দা-কুড়ালের হুমকি বিএনপির

‘আক্রমণ প্রতিহত করতে’ ঢাকায় ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে নেতা-কর্মীদের দা-কুড়াল নিয়ে আসতে বলেছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, ওই দিন তাদের ওপর সরকারি দল আক্রমণ করবে। ওই আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারলে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর বিএনপির এক যৌথ সভায় ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকার জন্য দলের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ২৫ অক্টোবরের সমাবেশের দিন করণীয় সম্পর্কে দলের মহানগরের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘দুটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। সমাবেশ সফল করা এবং আক্রমণের শিকার হলে প্রয়োজনে দা, কুড়াল যা যা আছে সব নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা আগে আক্রমণ করব না। যদি আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার জন্য কিছু নিয়ে আসে, যেকোনোভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

সভায় ২৫ অক্টোবরের সমাবেশকে ‘ফাইনাল খেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই খেলায় জয়ের জন্য সাত দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনাল হয়েছে, সেমিফাইনাল হয়েছে। এবার ফাইনাল খেলা।

এ খেলার সময় সাত দিন। এর মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। এ খেলায় জয়ের কোনো বিকল্প নেই। না হলে টিকে থাকা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘সামনে রাস্তা একটাই। দুর্বার গণ-আন্দোলন। দুর্বার গণ-আন্দোলন। দুর্বার গণ-আন্দোলন। এই সরকারের পতন।’

তবে ‘দা-কুড়াল’ নিয়ে সমাবেশের প্রস্তুতিকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠার’ অনুকরণ নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাঁদের দাবি, লগি-বৈঠা নিয়ে আওয়ামী লীগের ওই মিছিল-সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল মানুষ হত্যা করা। কিন্তু বিএনপির এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সংঘাত সৃষ্টি করতে চাই না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি হামলা করতে আসে, তার জবাব দেওয়ার জন্য যা যা দরকার, তার সব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।’

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি সরকারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিরোধীদলীয় জোট ঢাকায় লগি-বৈঠা নিয়ে অবস্থান করে। ওই দিন বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে ঢাকায় পাঁচজনসহ সারা দেশে ১১ জন নিহত হয়। সাত বছর পর একই সময়ে একই ইস্যুতে রাজপথে একই পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫ অক্টোবর সরকারি ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ কর্মসূচিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি মনে করছে, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের জন্য কঠোর আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলনে সাফল্য না এলে বিএনপির সামনে নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পও থাকছে না।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নির্বাচনে যেতে চান বলেই আন্দোলন করছেন। সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতেই নির্দলীয় সরকারের এই আন্দোলন।

সমাবেশ সফল করতে ঈদের পর মাত্র এক সপ্তাহ সময় পাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাবেশে অংশ নিতে সারা দেশের নেতা-কর্মীদের বলা হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে তাঁরা সমাবেশে যোগ দেবেন।

সমাবেশ নিয়ে সন্দেহএদিকে ২৫ অক্টোবর শেষ পর্যন্ত সমাবেশ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে সন্দেহও আছে। বিএনপি মনে করছে, শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশ হয়তো কোনো দলকেই সমাবেশ করার অনুমতি দেবে না।

তবে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, কাউকেই অনুমতি না দিলে ২৫ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশ করবে না তাঁদের দল। তবে আওয়ামী লীগকে অনুমতি দিলে, বিএনপি সমাবেশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ২৫ অক্টোবর যদি আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে, তাহলে বিএনপিও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে।