নির্বাচন কমিশনকে সন্দেহ করছে বিএনপি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সন্দেহ বাড়ছে। দলটি মনে করছে, বিরোধী দলের আন্দোলন ভিন্ন দিকে নিতে সরকারের নির্দেশে কমিশন সচিবালয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের কথা প্রচার করছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না। এরা সরকারের মনোভাব দেখে বা কথা শুনে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই কমিশন সরকারের ‘চাপিয়ে’ দেওয়া সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারবে না।

নির্বাচনী আইনের ৯১(ই) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত, পরে সে অবস্থান থেকে সরে আসা, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ রেখে আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ, কথিত সংগঠন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে (বিএনএফ) নিবন্ধন দিতে তোড়জোড় ইত্যাদি কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে বিএনপির আস্থা এমনিতে কমে গেছে। সর্বশেষ কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিক ২০১৪ সালের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলায় বিএনপির মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিএনপি মনে করছে, কমিশন যা করছে তার পুরোটাই সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। তাই এই কমিশন নিরপেক্ষভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে বলে বিএনপির নেতৃত্ব মনে করছেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো একক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এর মধ্যেই সভা-সমাবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দেওয়া বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের মনোভাব দেখে কমিশন সেই অনুযায়ী আইন সংশোধন, আচরণবিধি সংশোধন ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। সবশেষে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের নীলনকশার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন পক্ষ হচ্ছে। তবে এসব করে আন্দোলন দমিয়ে জনগণকে নির্বাচনমুখী করা যাবে না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট প্রথম থেকেই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের অনাস্থার কথা জানিয়ে আসছে। কমিশনের ডাকা সংলাপেও তারা অংশ নেয়নি। তবে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর কমিশনের ওপর কিছুটা আস্থা ফিরে পায় বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারাও বিভিন্ন দাবি নিয়ে কমিশনের কাছে গেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের পর বিএনপি মনে করছে ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ এই কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।