ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন মেয়র

na

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক আজ শুক্রবার সকালে ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর বেশ ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল ব্যাংক নাই কেন? উনাদের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বালু নাই কেন? ’ সুন্দরবন হোটেলের পাশে ধসে যাওয়া স্থান ও পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজধানীর সোনারগাঁও ক্রসিং-সংলগ্ন ৬৪ কাঠা জমিতে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ারের জন্য খোঁড়া বিশাল গর্তে পাশের অভিজাত সুন্দরবন হোটেলের সীমানাপ্রাচীর, ভূগর্ভস্থ তলার নিচের অংশবিশেষ ও পাশের একটি সড়কের একাংশ গত বুধবার ধসে পড়ে।

ঘটনার পর থেকে ক্ষতির আশঙ্কা কমাতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মেয়র আনিসুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর। তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজার কনস্ট্রাকশনকে ধরেছি আমরা? মালিককে ধরেছি। আমি মেয়র হয়ে যদি রাত দুইটা পর্যন্ত থাকতে পারি, ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা নেই কেন? ’
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মেয়র বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের ক্ষতি হবে না। যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে পেছনের অংশটা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ত্রুটি কার, আমরা সেটা পরে বের করব। আগে সেফটির (নিরাপত্তা) ব্যাপারটা দেখি।’ তিনি আবার ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট প্রথম দিন প্রথম দুই ঘণ্টা ছাড়া গত দুই দিন ছিলই না। এটা তাঁদের দায়িত্ব। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট আশা করছি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুন্দরবন হোটেলের পাশের অংশটিতে আপাতত কোনো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই। তবে যেখানে পাইলিং করা হচ্ছে, তার পেছনের অংশটি (বসুন্ধরা শপিং মলের উল্টো পাশের অংশটি) আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে। বৃষ্টি হলে অংশটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেদিকে বালুর ট্রাক যেতে পারছে না বলে বালুও ফেলা যাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ভবনটি নির্মাণ করছে কোরীয় প্রতিষ্ঠান ডোঙ্গা। তাদেরও কোনো লোক নেই বলে মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির সহ-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এম এস কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. সালাহউদ্দিন ঘটনাস্থলে এলে মেয়র তাঁকে গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পাঠান।
মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বালু ফেলা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের সহায়তায় বেশির ভাগ বালু আমরাই ফেলেছি। সিটি করপোরেশন সহায়তা করছে।’ এ সময় তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে গণমাধ্যমের কর্মীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করছিলেন। এর মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের পক্ষ থেকে মেয়র নিজে এসে তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘ন্যাশনাল ব্যাংক নাই কেন?’
মো. সালাহ উদ্দিন নীরব ছিলেন।