‘নির্যাতনকারী’ নেতার বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

রাজধানীর বংশাল থানার পুলিশ স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা না নিয়ে উল্টো নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ‘ইয়াবার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যে নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর নাম সিরাজউদ্দিন ওরফে বাদল। তিনি বংশাল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বড় ভাইয়ের স্ত্রী এবং সন্তানদের পিটিয়েছেন।
হামলার শিকার খাদিজা বেগম (৪৭) ও তাঁর কলেজ পড়ুয়া ছেলে মো. জুবায়ের আহমেদ (২০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁদের মাথা ও মুখে আঘাত রয়েছে। খাদিজার বড় মেয়ে জয়নাব সোহা ও আরেক ছেলে আকিব দাবি করেছেন তাঁরাও মারধরের শিকার হয়েছেন। জয়নাব ও আকিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
খাদিজার বড় মেয়ে জয়নাব সোহা আজ বলেন, এক বছর আগে তাঁর বাবা নাসিম আহমেদ মারা যান। এরপর থেকে তাঁরা চানখাঁরপুল লেনে পৈতৃক বাড়িতে থাকছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ মে তাঁর চাচা সিরাজউদ্দিন, মনির ও তাঁর ফুপুসহ অন্যরা তাঁদের ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে আসেন। তাঁরা যেতে না চাইলে তাঁরা তাঁদের বেধড়ক পেটান।
জয়নাব সোহা অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় মামলা করতে কয়েক দিন তিনি বংশাল থানায় গেছেন। কিন্তু মামলা নেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) গ্রহণ করেনি থানা। তিনি বলেন, ‘বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস উল্টো হুমকি দিয়ে বলেছেন, “কোনো মামলা নেওয়া যাবে না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হাসপাতাল থেকে লক আপে (হাজত) এনে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। ”’
তবে বংশাল থানার ওসি আবদুল কুদ্দুস আজ বুধবার সন্ধ্যায় দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হবে, স্থানীয়দের এমন অনুরোধে তিনি মামলা নেননি। পরে তিনি আবার প্রথম আলো কার্যালয়ে ফোন করে বলেন, দু-তিন দিন পরে স্থানীয় এক সাবেক সাংসদের বাসায় এ নিয়ে শালিশ ডাকা হয়েছে। ওসি দাবি করেন, প্রথমে খাদিজা ও তাঁর ছেলে মেয়েরা তাঁদের চাচা ও চাচীকে মারধর করেছেন।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজউদ্দিন বলেন, তাঁর ভাই মনিরের সঙ্গে ভাতিজা আকিবের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। এতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।