নেতাদের রক্ষায় রাজপথে সমাধান দেখছে জামায়াত

আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও অভিযুক্ত বাকি নেতাদের আইনি প্রক্রিয়ায় রক্ষা করার ব্যাপারে আর কোনো আশা দেখছে না জামায়াত। দলটির নেতারা মনে করছেন, এখন যা করার রাজপথেই করতে হবে। তবে রাজপথে সর্বশক্তি নিয়ে নামার ক্ষেত্রে আরও কিছুদিন সময় নেবে দলটি।

জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী ২৫ অক্টোবরের পর সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামার কথা বলছে। বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে জামায়াত সর্বশক্তি নিয়ে নামার পরিকল্পনা করছে।

এর আগে জামায়াতের নেতারা বলে আসছিলেন, নেতাদের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। কাদের মোল্লার মামলার চূড়ান্ত রায়ের পর আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছে দলটি। তবে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকেরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তাই পুনর্বিবেচনার আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় কর্মসূচির ব্যাপারে সময় নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এ ছাড়া দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, দলটির নীতিনির্ধারকেরা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণাকে সরকারের একটি রাজনৈতিক কৌশল বলেও মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যমান সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে রায় ঘোষণার জন্য এ সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছে। যাতে রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগের মতো সহিংস প্রতিক্রিয়ার মুখে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার আলোচনা চাপা পড়ে যায়। এ কারণে এখনই সর্বশক্তি নিয়োগ না করে আরও কিছুদিন সময় নিতে চায় জামায়াত।

এদিকে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কাল শুক্রবার ভোর ছয়টায় শেষ হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আবার হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাংসদ হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, হরতাল কর্মসূচি শেষে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, এখন তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা।