নির্বাচনী আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ

শাহেদ চৌধুরী
নির্বাচনী আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী খরচ দেওয়ার প্রস্তাব করবে তারা। সে সঙ্গে এক পোস্টারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার এবং একমঞ্চে একই দিনে প্রার্থীদের নির্বাচনী বক্তৃতার প্রস্তাবও দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। নির্বাচন কমিশন এ প্রস্তাব গ্রহণ করলে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) অথবা আচরণ বিধিমালা সংশোধন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে (আসনভিত্তিক) রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা দেওয়া যেতে পারে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ‘টোকেন’ হিসেবে এ পদ্ধতি চালু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচনে সব আসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। শুধু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই এ সুবিধা পাবে। কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, এক পোস্টারে
সব প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালানোর বিষয়ও রয়েছে দলীয় প্রস্তাবে। পোস্টারে আদ্যাক্ষর অনুযায়ী সব প্রার্থীর নাম, ছবি এবং নির্বাচনী প্রতীক থাকবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে পোস্টারে ছাপা হওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য এ পোস্টার ছাপানোর ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন। পোস্টার ছাপানোর জন্য টোকেন অর্থ দেবেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশন বাকি অর্থের জোগান দেবে। প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে পোস্টার ছাপাতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছাপা হওয়া পোস্টার দেয়ালে না লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় একই দিনে একমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী বক্তৃতা দেওয়ার সুপারিশ থাকবে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনায়। প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নীতিমালায় আরও কড়াকড়ি শর্তারোপ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিবন্ধনের শর্ত কঠিন করা হলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অনেক কমে আসবে।
প্রস্তাবে তফসিল ঘোষণার তারিখ হতে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত (নির্বাচনের সময়) বর্তমানে প্রচলিত সময়ের চেয়ে কমিয়ে আনার কথাও থাকবে। সে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেলায় প্রযোজ্য নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনায়। বর্তমান আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি হচ্ছে রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আজীবন জনসেবা করে মানুষের কল্যাণ সাধন করেন; জনগণের আস্থা অর্জনে সমর্থ হন। রাজনৈতিক দলগুলো যখন কোনো নির্বাচনে কোনো কর্মী অথবা নেতাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন দেয়, তখন বহু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বোপরি দল ও মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণের জন্য তা করে থাকে। পরে দলের কোনো কর্মী যখন এই মনোনয়ন অগ্রাহ্য বা অমান্য করে, তখন দলের শৃঙ্খলাই শুধু নয়, গণতন্ত্রের ভিতও নড়ে যায়। এ বিবেচনায় ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত কিংবা নিবন্ধিত কর্মী দলের মনোনয়ন অগ্রাহ্য করে নিজে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না অথবা দলের অন্য কোনো কর্মী বা নেতার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহযোগিতা করতে পারবেন না। যদি করেন তবে দল থেকে তিনি বহিষ্কৃত হবেন। পরবর্তী এক বা একাধিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অগ্রিম নিয়ে রাখবে এবং যথাসময়ে একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে অন্যদের প্রার্থিতা বাতিল করবে। এর ফলে দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীই শুধু নির্বাচন করতে পারবেন। যদি তার প্রার্থিতা বা মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী দলের মনোনীত হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো অবস্থাতেই বিকল্প প্রার্থীসহ অন্য যারা দলীয়ভাবে মনোনয়ন চেয়েছেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। যদি করেন তবে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হবেন; পরবর্তী দুটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগের এ প্রস্তাবনা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন শীর্ষ নেতারা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে অবস্থান করা নীতিনির্ধারক নেতারা দেশে ফিরে এলে নির্বাচন কমিশনে দলের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হবে।