দুই দলের মধ্যে ঠাণ্ডাযুদ্ধ কি গরমযুদ্ধে পরিণত হবে?..আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ও বেতার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব কথা বলে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মনে যে আশাবাদ জাগ্রত করেছিলেন, এক দিন পরই গত রবিবার (২০ অক্টোবর) খালেদা জিয়া ঢাকায় পেশাজীবীদের সমাবেশে তা এক ফুঁৎকারে নিভিয়ে দিয়েছেন। জেমস বন্ড থ্রিলার সিরিজের একটি চরিত্র ড. নো-র (Dr. No) মতো তিনি এখন সব কথায় ‘না’ বলেন। গত রবিবারও তাই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব বিবেচনার আগেই বলে দিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি ও তাঁর দল যাবে না।
আজ (সোমবার) সকালে লন্ডনে বসে এই লেখাটি লিখছি। জানা গেছে, সোমবারই এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মসূচি বিশদভাবে জানাবেন। আমার পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দেওয়া বক্তব্য এই নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি এবং তা আগাম জানা সম্ভবও নয়।
তবু আমি তাঁর রবিবারের বক্তব্য শুনে সহজেই অনুমান করতে পারছি, কোনো ইতিবাচক বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলের নেত্রী সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছেন না। তিনি ‘ম্যাডাম নো’র ভূমিকায় অবিচল আছেন। এ সম্মেলনে তাঁর সব বক্তব্যই হবে সরকারি দলের বক্তব্য ও প্রস্তাবের না বাচক। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ দেশকে একটি কনফ্রন্টেশনের রাজনীতি থেকে মুক্ত করে সমঝোতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে যে আশা করা গিয়েছিল, তা হয়তো ফুঁৎকারে নিভে গেল। তবে ২৫ অক্টোবরের পর থেকেই ‘দেশ অচল করে দেওয়ার’ যে কর্মসূচি বিএনপি দেবে বলে গত কিছুদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলটি এ মুহূর্তেই এগিয়ে যাবে কি না সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। সংবাদ সম্মেলনেও এই কর্মসূচি দেওয়ার হুমকিটিকে ঝুলিয়ে রাখা হলে আমি বিস্মিত হব না।
আমার মনে এই ক্ষীণ আশাবাদ জেগে থাকার একাধিক কারণ আছে। প্রথমত, আজকাল দেখা যায়, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিএনপি নেত্রী সৌদি আরবের বদলে সিঙ্গাপুরে যান। এ বছরের গোড়ায় জামায়াত ও হেফাজতি অভ্যুত্থান-চেষ্টার আগে গিয়েছিলেন, এবারও গিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই জেনেছি, তারেক রহমান কিংবা বিএনপির সৌদি অভিভাবকরা কেউ বেগম জিয়াকে এবার জামায়াত ও হেফাজতি সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কনফ্রন্টেশনে যাওয়ার পরামর্শ দেননি।
তাঁরা নাকি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘দেশ অচল করার’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা নয়, সেটি ঝুলিয়ে রাখার। মুখ রক্ষার জন্য এখানে-ওখানে কিছু সন্ত্রাস সৃষ্টির। এভাবে সরকারের ওপর আন্দোলনের হুমকির চাপ সৃষ্টি করে রাখা এবং অন্যদিকে দেশের সুশীলসমাজ, বিশেষ করে ড. ইউনূস, ড. কামাল হোসেন ও ডা. বি চৌধুরীর তৃতীয়ধারা এবং বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল একাধিক প্রভাবশালী মিড-ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন সরকারের সম্মিলিত প্রচণ্ড চাপের মুখে ফেলে সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা।
এভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারকে শেষ পর্যন্ত কাবু করা যাবে বলে বিএনপি এখনো আশা করে। এ আশা একেবারে নিভে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ‘আওয়ামী লীগ হঠাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে দেশে ভাঙচুর, সন্ত্রাস সৃষ্টির একটা চেষ্টা চালিয়ে যাবে, কিন্তু সরকারের সঙ্গে ‘অল আউট ওয়ারে’ যাবে কি? এই অল আউট ওয়ারে যাওয়ার ক্ষমতা বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের আছে কি না, সেটাও ইত্যবসরে ঝালিয়ে দেখা হবে।
বিএনপির ‘দেশ অচল করার’ কর্মসূচি এখনই ‘অল আউট ওয়ারে’ পরিণত হতে যাচ্ছে না, সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া আবার দেশবাসীকে মাঠে নামার ডাক দিলেও নয়- এমন একটি ধারণা আমার মনে জন্মানোর আরো একটি কারণ, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের হঠাৎ লন্ডন থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের খবর।
২৫ অক্টোবর থেকে দেশ অচল করার আন্দোলনের আগাম তর্জন-গর্জন শুরু হওয়ার পর (ব্যারিস্টার মওদুদও এই ধরনের তর্জন-গর্জন করেছেন) তিনি আকস্মিকভাবে ‘হৃদরোগে আক্রান্ত’ হয়ে ঢাকায় এক হাসপাতালে ভর্তি হন। ঢাকার কাগজেই খবর বেরিয়েছে, তাঁর কোনো গুরুতর হৃদরোগ হয়নি বলে হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন। গুরুতর হৃদরোগ হলে দলনেত্রী খালেদা জিয়া তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যেতেন। লন্ডনের বাংলা সাপ্তাহিকগুলোতে খবর বেরিয়েছে, ‘অনেকেই মনে করছেন, ২৫ অক্টোবর দেশে বিএনপির ভাঙচুরের আন্দোলন শুরু হলে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় সামান্য রোগকেই অজুহাত করে বিদেশে চলে এসেছেন। দেশে রাজনৈতিক ঝড়ঝঞ্ঝা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হয়তো ফিরবেন না।’
ব্যারিস্টার মওদুদ-সংক্রান্ত এ অনুমান যদি সঠিক হয়, তাহলে দুদিন না যেতেই আকস্মিকভাবে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার খবরে মনে হয়, দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝড়ঝঞ্ঝার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা সম্ভবত তেমনভাবে দেখা দেবে না। এ সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়েই ব্যারিস্টার মওদুদ হয়তো দেশে ফিরে যাচ্ছেন। আমার মনেও তাই দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক দুর্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে না বলে যে ক্ষীণ আশাবাদ জাগ্রত হয়েছে, তার একটি কারণ যে মওদুদ আহমদের দেশে ফিরে যাওয়া, সে কথা আগেই উল্লেখ করেছি।
আমার ইনটিউশন বলছে (ভুল হতে পারে), সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে (যার খবর এখনো আমি পাইনি) খালেদা জিয়া নরম-গরম যত কথাই বলে থাকুন, যত কর্মসূচিই দিয়ে থাকুন, তিনি চূড়ান্ত কনফ্রন্টেশনে এখন যাবেন না। চূড়ান্ত কনফ্রন্টেশনে যাওয়ার শক্তি ও সংগঠন তাঁর নেই। জামায়াত ও হেফাজত পেছন থেকে তাঁকে উস্কানি দিতে পারে, কিন্তু বড় কোনো গণ-আন্দোলনে শক্তি জোগানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তারা জনজীবনে উপদ্রব সৃষ্টিকারী স্থানে-অস্থানে খণ্ড সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে এবং তা করবে। তাতে সরকারের ভিত নড়বে না। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে তৃতীয় কোনো অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা হবে, সে পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়নি। তাহলে বিএনপি কী করবে? বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যা চলছে, এটাকে আমি বলি দুই পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দুই দশকব্যাপী স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে এ যুদ্ধ শীতল (cold war) থেকে কখনো কখনো উত্তপ্ত (hot war) হয়ে উঠত। কিন্তু সরাসরি চূড়ান্ত ও সার্বিক যুদ্ধে তারা যেত না। সীমাবদ্ধ লড়াই সীমাবদ্ধভাবে শেষ হতো। তাতে কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েতের কাছ থেকে কনসেশন আদায় করেছে। কখনো করেছে আমেরিকার কাছ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। এটা ছিল দুই পরাশক্তির মধ্যে বিশ্বে নিজ নিজ আধিপত্য রক্ষার দরকষাকষি বা টাগ অব ওয়ার।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। এই দুই রাজনৈতিক শক্তি বা দলের মধ্যে বহু দিন ধরেই চলছে এই স্নায়ুযুদ্ধ। কখনো তা ঠাণ্ডাযুদ্ধ, কখনো তা উত্তপ্ত। গত মে মাসে মনে হয়েছিল, এ যুদ্ধে বিএনপির মিত্র হিসেবে হেফাজতের রাতারাতি জন্ম ও সগর্জনে মাঠে নেমে আসায় আওয়ামী লীগকে বুঝি পিছু হটতে হবে, চাই কি ক্ষমতাও ছাড়তে হবে। আওয়ামী লীগ ভূমিধস ঠেকিয়েছে, কিন্তু সিটি করপোরেশনের পাঁচটি নির্বাচনে উপর্যুপরি হেরেছে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে চার্চিলের (বা ব্রিটেনের) যুদ্ধ জয় সম্পর্কে বলা হয়, Charchill won the war, but lost the empire (চার্চিল যুদ্ধ জয় করেছেন, কিন্তু সাম্রাজ্য হারিয়েছেন), যুদ্ধ জয়ের পরপরই ভারতসহ উপনিবেশগুলো ব্রিটেনের হাতছাড়া হয়। বাংলাদেশে গত মে মাসের রাজনৈতিক যুদ্ধেও অধিসর Awami League won the war but lost the elections (আওয়ামী লীগ যুদ্ধে জিতেছে, কিন্তু নির্বাচনে পাঁচটি সিটি করপোরেশন হারিয়েছে)।
আওয়ামী লীগ পাঁচটি সিটি করপোরেশন হারানোর বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন রাজনীতির মাঠে অতি বেশি তৎপর। শেখ হাসিনা তো আগেভাগেই নির্বাচনের প্রচার অভিযানে নেমে গেছেন। অন্যদিকে এ বছরের গোড়ার দিকের আন্দোলন-অভিযানের ব্যর্থতা ও নির্বাচনী সাফল্য থেকেও বিএনপি শিক্ষা নেয়নি, তা আমার মনে হয় না। যদি তারা শিক্ষা নিয়ে থাকে তাহলে ২৫ অক্টোবর থেকে তারা সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত কনফ্রন্টেশনে নামবে তা ভাবা চলে না।
দেশের নির্বাচনী হাওয়া এখনো তাদের অনুকূলে বলে বিএনপি মনে করে। আন্দোলন করা, তাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষমতা তাদের নেই- এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং আগামী নির্বাচনকে আওয়ামী সরকারের সম্পূর্ণ এখতিয়ার থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ সৃষ্টি (সঙ্গে সুশীলসমাজ, ইউনূস সেন্টার, ড. কামাল হোসেনের তৃতীয় শিবির ও জামায়াত-হেফাজত তো আছেই) দ্বারা সরকারকে কোণঠাসা করে দাবি আদায়ের আশা এখনো তারা ছাড়েনি। সরকারের ওপর এই চাপ সৃষ্টি আরো প্রবল করার জন্য আওয়ামী লীগের হাত ভেঙে দেওয়ার, দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি-ধমকি আরো বাড়তে পারে; চাইকি ২৫ অক্টোবর থেকে বা তার আগেই জামায়াতের সহায়তায় কিছু খণ্ড সন্ত্রাস ও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের উপদ্রব শুরু হতে পারে, তার বেশি কিছু নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারও সম্ভবত বিএনপির শক্তি-সামর্থ্য ও আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত হয়েই বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই প্রিয়েম্পটিভ অ্যাকশনে গেছে। তারা গত রবিবার (২০ অক্টোবর) থেকেই ঢাকা শহরে জনসমাবেশ, মিটিং-মিছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে তা কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করছে না। ২০ অক্টোবর বেগম জিয়া যে সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন, সে অনুষ্ঠানে তেমন বাধা দেয়নি। অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াত মিলে ভাঙচুরের কর্মসূচি শুরু করার আগেই সরকার তাদের কনফ্রন্টেশনে টেনে এনে শক্তি খর্ব করতে চাইছে। বিএনপি-জামায়াতেরও অভ্যাস হলো, ধর্মঘট বা হরতাল ডেকে ঘোষিত দিনের আগেই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ শুরু করে দেওয়া। এবার সম্ভবত সরকার টিট ফর ট্যাট করল, যদিও পন্থাটি গণতন্ত্রসম্মত নয়।
সোমবার বিরোধীদলীয় নেত্রী কী বলেছেন, তার ওপর আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না। যদি তিনি আমার অনুমানের বাইরে নতুন কিছু বলে থাকেন, তা নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে। আমার ধারণা, বিএনপি মুখে যাই বলুক, নির্বাচনে তাকে আসতে হবে। এখন যত হুমকি-ধমকি, আন্দোলনের ডাক তা শক্তি প্রদর্শনের জন্য নয়, দাবি আদায়ের শক্ত দরকষাকষি ও তজ্জনিত টাগ অব ওয়ার। একে ঠাণ্ডা ও গরম স্নায়ুযুদ্ধের মিশ্রণও বলা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর ভাষণে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে অনেকদূর এগিয়েছেন। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক মহলেও প্রশংসিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে গোঁ ছেড়ে বিএনপিকেও সমঝোতার লক্ষ্যে এগোতে হবে। আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকেই রাখতে চায়। বিএনপি তা না চাইলে এ প্রশ্নে আলোচনায় বসুন। আলোচনার দরজা খোলা, সময়ও তো ফুরিয়ে যায়নি। তার আগেই যুদ্ধের শিঙা ফুঁকিয়ে কী লাভ হবে? জনজীবনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা যাবে। সরকারকে নতি স্বীকার করানো যাবে কি?
সবশেষে একটি অপ্রিয় সত্য বলে রাখি। আমার প্রত্যাশা ব্যর্থ করে যদি বিএনপি সত্যি যুদ্ধের মাঠে নামে, তাহলে দেখা যাবে, মাঠে একা বিএনপি, সঙ্গে দোসর জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর লক্ষ্যে জামায়াতকে সন্ত্রাসে নামতেই হবে। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে তৃতীয় বা সুশীল শিবিরের কেউ নেই। না, ড. কামাল হোসেন, না ড. ইউনূস, না ডাক্তার বদরুদ্দোজা। তাঁরা কেউ বিদেশে, কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে, কেউ গামছা কাঁধে নিরুদ্দিষ্ট, কেউ ড্রয়িংরুমে নিষ্ক্রিয়। এটা গরিবের কথা, কিন্তু ঝুটা হবে না।
লন্ডন, ২১ অক্টোবর ২০১৩, সোমবার