দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ নিয়ে ইসি সিদ্ধান্তহীনতায়

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানিয়ে-ছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে শেরে বাংলানগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেছেন, ‘পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। আগেও নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নিবন্ধন বিষয়ে সিইসি জানান, বিএনএফের নিবন্ধন এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুতই বিএনএফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় আছে, তফসিল ঘোষণার আগে আমরা এটি তৈরি করে ফেলব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য আমরা কাজ করছি। এ ব্যাপারে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে কিভাবে নির্বাচন হচ্ছে, তাদের সিস্টেম আমরা স্টাডি করছি।’
প্রসঙ্গত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নতুন করে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রস্তুত করতে হবে। সরকারের মন্ত্রীরা সরকারি সুবিধা নিয়েই এ নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ পাবেন কি পাবেন না, তা ওই আচরণবিধিতে স্পষ্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশন সচিবালয়ের সব কর্মকর্তার টেবিলেই এখন দেখা যাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘মডেল কোড অব কন্ডাক্ট ফর দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অ্যান্ড ক্যান্ডিডেট’ শিরোনামের আচরণবিধি। বাংলাদেশেও এই বিধিমালা অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গ বিএনএফ : বিএনএফের নিবন্ধনের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে বিএনএফের পর্যাপ্তসংখ্যক অফিস ও কমিটি আছে কি না, সে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা যে তদন্ত করেছিলাম, তা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়নি বলে দলটি অভিযোগ করে। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটিতে নির্বাচন কমিশনের বাইরের লোকও আছে। যত দ্রুত ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, তত দ্রুত বিএনএফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, বিএনএফ মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলায় এবার যাচাইয়ের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পুরোপুরি দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা এডিসিকে (সার্বিক) আহ্বায়ক এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সদস্য করে যাচাই কমিটি করা হয়েছে। মোট ২২ জেলায় এ কমিটি গঠন করে বিএনএফের দেওয়া ঠিকানা অনুসারে ওইসব জেলার ৫৯টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় দলটির কার্যালয় ও কমিটির অস্তিত্ব রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য বলা হয়েছে। গত বুধবার এ-সংক্রান্ত চিঠি ২২টি জেলায় যাচাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিএনএফকে ওই ৫৯টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানার মধ্যে মাত্র ১২টিতে তাদের কার্যালয় ও কমিটির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে। এর পর তাদের নিবন্ধন পেতে তেমন কোনো বাধা থাকবে না।
বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচন : আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নেই জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আশা করছি সেখানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে।’
গত ২৬ জুলাই ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বরগুনা-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু। পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা- এ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৩১ হাজার তিনজন।
এ নির্বাচন সম্পর্কে সিইসি আরো বলেন, ‘বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। বরগুনা এলাকায় দুটি নদী রয়েছে এবং বর্ষাকাল হওয়ায় আমরা কোস্টগার্ডের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োজিত থাকবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।