়ে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বিএনএফের ব্যাপারে সঠিক প্রতিবেদন দেননি। সে জন্য আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছি এবং কমিশন আবেদন গ্রহণ করেছে।’

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বিএনএফকে তৃতীয় দফায় এবার সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে এই সময় শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ দাবি করেন, প্রথা মেনে বিএনএফকে দ্বিতীয় দফায় সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনএফ অভিযোগ করেছে, কমিশনের মাঠ কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তদন্ত করেননি। সে জন্য দলটিকে তৃতীয় দফায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বিএনএফকে নিবন্ধন দিতে সরকারের ওপর মহল থেকে চাপ রয়েছে। ইসির নিজস্ব তদন্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করানো হলে ফলাফল আবারও একই রকম হতে পারে। এই আশঙ্কায় কমিশন এবার নিজস্ব কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাকে তদন্ত দলের প্রধান করে তৃতীয় দফা সময় দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত হলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা তথ্য কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত দলকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আইনে কোনো দলকে একবারও বাড়তি সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। তবে কোনো দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন যদি মনে করে তদন্তে ভুল থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে একবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বারবার সুযোগ দেওয়াটা অনৈতিক। তিনি বলেন, কমিশন প্রাথমিক বাছাইতে ৩৯টি দলের আবেদন বাতিল করেছ। এখন বিএনএফকে যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, এই সুযোগ তো ওই সব দলকে দেওয়া হয়নি।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় বিএনএফ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করানো হচ্ছে।