‘ধানগাছ’ চাইবে বিএনএফ

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নির্বাচনের প্রতীক হিসেবে ‘ধানগাছ’-এর জন্য আবেদন করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বিএনএফের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন।

আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের দলের লোগো “ধানগাছ”। সে জন্য কমিশনের কাছে ধানগাছ প্রতীকের জন্য আবেদন করব। অনেকে বলেন, বিএনপির প্রতীকের সঙ্গে ধানগাছের মিল আছে। কিন্তু ধানগাছ আর ধানের শীষ এক নয়। ধানগাছ থেকে চিটাও তৈরি হতে পারে। নিবন্ধন পাওয়ার জন্য বিএনএফ প্রতীকের জন্য আবেদন করবে।’

ধানের শীষ বিএনপির নিবন্ধিত প্রতীক। এ অবস্থায় বিএনএফ কেন ধানগাছ চাইবে—প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম বলেন, ‘বিতর্ক সৃষ্টির জন্য দলের প্রতীক হিসেবে ধানগাছ প্রত্যাশা করছি।’

তবে এ বিষয়ে পরে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেছেন, নতুন কোনো দলকে অন্য দলের প্রতীকের সদৃশ কোনো প্রতীক দেওয়া হবে না। কোনো দলকে এমন কোনো কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে না, যাতে নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত হয়।

বিএনএফের প্রধান সমন্বয়কারী আরও বলেন, ‘বিএনএফের নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। ঈদের পর এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। একটি দল বিএনএফকে নিবন্ধিত করার ব্যাপারে আপত্তি জানাতে পারে। তবে তাদের আপত্তির জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।’ তিনি জানান, নিবন্ধন পেলে বিএনএফ আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম বলেন, ‘বিএনএফের সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন? বিএনএফের সঙ্গে তো “র” বা অন্য কোনো বিদেশি সংস্থার সম্পর্ক নেই। বিএনএফের প্রতিষ্ঠাই হয়েছে সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা সব সময় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে থাকব।’

এদিকে দেশের ৪০তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন সনদ পেয়েছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। গতকাল ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেছবাহ উদ্দিন আহমদের কাছ থেকে দলের বোর্ডপ্রধান আবু লায়েস নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করেন। প্রতীক ‘ছড়ি’।

মুক্তিজোটের নির্বাহী প্রধান আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের ২৪ নভেম্বর। নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৪ জেলা ও ১১২ উপজেলায় তাঁদের দলীয় তৎপরতা রয়েছে। তবে অন্যান্য জেলায়ও তাঁদের সাংগঠনিক তৎপরতা আছে। তিনি জানান, সংগঠনের নেতারা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সক্রিয় ছিলেন না। মুক্তিজোটের মাধ্যমেই তাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।