দক্ষিণের উন্নয়নে চাই উত্তরের সহযোগিতা: প্রধানমন্ত্রী

ha
অপর্যাপ্ত সম্পদ, অবকাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বাধায় দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর কাঙ্খিত অগ্রগতি পাচ্ছে না মন্তব্য করে এ বাধা কাটিয়ে উঠতে উত্তরের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার ঢাকার একটি হোটেলে ‘২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সহযোগিতা: দক্ষিণের উন্নয়নে অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অকার্যকর আইনি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের মত সমস্যার কারণে দক্ষিণের দেশগুলোর পক্ষে এককভাবে কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।”

তবে উত্তরের দেশগুলোর সহযোগিতা পেলে এসব বাধা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য দক্ষিণের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার অফ এক্সিলেন্স দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার গুণগত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তিনি বলেন, দক্ষিণের দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের অর্থ যোগানের জন্য উপায় খুঁজতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উত্তরের ধনী দেশগুলো যে উন্নয়ন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা যেনো কোনভাইে ব্যাহত না হয়।

দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে আরও সহযোগিতা চাই। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি, এফডিআই, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিশ্ববাজারের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আমরা দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে আরও সহযোগিতা চাই।”

দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে ঘিরে সম্প্রতি যে ‘উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে’ তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ঢাকায় দুই দিনের এই উচ্চ-পর্যায়ের সভা উন্নয়ন সহযোগিতার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে দক্ষিণ ও উত্তরের মধ্যে সেতুবন্ধ স্থাপন করতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।