নৌমন্ত্রীর হাতে জিম্মি সড়ক পরিবহন খাত

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের কাছে জিম্মি দেশের পরিবহন খাত। এ খাতে তাঁর কর্মকাণ্ড সড়ক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। শাজাহান খান একদিকে শ্রমিকনেতা, অন্যদিকে পারিবারিকভাবে পরিবহন কোম্পানির মালিক। তিনি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা হয়ে পরিবহনে চাঁদা নির্ধারণ করেন। আবার তিনিই সরকারের সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, যাঁর মূল কাজ এ খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা। তিনি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলেরও সদস্য, যাঁর প্রধান কাজ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই তিনিই সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সব দাবি আদায়ে সদা সক্রিয়। তিনি সরকারের একজন মন্ত্রী। আবার তিনিই দলবলে উপস্থিত হয়ে ‘জনবিরোধী’ দাবি আদায়ে সরকারের অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে দর-কষাকষি করেন।সর্বশেষ উদাহরণ গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। মন্ত্রী শাজাহান খান ওই বৈঠকে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষে মূল ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইতিপূর্বে নাগরিক সমাজের কাছে জনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত, আর আইনের দৃষ্টিতে সঠিক নয় এমন সব দাবির পক্ষে অবস্থান নেন এবং বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অঙ্গীকার আদায় করেন। এ দাবিগুলো হলো যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া পেশাদার চালকের লাইসেন্স নবায়ন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে চালকদের বিরুদ্ধে করা মামলায় হত্যার অভিযোগ না আনা এবং দুর্ঘটনার পর জব্দ করা গাড়ি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া।লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে আদালতের একটি নির্দেশনাও অমান্য করতে কার্যত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যবহার করেছেন তিনি। বিনা পরীক্ষায় লাইসেন্স নবায়ন মোটরযান আইনেরও পরিপন্থী।এসব দাবির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন হয়েছে। কারণ, বিষয়গুলো সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এবং সে কারণে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট।পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবারই এ ধরনের কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে জনগণকে জিম্মি করা হয়, ডাকা হয় পরিবহন ধর্মঘট। এবারও স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশব্যাপী ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে রাখা হয়েছিল।

শ্রমিক সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরে বেশ কয়েকবার অঞ্চলভিত্তিক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কখনো ১১ দফা, কখনো সাত দফা, আবার কখনো ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। পরে শাজাহান খানের উপস্থিতিতে যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

তবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দফা অনেক থাকলেও মূলত যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া চালকের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, দুর্ঘটনা ঘটানো চালকদের রক্ষা, পরিবহন খাতের চাঁদা কত হবে তা নির্ধারণ আর সরকারি সংস্থা বিআরটিসির সেবা সংকুচিত করা নিয়ে চাপ থাকে শাজাহান খানের পক্ষ থেকে। এ ‘ধর্মঘট হুমকি’ দিয়ে ‘দর-কষাকষি’ ও ‘দাবি আদায়ের’ কৌশলের কারণে ভোগান্তির শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। অথচ তিনি জনস্বার্থ রক্ষার শপথ নিয়ে মন্ত্রী হয়েছেন।

মালিক না শ্রমিক: শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। আবার তিনি পারিবারিকভাবে পরিবহন মালিক। তাঁর পরিবারের কোম্পানির অধীনে ঢাকা-মাদারীপুর ‘সার্বিক পরিবহন’ ও রাজধানীর মিরপুর-আবদুল্লাহপুর পথের ‘কনক’ পরিবহনের বাস চলাচল করে।

পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স আর দুর্ঘটনার পর জব্দ করা গাড়ি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার দাবির যুগপৎ অবস্থান তাঁর এই মালিক ও শ্রমিক সত্তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন এ খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।

বর্তমান সরকারের আমলে যতবার গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের সভা হয়েছে, প্রতিবারই তিনি মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যতম কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ সূত্র জানায়, বিআরটিএ ভাড়া প্রস্তাব করলেও প্রতিবারই মন্ত্রণালয়ে গেলে শাজাহান খানের মতামতই প্রাধান্য পায়। সে মতামত কখনোই জনস্বার্থের পক্ষে নয়, মালিকদের পক্ষে।

নিজে মালিক, শ্রমিকনেতা আবার পরিবহন-সংক্রান্ত সরকারের একাধিক কমিটিতে থাকা সাংঘর্ষিক কি না—জানতে চাইলে শাজাহান খান গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন হবে? একেকটার কাজ একেক রকম। আর বাসের মালিক আমি নই। আমার তিন ভাই।’

সরকার মিশুকের পরিবর্তে ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা বরাদ্দের উদ্যোগ নিলে সেখানে শাজাহান খানের সংগঠন শ্রমিক ফেডারেশন ভুয়া মালিকদের পক্ষ নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের মধ্যে বরাদ্দের নীতিমালা করলেও বিআরটিএর নথিতে নেই এমন মালিকদের মধ্যে ৩০৯টি অটোরিকশা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিআরটিএ। এখানেও এই শ্রমিকনেতা মালিকস্বার্থে কাজ করেছেন।

পরিবহনে চাঁদার হার ঠিক করা: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের জন্য চাঁদার হার ঠিক করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি তোলেন শাজাহান খান। এ নিয়ে যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শাজাহান খানের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক হয়। এ লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে চাঁদার হার ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় মালিক-শ্রমিকের জন্য ৭০ টাকা এবং শুধু ঢাকার বাইরে শ্রমিকদের জন্য ২০ টাকা প্রস্তাব করে তা সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য চাপ দেওয়া হয়। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে শাজাহান খান এটা বাস্তবায়নের জন্য উত্থাপন করেন। অবশেষে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি না হওয়ায় এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হলে বিষয়টি আর এগোয়নি। কিন্তু এখনো এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ টাকা নেওয়া হয় তাঁর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক ফেডারেশনের নামে।

একাধিক শ্রমিকনেতা নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ফেডারেশনের নামে যে চাঁদা তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ, সংগঠন পরিচালনায় খরচের জন্য শ্রম আইনে যে চাঁদার কথা বলা হয়েছে, তা দৈনিক নয়, মাসিক কিংবা বার্ষিক। এ ছাড়া ফেডারেশন সারা দেশের শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়কারী বা কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাই ফেডারেশন সরাসরি প্রতিটি বাস থেকে চাঁদা তুলতে পারে না। কেবল শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে মাসে বা বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা নিতে পারে ফেডারেশন। এখন ফেডারেশন ও শ্রমিক ইউনিয়ন আলাদাভাবে প্রতিদিন ও প্রতি গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছে।

বিআরটিএর সূত্র জানায়, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় চার লাখ বাণিজ্যিক যানবাহনের নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে বাস-মিনিবাস ও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করলে এ তিন পরিবহন থেকেই দৈনিক ১৫ লাখ টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয়। মাসে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এর বাইরে অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, ট্যাংক লরি থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।

এ বিষয়ে শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ খাতের লোকজন নিজেদের টাকা নিজেদের সংগঠনকে দিচ্ছে। এতে অন্যের সমস্যা কী? আর কেউ তো জোর করে নিচ্ছে না বা অভিযোগও করছে না।’ চাঁদা বৈধ করে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য চাপ প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা করলে চাঁদা কমে যেত। এখন প্রচুর চাঁদা আদায় করছে বিভিন্ন লোক।’

শাজাহান খান দাবি করেন, তিনি মন্ত্রী বা অন্য পদের চেয়েও শ্রমিকনেতা হিসেবে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

আইন ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান: নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ২০১১ সালেতারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে এ আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ওই সময় লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে ঈদের দিনও ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই’ দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক ও পেশাজীবীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন। সাংসদ তারানা হালিমের নেতৃত্বে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেন।

এসব কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালকের মুক্তি, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার দাবিতে ওই বছরের ২৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই মালিক-শ্রমিক সমাবেশ করেন শাজাহান খান। ওই সমাবেশে ইলিয়াস কাঞ্চনসহ সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার ব্যক্তিদের ছবির অবমাননা করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়।

চালকের শাস্তি: তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে দাবি ওঠে, চালকের অবহেলায় প্রাণহানি হলে ‘নরহত্যার’ অভিযোগে মামলা করতে হবে। এরপর সারা দেশে ছয়টি মামলাও হয় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারায়।

কিন্তু গত বুধবার শাজাহান খানের নেতৃত্বে শ্রমিকনেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের কাছ থেকে ৩০২ ধারায় মামলা না নেওয়ার আশ্বাস আদায় করেন। এ ধারা অজামিনযোগ্য এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩০৪(খ) ধারায় এসব মামলা হবে। তবে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, তাহলে তখন ৩০২ ধারায় চলে যাবে।’

৩০৪(খ) ধারাও অজামিনযোগ্য এবং সাজা ১৪ বছর কারাদণ্ড।

তবে চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত ২৭৯ ধারায় সব মামলা হয় বলে ঘাতক জামিন পেয়ে যায়। আর ওই মামলার কিছু হয় না। আবার ৩০৪ বা ৩০৪(খ) ধারায় তো মামলা নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, লাইসেন্স ছাড়া বা ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানি হলে চালকের বিরুদ্ধে নরহত্যার (৩০২ ধারা) মামলা হওয়া উচিত।

লাইসেন্স নবায়ন: বুধবারের বৈঠকে চালকের লাইসেন্স নবায়নের জন্য যথাযথ পরীক্ষার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মোটরযান আইনের পরিপন্থী। আইনে বলা আছে, পেশাদার চালকের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করতে হলে অবশ্যই পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে লাইসেন্স বাতিল হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র জানায়, ১৯৯২ সাল থেকে নৌমন্ত্রীর সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের দেওয়া তালিকা ধরে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার পেশাদার চালকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালেও শাজাহান খানের স্বাক্ষরসংবলিত তালিকা ধরে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া পেশাদার চালকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

তবে ২০১১ সালে হাইকোর্ট পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর পর থেকেই সড়ক পরিবহন ফেডারেশন একের পর এক দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মঘট দিয়ে, সমাবেশ করে এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স নবায়নের জন্য চাপ দিতে থাকে।

বিনা পরীক্ষায় লাইসেন্স নবায়ন আইনের পরিপন্থী, সরকারের একজন মন্ত্রী হয়ে কীভাবে বেআইনি কাজ করতে অন্য মন্ত্রীদের চাপ দিলেন—এ প্রশ্ন করা হলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আইনটা (মোটরযান আইন) পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটা বদলে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘একবার লাইসেন্স পাওয়ার পর আর পরীক্ষা কেন, ফিটনেস টেস্টই যথেষ্ট।’

‘এখন যে লাইসেন্সগুলো নবায়ন করা হচ্ছে, সেগুলোও শ্রমিক ফেডারেশনের তালিকা ধরে পরীক্ষা ছাড়া দেওয়া হয়েছিল। আপনার দাবি অনুযায়ী, এখন নবায়নের সময়ও তাঁদের পরীক্ষা দিতে হবে না। তাহলে সড়ক নিরাপত্তা কি হুমকিতে পড়বে না’—এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জেনে-বুঝেই যারা গাড়ি চালাতে পারে, তাদের তালিকা দিয়েছি। আমরা তো সবাইকে চিনি।’

শ্রমিক ফেডারেশনের এই দাবিগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, দাবিগুলো জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার জন্য যে চালক দায়ী, শুধু তাঁর শাস্তি চাই। কিন্তু শাজাহান খান নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবহনের সব শ্রমিককে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইছেন।’