নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি শুরু

নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ মাসের শেষ ভাগে ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। মন্ত্রীদের অনেকে শুধু রুটিন কাজ করছেন, কেউ বা মন্ত্রণালয়ে আসা-যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।

নির্বাচনকালীন নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুব শিগগির তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

দপ্তরবিহীন এই মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপর সর্বদলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে। ওই সরকারের কাজ হবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।

নভেম্বরের শেষদিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর মূলত নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করবে ওই মন্ত্রিসভা।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে এলে এক রকম, না এলে আরেক রকম মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছে সরকার। এই মন্ত্রিসভা হবে ২০ বা ২১ সদস্যের। ভাবমূর্তি-সংকট নেই, এমন কয়েকজনকে নির্বাচনকালীন সরকারে রাখা হবে।

তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারা বলছেন, এ ধরনের সরকারে যোগ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সর্বদলীয় সরকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এ ধরনের সরকার অসাংবিধানিক। সংবিধানে কোথাও অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকার বলে কিছু নেই।

৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হবে। অধিবেশন শেষ হলেও সংসদ ও মন্ত্রিসভা থাকছে। নতুন মন্ত্রিসভায় অনির্বাচিত কেউ থাকছেন না।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচিতরাই মন্ত্রিসভায় থাকবেন। আর মন্ত্রিসভার সদস্য কয়জন হবেন, তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। বিরোধী দল এলে এক রকম, না এলে অন্য রকম।