ন্যায়বিচার চেয়ে ভারত সরকারের কাছে ফেলানীর বাবার আবেদন

ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকার ও সে দেশের জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। গতকাল বুধবার সকালে ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় হাইকমিশন, পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম) এবং ঢাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্র বরাবর এ আবেদন জানান। আবেদনে নুরুল ইসলাম সীমান্তে গুলি করে ফেলানীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে ভারত সরকার ও ভারতীয় জনগণকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ই-মেইলের মাধ্যমে ভারতীয় কমিশনের কাছে আবেদন জানানোর কাজে ফেলানীর বাবাকে সহযোগিতা করেছেন কুড়িগ্রাম সফরে আসা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দুজন কর্মকর্তা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, ফেলানীর বাবা তাঁর আবেদনটি বুধবার ই-মেইলের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠান এবং এর সিসি কপি তাঁরা পেয়েছেন। ফেলানীর বাবা আবেদনের মুদ্রিত কপিতে স্বাক্ষর করেছেন বলেও তিনি জানান।
ফেলানীর বাবা জানান, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কাছে তাঁর দাবি মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচারের পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। এ জন্যই ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ই-মেইলে আবেদন করেছেন তিনি।
নুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, যত দিন বেঁচে থাকবেন, ফেলানী হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি লড়াই করে যাবেন। মৃত্যুর আগে ফেলানী হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যা মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়া কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে গতকাল দেখা করে আপিলের বিষয়ে খোঁজ নেন ফেলানীর বাবা। এ বিষয়ে লিংকন বলেন, ‘ভারতীয় হাইকমিশন বিচারের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষার কথা বলেছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার অপেক্ষা করছি। এরপর আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ভারত থেকে বাবার সঙ্গে কুড়িগ্রামে আসার পথে অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। তার মৃতদেহ দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষের বিচার শুরু হলেও গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএফের বিশেষ আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেন।