ন্যূনতম মজুরি ৮২০০ প্রথম বছরে ৬৫৬০

গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন বিষয়ে সিপিডির ভাবনা

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসে আট হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত বলে মনে করে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তবে পোশাক কারখানার মালিকদের সক্ষমতার বিবেচনায় প্রথম বছরের জন্য শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কমপক্ষে আট হাজার ২০০ টাকার ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ছয় হাজার ৫৬০ টাকা করার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
সিপিডি তাদের ন্যূনতম মজুরি হারের সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য মজুরি বোর্ডের প্রতি অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, এ প্রস্তাব তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও তুলে ধরবে, যাতে তারা বাংলাদেশি পোশাকের ভালো দাম দেয়। সিপিডি ন্যূনতম মজুরি হারের প্রস্তাবে শ্রমিকদের জীবনধারণের ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়েছে।
সিপিডির এই সুপারিশ মজুরি বোর্ডে দেওয়া শ্রমিকদের দাবির চেয়ে সামান্য বেশি। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মাসে আট হাজার ১১৪ টাকা ন্যূনতম মজুরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ মাত্র ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ন্যূনতম মজুরি হবে তিন হাজার ৬০০ টাকা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর শ্রমিকরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সিপিডির পক্ষ থেকে মজুরি হারের সুপারিশ করে বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন। ‘পোশাকশিল্পে নতুন ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ : বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ওই সভার আয়োজকও ছিল সিপিডি। সিপিডি তাদের ন্যূনতম মজুরি হারের সুপারিশ বিবেচনায় কারখানার মালিকদের উৎপাদন খরচ, তাঁদের সক্ষমতা, পোশাকের দাম ও উৎপাদনশীলতাকে বিবেচনায় নেয়নি। তারা বলেছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা হওয়া উচিত।
ওই সভায় শ্রমিকপক্ষ সিপিডির প্রস্তাবকে সমর্থন করে মজুরি বাড়ানোর দাবি করেছে। তবে তাঁরা বলেছেন, মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আট হাজার ১১৪ টাকা ন্যূনতম মজুরির যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও শ্রমিকপক্ষ শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে রাজি আছে। তবে মালিক পক্ষকেও তাদের অবস্থান থেকে ছাড় দিতে হবে।
সভায় মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু বলেন, সিপিডি মালিকদের সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে। তারা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার ২০০ টাকা আগে ঠিক করে সে অনুযায়ী খরচের হিসাব কষেছে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিলে গড় খরচ আরো কম হতো।
উল্লেখ্য, সিপিডি ঢাকা, আশুলিয়া ও টঙ্গীর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব আমলে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
মজুরি নির্ধারণের তিন মডেল : সিপিডির বিশ্লেষণে মজুরি হার নির্ধারণের তিনটি মডেলের কথা তুলে ধরা হয়, যদিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে একটি মডেল। তিনটি মডেলের প্রথমটি হলো- দারিদ্র্যসীমার ওপরে অবস্থানকারী একজন শ্রমিকের মাসিক খরচের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা। দ্বিতীয়টি হলো কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি অর্জনের জন্য যে সুষম খাবার ও জীবন ধারণের প্রয়োজন তা বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা। তৃতীয়ত, শ্রমিকদের বর্তমান জীবন ধারণের খরচের হিসাব বিবেচনা করে তার ওপর ভিত্তি করে মজুরি ঠিক করা।
সিডিপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দারিদ্র্যসীমার ওপরের স্তরে অবস্থানকারী ৪ দশমিক ৮১ জন সদস্যের একটি পরিবারে ‘জাতীয় খানা আয়-ব্যয় জরিপ’ অনুযায়ী খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা কেনার ব্যয় মাসে ৯ হাজার ২৮০ টাকা। ওই পরিবারের উপার্জনকারী হিসেবে ১ দশমিক ৪৪ জন ধরে হিসাব করলে প্রতিজনের আয় দরকার ছয় হাজার ৪৪৫ টাকা।
‘অ্যাসপারেশনাল ডায়েট মডেল’ অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিহার অনুযায়ী খাবার গ্রহণ ও জীবন ধারণের জন্য একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি প্রয়োজন মাসে ১৭ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে সিপিডি বিবেচনায় নিয়েছে প্রকৃত খরচ অনুযায়ী মজুরি হার নির্ধারণের মডেলটি।
শ্রমিকদের সঙ্গে গবেষণা পদ্ধতি ‘ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন’ ব্যবহার করে শ্রমিকদের কাছ থেকে সিপিডি খরচের তথ্য পেয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখিয়েছে, বিবাহিত একজন শ্রমিকের ৩ দশমিক ২ জন সদস্যের পরিবারে মাসে খরচ ১০ হাজার ৩৫২ টাকা। পরিবারের উপার্জনকারী এক দশমিক ৬১ জন হলে প্রতিজনের মাসে ছয় হাজার ৪৩০ টাকা আয় দরকার। অন্যদিকে পরিবারের কার্যকর উপার্জনকারী (নিয়মিত কাজ করেন) এক দশমিক ২৪ জন ধরে একজনের আয় দরকার আট হাজার ২১৬ টাকা।
একজন অবিবাহিত শ্রমিকের পরিবারের মাসিক খরচ ৯ হাজার ১৮২ টাকা। অবিবাহিত শ্রমিকদের পরিবারে গড়ে ৩ দশমিক ১৩ জন সদস্য থাকে। আর তাদের কার্যকর উপার্জনকারী থাকে ১ দশমিক ২৮ জন। সে হিসাবে ওই পরিবারের একজন শ্রমিকের আয় দরকার মাসে সাত হাজার ১৭৪ টাকা।
তবে সিপিডি এও বলেছে, শুধু খরচ করার মতো আয় হলেই হবে না। শ্রমিকদের কিছু সঞ্চয়ও থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি কখনোই জাতীয় মজুরি হারের গড়ের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত নয়, আবার সেটি দারিদ্র্যসীমার চেয়ে বেশি হতে হবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে সিপিডি মনে করে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত। পাশাপাশি সর্বনিম্ন গ্রেডের সঙ্গে অন্যান্য গ্রেডের মজুরি হারের পার্থক্য যথেষ্ট পরিমাণে থাকা উচিত, যাতে শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগের প্রবণতা ঠেকানো যায়।
প্রস্তাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তোলা হবে : মজুরি হারের এ প্রস্তাবকে সিপিডি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরবে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যেসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের কাছে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পণ্যের দাম বেশি দেওয়ার দাবি তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাকের দামের ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়ে সহমর্মিতার কথা বলছে; এত দেখভালের কথা বলছে, কাজেই তাদেরও মজুরি বাড়াতে অনেক কিছু করার আছে।
ড. মোস্তাফিজ আরো বলেন, ‘প্রাইমার্কের লন্ডনের স্টোরের সামনে ‘বাংলাদেশের পোশাক কিনব না’ বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদেরও বলব কিছু করতে।’
আয় মজুরি হারের বেশি, তবে পরিশ্রম কঠোর : সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে শ্রমিকরা যে আয় করে তা খারাপ নয়। কারণ তারা আরো কিছু ভাতা পায়, যাতে করে মোটা দাগে তাদের সার্বিক আয় বৃদ্ধি পায়। ক্ষেত্রবিশেষে তারা হাজিরা বোনাস, পরিবহন ভাতা, উৎপাদন ভাতা ও ওভারটাইমের মজুরি পায়। কিন্তু এসব ভাতা পাওয়ার জন্য তাদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে ও প্রতিদিনই কাজে আসতে বাধ্য করা হয়। এটা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
মোয়াজ্জেম আরো বলেন, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি তার আট ঘণ্টার কাজের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে। আর বাড়তি যেসব আয় হয় সেগুলো এলাকা ও কারখানাভেদে ভিন্ন হয়।
‘কারখানা বন্ধের ধুয়া তোলা পুরনো অভ্যাস’ : অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যখন শ্রমিকদের মজুরি ছিল ৬২৭ টাকা, তখনো মালিকরা বলেছিলেন, এত মজুরি দিলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন কয়েক গুণ মজুরি বেড়ে তিন হাজার টাকা হয়েছে। এখনো বলছেন, এত মজুরি দিলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এই একটা জায়গায় এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
পোশাক মালিকদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, প্রতিবছর করের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতিবাদ করতে পারেন না? প্রতিবাদ করতে পারেন শুধু শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর সময়। এটা বন্ধ করেন।’ নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০১০ সালের ওয়েজ বোর্ডে শ্রমিকের বাড়িভাড়া রাখা হয়েছে ৮০০ টাকা। ৮০০ টাকায় বাড়ি কেন, বারান্দাও ভাড়া পাওয়া যাবে না।’
শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম বলেন, মজুরি বাড়ানোই বড় কথা নয়। এই মজুরির সুরক্ষা দিতে হবে। এক মাস পর যদি বাড়িভাড়া বেড়ে যায়, তখন শ্রমিকরা কী করবেন? মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে এ খাত চালাতে পারবেন না।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে মজুরির বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
বিজিএমইএর পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু বলেন, মজুরি এমন হারে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে মালিক ও শ্রমিকরা উভয়েই জয়ী হয়। নইলে যে মজুরি নির্ধারণ করা হবে, তা টেকসই হবে না। তিনি মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মালিকদের সক্ষমতার বিষয়টি বিচেনায় নেওয়ার দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও বেসরকারি কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সিপিডির প্রস্তাব তাত্ত্বিক : শ্রমসচিব
পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সিপিডির প্রস্তাবিত কাঠামোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে মনে করছে সরকার। তাই সিপিডির প্রস্তাবের আলোকে নয়- সরকার, পোশাক মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে বলে আশা করছে শ্রম মন্ত্রণালয়। ন্যূনতম মজুরি বোর্ড সবার জন্য গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণে ব্যর্থ হলে তখন সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছেন এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সিপিডির প্রস্তাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, সিপিডি যে বক্তব্য দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, শ্রমিকরা যেখানে আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করছে, সেখানে সিপিডি আট হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। তাই এ খাতের সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে মালিক, সরকার ও শ্রমিকরা মিলে যে ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঠিক করবে, তা সবাইকে মেনে নিতে হবে। আগামী নভেম্বর মাসেই এ কাঠামো ঘোষণা করা হবে।
শ্রমসচিব বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড মজুরি কাঠামো নির্ধারণে ব্যর্থ হলে তখন সরকার থেকে বেতন কাঠামো নির্ধারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন যেহেতু মালিকদের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ডে প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাই বেতন কাঠামো পরিবর্তন করার মতো এখনো অনেক সুযোগ আছে।
শ্রমিক নেতাদের আংশিক সমর্থন
গার্মেন্ট শ্রমিক নেতারা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিপিডির দেওয়া আট হাজার ২০০ টাকার ন্যূনতম মজুরিকে আমরা স্বাগত এবং অভিনন্দন জানাই। তবে প্রথম বছর ছয় হাজার ৫৬০ টাকার প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, এই চুক্তি যে আগামী এক বছর পর বাস্তবায়ন হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ গার্মেন্ট মালিকরা নানা অস্থিরতার পেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি চাপে ন্যূনতম মজুরি সামান্য করে বাড়িয়ে থাকেন। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গেও ইতিমধ্যে অনেক চুক্তি করা হলেও ওই সব আর বাস্তবতার মুখ দেখেনি।’
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশেনের সভাপতি নাজমা আকতার বলেন, ‘চলতি বছরের ১ মে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমাবেশ থেকে দেওয়া আট হাজার টাকার ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব যৌক্তিক। সিপিডি সহ দেশের অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমাদের এই প্রস্তাবকে যৌক্তিক বলে সমর্থন জানিয়েছে। তাই সিপিডির দেওয়া প্রস্তাবকে অভিনন্দন এবং স্বাগত জানাই। আমাদের বিশ্বাস গার্মেন্ট মালিক ও সরকার যেন এটা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রস্তাবিত আট হাজার টাকার ন্যূনতম মজুরি মেনে নেন।’
জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল আহসান জুয়েল বলেন, ‘শ্রমিকদের সমস্যার মূলে হাত দিতে হবে। কারণ শ্রমিকরা যতই মজুরি পাক, তার অধিকাংশই নিয়ে নেন বাড়ির মালিকরা। মজুরি বোর্ড গঠনের পর পরই কোনো কোনো এলাকায় বাড়ির মালিকরা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, যুগোপযোগী মজুরি নির্ধারণসহ কঠোরভাবে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য সরকার স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও বাড়ির মালিক সমিতির সমন্বয়ে উদ্যোগ নিতে পারে।’
গার্মেন্ট শ্রমিক শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের সমন্বয়কারী গোলাম রাব্বানী সিপিডির দেওয়া প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মজুরি বোর্ডও যদি সন্তোষজনক মজুরি নির্ধারণে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইব। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমরা মেনে নেব।’