লক্ষ্য আন্দোলন জোরদার করা

নেতাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে যাচ্ছে বিএনপি

জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেতাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো ও পদ-পদবি ঠিক রেখেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হবে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে যাঁরা দক্ষ সংগঠকের পরিচয় দিয়েছেন এবং যাঁদের নিজস্ব লোকবল আছে, তাঁদের আন্দোলন পরিচালনা ও কর্মকৌশল ঠিক করার মূল নেতৃত্বে রাখা হবে। তাঁরা সরাসরি মাঠপর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত ও সংগঠিত করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করবেন। এক-এগারোর সময়ে ‘কথিত সংস্কারপন্থী’ বলে পরিচিতি পাওয়া এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন বলে প্রচার আছে—এমন নেতাদের আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে রাখা হবে না।জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলতে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকে। তাঁর সঙ্গে থাকছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনও।ঢাকার আন্দোলন জোরদার করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং চট্টগ্রামের জন্য কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এঁদের নেতৃত্বে কাজ করবেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মাঠের নেতারা। দলের নেতারা মনে করেন, সাদেক হোসেন খোকাকে ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক করার পর থেকে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় আছেন। ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের বড় অংশ এবং ঢাকার পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের একটি অংশও মির্জা আব্বাসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এসব দিক বিবেচনায় তাঁকে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। শ্রমিকসংগঠনগুলোকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার দায়িত্বে থাকছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ, মিজানুর রহমান, বরকত উল্লা, সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক, মজিবর রহমান সরোয়ার, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। এ ছাড়া এত দিন দলের কার্যক্রম থেকে কিছুটা দূরে থাকা ‘ক্যাডার রাজনীতি’ করেন এমন নেতা-কর্মীদেরও চাহিদা বেড়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় এবং দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষদিকে বা নভেম্বর থেকে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এটাকে সফল করতে গত কয়েক বছরের আন্দোলন কর্মসূচির সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে মূল্যায়ন করছেন দলটির নেতারা। সেই মূল্যায়নে গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির বিষয়টিও আসে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তাদের পাশে থাকার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই আহ্বানে ঢাকাবাসী তো দূরের কথা বিএনপির নেতা-কর্মীরাও সাড়া দেননি।

এ ছাড়া নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে বিএনপি। কিন্তু সেই আন্দোলনও জোরদার করা যায়নি। হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিয়েও বিএনপিকে বারবার বিপাকে পড়তে হয়েছে। খোদ রাজধানী ঢাকায়ই কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নামাতে পারেনি দলটি। এ ক্ষেত্রে যাঁদের মুখ্য ভূমিকা রাখার কথা, তাঁদের ব্যাপারে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে দলের উচ্চপর্যায়ে। এসব মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, দলের কাউন্সিল ছাড়া নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা যায় না। তবে দায়িত্ব একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাঠে দলের মাঠের নেতারাই থাকবেন। আর যাঁরা সব সময় সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা-বিবৃতি দেন তাঁরা সেই কার্যক্রমে থাকবেন। ওই নেতাদের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব থাকবে না।

বিএনপির আরেক নেতা বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন মানে কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো নেতার পদে পরিবর্তন আসবে নয়। যে নেতা যে পদে আছেন, তিনি সেই পদেই থাকবেন। শুধু দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হবে।